নিজস্ব প্রতিবেদক : চকরিয়া পৌরশহরের সরকারি হাসপাতাল রোডে মজিদিয়া মাদরাসা মাকের্টের ব্যবসায়িদের কাছ থেকে চাঁদাদাবীর অভিযোগ উঠেছে প্রভাবশালী মহলের বিরুদ্ধে। তাদেরকে চাঁদা না দিলে দীর্ঘ চল্লিশ বছর ধরে থাকা মার্কেটের ব্যবসায়িদেরকে দোকান থেকে উচ্ছেদের হুমকি দিচ্ছেন। তাদের হুমকিতে আতঙ্কগ্রস্থ হয়ে পড়েছেন মার্কেটের ওষুধ দোকানদারসহ স্থানীয় শতাধিক ব্যবসায়ি।
এঘটনায় গত ১৮ মে বৃহস্পতিবার নাছির উদ্দিনকে এক নম্বর আসামি করে চকরিয়া উপজেলা সিনিয়র জুড়িসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে চাঁদাবাজির অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে নিশ্চিত করেছেন মজিদিয়া দারুচছুন্নাহ পৌর দাখিল মাদরাসার সভাপতি ও চকরিয়া পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মুজিবুল হক মুজিব।
অভিযুক্ত নাছির উদ্দিন সোসাইটি বাইতুর মাওয়া জামে মসজিদের সভাপতি ও ৮নং ওয়ার্ডের মাষ্টারপাড়া মৃত বদরুদ্দোজা হেলালীর ছেলে।
গতকাল শনিবার দুপুরে পৌরশহরের বাইতুশরফ রোডে নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে চকরিয়া পৌরসভার কাউন্সিলর মুজিবুল হক বলেন, ১৯৮২ সালে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও কয়েকজন শিক্ষানুরাগী মিলে চকরিয়া সরকারি হাসপাতাল রোডে মজিদিয়া দারুচছুন্নাহ পৌর দাখিল মাদরাসাটি প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতিষ্ঠার পর থেকে মাদরাসাটি সুনামের সহিত পরিচালিত হয়ে আসছে। ১৯৮৫ সালে মাদরাসার সহকারি শিক্ষক মাওলানা আবদুর রহমানের আবেদনের প্রেক্ষিতে তৎকালিন জেলা প্রশাসক হাসপাতাল রোডের ৭শতক জমি বরাদ্দ দেন। ওই জায়গার উপর পর্যায়েক্রমে গড়ে তুলেন মাদরাসাটির চারতলা ভবন। ভবনের উপরের দুই তলায় মাদরাসা, নিচের দুই তলায় দোকানসহ বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠাকে ভাড়া দেওয়া হয়। এরপর থেকে মার্কেটের ব্যবসায়িরা চিরিঙ্গা ইসলামী ব্যাংক শাখায় ১৬০৬২ নং হিসাবে নিয়মিতভাবে ভাড়া পরিশোধ করে আসছেন। মার্কেটের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ভাড়ার টাকা দিয়ে মাদরাসাটির শিক্ষকদের বেতন ও অন্যান্য খরচ মেটানো হয়।
কাউন্সিলর মুজিব আরও বলেন, মাদরাসটির ছাত্র সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় জায়গার সংকট হয়। পরবর্তী ২০০৪ সালে পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ডের কোচপাড়া এলাকায় জায়গা ক্রয় করে মাদরাসা স্তানান্তর করা হয়। ইতোমধ্যে সরকারিভাবে ভবন বরাদ্দ পেয়ে সুষ্ঠুভাবে মাদরাসাটি পাঠদান দিয়ে আসছেন।
গত ১৫ মে চকরিয়া পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ডের মাষ্টারপাড়ার মরহুম মৌলনা বদরুদ্দোজা হেলালীর পুত্র নাছির উদ্দিন মজিদিয়া মাকের্টের ব্যবসায়িদের কাছে চাঁদাদাবী করেন। নাছির উদ্দিনের কাছে ব্যবসায়িরা কিসের চাঁদা জিজ্ঞাসা করলে উল্টো প্রাণনাশের হুমকিও দিয়ে যাচ্ছেন। তাকে চাঁদা না দিলে দোকান তালাবদ্ধ ও সামনে বালুর ফেলার হুমকি দিয়েছেন।
এমতাবস্থায় মাদরাসা পরিচালনা কমিটি বৈঠক করে নাছির উদ্দিনের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এরই আলোকে গত ১৮ মে মাদরাসার সুপার মাওলানা নুরুল আবছার ছিদ্দিকী বাদি হয়ে চকরিয়া উপজেলা জুড়িসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে চাঁদাবাজির অভিযোগে মামলাটি রুজু করা হয়েছে। বর্তমানে মামলাটি কক্সবাজার পুলিশ ব্যুরো ইনভেষ্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্তের দায়িত্ব দিয়েছেন আদালত।
এদিকে চাঁদাবাজদের অব্যাহত হুমকিতে আতঙ্কগ্রস্থ হয়ে পড়েছেন মাদরাসা মাকের্টের শতাধিক ব্যবসায়ি। তারা চক্রটি নানাভাবে হুমকি ধমকি দিচ্ছেন। দোকানে তালা ও সামনে বালু ফেলা হবে বলে জানিয়ে দিচ্ছেন ব্যবসায়িদের। দ্রæত সময়ে এসব চাঁদাবাজদের গ্রেফতার ও শাস্তি দাবী করেন ব্যবসায়িরা।
এসময় সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন, মাদরাসা সুপার মাওলানা নুরুল আবছার ছিদ্দিকী, ব্যবসায়ি কামাল উদ্দিন, ডা. নুরুল কবির, নাজেম উদ্দিন, প্রকাশ চন্দ্র দাশ, সুমন কান্তি দাশ ও মাওলানা আবদুর রহমান হেলালী। অভিযুক্ত নাছির উদ্দিন গং এর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন ম্যানেজিং কমিটি,শিক্ষক/কর্মচারী, ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসীরা। অন্যথায় ধারাবাহিক কর্মসূচি ঘোষণা ও বাস্তবায়ন করা হবে বলেও ঘোষণা দেন তারা।##
