একুশে পত্রিকা : কক্সবাজার সদর থানার ওসি শেখ মুনীর উল গীয়াসের অনিয়মের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছেন তিন ব্যবসায়ী।
বিরোধীয় হোটেল দখল করিয়ে দিতে প্রতিপক্ষের কাছ থেকে ১০ লাখ টাকা ঘুষ নিয়ে অন্যের অপরাধে করা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় এ তিন ব্যবসায়ীকে আসামি করেছেন সদর থানার ওসি।
এমন অভিযোগ করে এ মামলা নিরপেক্ষ তদন্তে থানা কর্তৃপক্ষ থেকে সিআইডি, পিবিআই বা ডিবিসহ যেকোন নিরপেক্ষ এজেন্সিকে তদন্তভার দেয়ার অনুরোধ জানান তারা।
আজ রবিবার (২ মে) দুপুরে শহরের আছাদ কমপ্লেক্সস্থ কক্সবাজার রিপোর্টার্স ইউনিটির কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন হয়রানির শিকার ব্যবসায়ী ওবাইদুল হোসেন।
তার সাথে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন অপর ভুক্তভোগী কক্সবাজার জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি এম এ মোনাফ সিকদার ও গুরা মিয়া।
লিখিত বক্তব্যে দাবি করা হয়, কক্সবাজারের আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি হয়েছে। বর্তমান ওসি একটা শ্রেণির কাছে খুবই সাধু। অথচ চারিদিকে দালালের মাধ্যমে কক্সবাজার সদর মডেল থানাকে ঘুষের আখড়ায় পরিণত করেছেন।
তিনি ইতোমধ্যে মোটা অংকের উৎকোচের বিনিময়ে জবর দখল করে দিয়েছেন অনেক অসহায় মানুষের জায়গা-জমি। রুজু করেছেন অনেক মিথ্যা মামলা। তার নিরব অত্যাচারে কক্সবাজারের ভুক্তভোগী মানুষের ত্রাহি অবস্থা। এরই অন্যতম উদাহরণ বিরোধীয় হোটেল দখল করাতে অন্যের অপরাধের জিআর ২৭৭/২০২১ নম্বর মামলায় আমাদের আসামি করা।
গত ২৮ এপ্রিল কক্সবাজার সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ মুনিরুল গিয়াস জি.আর-২৭৭/২০২১ নং মামলাটি থানায় নথিভুক্ত করেন। মামলায় তাদেরকে এজাহার নামীয় ২, ৩ ও ৪নং আসামি করা হয়েছে।
এজাহারে বলা হয়, মামলার ১নং আসামি শফিক খান নামক একটি ফেসবুক আইডি কক্সবাজার পৌরসভার মেয়র মুজিবুর রহমানের নামে বিভিন্ন মানহানিকর ও অনৈতিক পোষ্ট প্রচার করে। উক্ত পোষ্টে ২, ৩ ও ৪ নম্বর আসামি শেয়ার ও কমেন্ট করেছেন। এজাহারের সাথে ১নং আসামির আইডি থেকে প্রচারিত পোষ্টের স্ক্রীন শট সংযুক্ত করা হয়।
লিখিত বক্তব্যে দাবি করা হয়, উক্ত পোষ্টে ২, ৩ ও ৪ নম্বর আসামি কোনো লাইক, কমেন্ট কিংবা শেয়ার করিনি। আইডিটি কে চালান তাও আমরা জ্ঞাত নয়। কিন্তু ওসি মুনির ও এসআই দস্তগীর হোসেন মেয়র মুজিবের যোগসাজসে তাদের (ভুক্তভোগীদের) প্রতিপক্ষের কাছ হতে ১০ লাখ টাকা উৎকোচের বিনিময়ে তাদের বিরোধীয় একটি হোটেল দখল করে দিতে সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হয়রানি করতে একটি জঘন্য মামলায় মিথ্যা আসামি করা হয়েছে।
এর কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তারা আরো লিখেছেন, গত ১৩ এপ্রিল বেলা ১টার দিকে কক্সবাজার হোটেল মোটেল-জোনে আমাদের আত্মীয় রিদুয়ান ছিদ্দিকের মালিকানাধীন ‘হোটেল স্বপ্ন রিসোর্ট’টি পুলিশের সাথে আতাঁত করে জবর দখলের চেষ্টা চালায় একাধিক ইয়াবা মামলার আসামি ও মেয়র মুজিবের ঘনিষ্ঠজন মো. নাসির (পিতা- মৃত রিয়াজ, সাং- দক্ষিণ পরাবাগ, জালালাবাদ ইউপি, থানা- ঈদগাঁও জেলা কক্সবাজার) গং। আত্মীয় হিসেবে রিদুয়ানের প্রতি জুলুমের বিরুদ্ধে আমরা প্রতিবাদ করি।
স্থানীয় থানায় বিষয়টি জানানো হলেও পুলিশ না আসায় হোটেল মালিক রিদুয়ান জাতীয় সেবা ৯৯৯ এ ফোন করে। পরে বাধ্য হয়ে থানা পুলিশ ১০ মিনিটের পথে এক ঘন্টা ব্যয় করে ঘটনাস্থলে আসে এবং নাসিরসহ ৩ জনকে পুলিশ ভ্যানে তুলে নেয়। কিন্তু মেয়র মুজিবের যোগসাজসে ওসি শেখ মুনির ধৃত ৩ জনকে ছেড়ে দেয় এবং বেআইনি ভাবে বিরোধীয় রিসোর্টে তালা মেরে চাবি ওসির কাছে জমা দেয়।
এ ঘটনায় রিদুয়ান ১৮ জনকে আসামি করে এজাহার জমা দিলেও তা মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করেননি ওসি। কিন্তু মেয়র মুজিবের পরামর্শে নাসির গং থেকে ১০ লাখ টাকা নিয়ে রিদুয়ানের পক্ষে কথা বলা তিনজনকে ভিন্ন মামলায় আসামি করা হয়েছে। তবে, মামলায় এজাহারে আমাদের বিরুদ্ধে কোনো ধরণের অভিযোগ নেই।
তারা বলেন, গণমাধ্যমের মাধ্যমে বিষয়টি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আইজিপি, ডিআইজি ও পুলিশ সুপারের কাছে উপস্থাপন করে কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসি শেখ মুনিরুল গিয়াসের বিতর্কিত অপকর্মের বিষয়ে বিভাগীয় তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণ ও মামলাটি থেকে আমাদের নাম প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছি।
মামলার বাদি কক্সবাজার পৌরসভার প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. খোরশেদ আলম বলেন, আমি বাদি হলেও মামলায় কে আসামি হবে সেটা আমার উর্ধতনরাই (মেয়রসহ অন্যরা) ঠিক করেছেন। এ বিষয়ে আমি আর কিছুই বলতে পারবো না।
অভিযোগ অস্বীকার করে সদর থানার ওসি শেখ মুনীর উল গীয়াস একুশে পত্রিকাকে বলেন, মামলাটি পৌরসভার একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বাদি হয়ে করেছেন। এতে আমার কোনো হাত নেই। মেয়রসহ সংশ্লিষ্টরা সঠিক বলতে পারবেন কেন কাকে আসামি করা হলো। এরপরও তদন্তে কারো সম্পৃক্ততা না পেলে অভিযোগপত্র থেকে বাদ যাবে।
সামগ্রিক বিষয়ে জানতে কক্সবাজার পৌরসভার মেয়র মুজিবুর রহমানের মুঠোফোনে কল করা হয়। তিনি ফোন রিসিভ না করায় এসএমএসে দেয়া হয়। তাও রিপ্লে না আসায় বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
