কিউই প্রতিশোধ নাকি ইংলিশ রূপকথা যাই হোক ফাইনালের টিকেট পাচ্ছে কে?

লেখক: নুরুল করিম রাসেল
প্রকাশ: ৪ years ago

টেকনাফ টুডে ডেস্ক :ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে মরগ্যান জানালেন, আমরা আগে কি করেছিলাম সেসব নিয়ে এখন তো ভেবে লাভ নেই। অতীত থেকে শিক্ষা নেয়ার আগে আমরা এই আসরের দিকেই তাকাতে পারি। আমরা সত্যি ভালভাবে সেমিফাইনালে এসেছি এতে কোন সন্দেহ নেই। প্রতি ম্যাচে আমাদের পরিকল্পনা সঠিক ছিল। কিন্তু দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে হারে আমাদের ভুল চোখে পড়ে। এটা নিয়ে আমাদের ভাবার আছে এবং কাজ করার আছে। সেমিফাইনালেও বড় লক্ষ্য তাড়া করতে হতে পারে। দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচের শিক্ষা আমাদের কাজে লাগাতে হবে।’

চলমান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার টুয়েলভে দুর্দান্ত খেলে ইংল্যান্ড। প্রতিপক্ষকে ডোমিনেট করে একের পর এক জয় তুলে নিয়েছিল দলটি। তাদের জয়রথ থামে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে। অতীত সাফল্য বিবেচনায় ইংল্যান্ড এগিয়ে ইংলিশ অধিনায়ক মরগ্যান তা মানতে নারাজ। নিউ জিল্যান্ডকে শক্তিশালি দল আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি অবশ্যই নিজেদের ফেভারিট ভাববো না। হয়তো আমরা দল হিসেবে ভালো। আমরা এখনও নিজেদের যুবক মনে করি এবং ছোটবেলার মতো ড্রেসিংরুমে গল্প শেয়ার করি। এটা আমাদের দল হিসেবে এক হতে সাহায্য করে এবং এটা আমাদের শক্তি। কিন্তু আমি নিজেদের ফেভারিট বলবো না। নিউ জিল্যান্ড বেশ শক্তিশালী দল এবং তাদের ম্যাচ উইনার আছে বেশ কয়েকজন। অবশ্যই ওরা লড়াইটা সহজে হারতে চাইবে না। তাই আমরা খুব রোমাঞ্চকর একটি দলের দারুণ চ্যালেঞ্জের অপেক্ষায় আছি।’

এদিকে কিউই অধিনায়ক এখন শুধু সামনে এগিয়ে যেতে চান। ২০১৬ সাল টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের কথা স্মরণ করালে কিউই কাপ্তান বলেন, ‘এই ৫ বছরে আমরা আরও উন্নত হয়েছি। আমাদের দলে কিছু অসাধারণ টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটার এসেছে যা দলটিকে পরিণত করেছে। এখন আমরা বড় দলের সঙ্গে বড় কিছু ভাবতে পারি। আর এই ম্যাচে কোনদিক দিয়ে আমরা জিততে পারি এই প্রশ্নর জবাবে বলবো ক্রিকেটে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো ভালো খেলা। যে কোন ফরম্যাই হোক বাজে পারফর্ম আপনাকে জেতাতে পারবে না। তাই আমরা এ ম্যাচেও এই ফোকাস রাখবো।’

এদিকে নিউ জিল্যান্ডের জন্য বড় সুযোগ এনে দিতে পারে ইংল্যান্ড শিবিরের দুই ইনজুরি। জেসন রয় ও তাইমাল মিলসকে হারিয়েছে ইংলিশরা। একাদশের এই দুই নিয়মিত ক্রিকেটারকে হারালেও ইংল্যান্ডের শক্তি কমেনি বলে জানান উইলিয়ামসন, তারা দুজনেই ইংল্যান্ডের বড় খেলোয়াড়। এই প্রতিযোগিতায় তাদের ইনজুরিতে পড়া সত্যিই দুঃখজনক। কিন্তু আমি মনে করি ইংল্যান্ডের অন্যতম শক্তির জায়গা তাদের গভীরতা, যেটা সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে গড়ে তুলেছে। তারা এখনো অনেক শক্তিশালী দল যারা সত্যিই ভালো ক্রিকেট খেলছে। আমাদের যদি সুযোগ নিতেই হয় তবে ভালো ক্রিকেট খেলেই তা পেতে হবে।’

এ বছরই ভারতকে হারিয়ে আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়শিপ জেতা নিউ জিল্যান্ডের সামনে এবার প্রতিশোধের পাশাপাশি ইংলিশ আক্ষেপও ঘোচানোর দারুণ সুযোগ। তারা কি পারবে টি-টোয়েন্টিতে বিশ্বসেরার মুকুট পরার পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে যেতে? নাকি জয়গান গাইবে ইংলিশরা? জানা যাবে রাতেই।