“কল্যাণময় সমাজ বিনির্মাণে ‘মিরাজ’ এ রাসুলুল্লাহ (স:)কে প্রদত্ত ১৪ দফা নির্দেশনা”

লেখক: নুরুল করিম রাসেল
প্রকাশ: ৬ years ago

আব্দুর রহমান হাশেমী : পৃথিবীর ইতিহাসে সবচেয়ে বিস্ময়কর ঘটনা ও রাসুলুল্লাহর (সঃ) অন্যতম মুজেযা ‘মিরাজ’। মদিনায় হিজরতের এক বছর পূর্বে ৬২২ খ্রিষ্টাব্দের রজব মাসের ২৬ তারিখ দিবাগত রাতে স্বশরীরে মেরাজের মাধ্যমে মহান আল্লাহর একান্ত সান্নিধ্য লাভে ধন্য হয়েছিলেন।

মহাগ্রন্হ কুরআনে আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেছেন: “পবিত্র ও মহিমাময় তিনি, যিনি তাঁর বান্দাকে রজনীযোগে ভ্রমণ করিয়েছিলেন মসজিদুল হারাম থেকে মসজিদুল আকসায়, যার পরিবেশ আমি বরকতময় করেছিলাম, তাঁকে আমার নিদর্শন দেখানোর জন্য, নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা।”(সূরা বনি ইসরাইল, আয়াত:১)

আল্লাহ তাআলা এক বিশেষ উদ্দেশ্যে অর্থাৎ তাঁর মহান কুদরত, অলৌকিক নিদর্শন, নবুয়তের সপক্ষে এক বিরাট আলামত, জ্ঞানীদের জন্য উপদেশ, মুমিনদের জন্য জ্বলন্ত প্রমাণ, হেদায়েত, নিয়ামত ও রহমত, ঊর্ধ্বলোক সম্পর্কে সম্যক জ্ঞানার্জন, সৃষ্টিজগতের রহস্য উন্মোচন, স্বচক্ষে বেহেশত-দোজখ অবলোকন, পূর্ববতী নবী-রাসুলদের সঙ্গে পারস্পরিক সাক্ষাৎ ও পরিচিতি, সুবিশাল নভোমণ্ডল পরিভ্রমণ, মহাকাশ, আরশ, কুরসি, লওহ, কলম প্রভৃতি সামনা-সামনি দেখিয়ে দেওয়ার জন্য তাঁর প্রিয় হাবিবকে নিজের একান্ত সান্নিধ্যে তুলে নিয়েছিলেন, যাতে তিনি প্রবল আত্মবিশ্বাস নিয়ে ইসলামের মর্মবাণী প্রচার করতে পারেন। সুতরাং মিরাজ কোনো স্বপ্ন ছিল না, মহান সৃষ্টিকর্তার ইচ্ছায় বাস্তবেই এটা হয়েছিল।

ঐ রাতে রাসুলুল্লাহ (সঃ) কল্যাণময় সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনের মাধ্যমে কেয়ামত পর্যন্ত মানবতার মুক্তির জন্যে অাল্লাহর পক্ষ হতে ১৪ দফা নীতিমালা লাভ করেন।

হাদিসে উল্লেখ আছে মিরাজ রজনীতে রাসুলুল্লাহ (সাঃ) ও তাঁর উম্মতের জন্যে কয়েকটি জিনিস প্রদান করা হয়।
প্রথমত: পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ, যা প্রথমে পঞ্চাশ ওয়াক্ত ছিল।
দ্বিতীয়ত: তাঁর উম্মতের যেসব ব্যক্তি আল্লাহর সঙ্গে কাউকে শরিক করবে না, আল্লাহ তাঁর পাপরাশি ক্ষমা করে দেবেন।
তৃতীয়ত: সূরা আল-বাকারার শেষাংশ।
চতুর্থত: সূরা বনি ইসরাইলের ১৪ দফা নির্দেশনা। যথা: ০১) একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর ইবাদত করা, তাঁর সঙ্গে কারও শরিক না করা।
০২) পিতা-মাতার সঙ্গে সদাচরণ করা।
০৩) আত্মীয়-স্বজন, এতিম ও মুসাফিরের হক মেনে চলা।
০৪) অপচয় না করা। ০৫) অভাবগ্রস্থ ও যাচনাকারীকে বঞ্চিত না করা।
০৬) হাত গুটিয়ে না রেখে সব সময় কিছু দান করা।
০৭) অন্যায়ভাবে কোনো মানুষকে হত্যা না করা।
০৮) দারিদ্রের ভয়ে সন্তান হত্যা না করা।
০৯) ব্যভিচারের নিকটবর্তী না হওয়া।
১০) এতিমের সম্পদের ধারেকাছে না যাওয়া।
১১) যে বিষয়ে জ্ঞান নেই, তা অনুসন্ধান করা।
১২) মেপে দেওয়ার সময় সঠিক ওজন পরিমাপ করা।
১৩) প্রতিশ্রুতি পালন করা।
১৪) পৃথিবীতে দম্ভভরে চলাফেরা না করা।
সমাজ সংস্কার এবং একটি কাঙ্খিত সুখি-সমৃদ্ধশালী পৃথিবী গড়তেই রাসুলুল্লাহ (স) মহান রবের নিকট থেকে এসব বিধি-বিধান নিয়ে এসেছেন। এগুলোর যথাযথ অনুসরনেরই ইহকালীন কল্যান ও পরকালীন সফলতা নির্ভর করছে।

লেখক: আব্দুর রহমান হাশেমী
(কামিল হাদিস ও তাফসীর চলমান, মাষ্টার্স সমাজবিজ্ঞান)