কক্সবাজারে দুর্যোগ ঝুঁকি প্রশমন ব্যবস্থাপনা রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্প এবং আশাপাশের জনগোষ্ঠীর সক্ষমতা আরো বৃদ্ধি করছে

লেখক: নুরুল করিম রাসেল
প্রকাশ: ৬ years ago

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি : কক্সবাজার, ১৩ অক্টোবর ২০২০: প্রতি বছর ১৩ অক্টোবর, আন্তর্জাতিক দুর্যোগ ঝুঁকি প্রশমন দিবস পালিত হয়ে আসছে। যার মাধ্যমে সমগ্র বিশ্বের সকল কমিউনিটির মানুষ সচেতনত হচ্ছেন এবং বিপর্যয়ের সম্ভাবনা কমিয়ে আনার ব্যাপারে গুরুত্ব দিচ্ছেন।

এ বছরের ভয়াবহ বন্যা মনে করিয়ে দেয়, বাংলাদেশ সত্যিই জলবায়ু জনিত জরুরী অবস্থার প্রথম সারিতে রয়েছে। ১৯৮৯ সালের পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ এবং ১৯৯৮ সালের পর দ্বিতীয় দীর্ঘমেয়াদী বন্যা ছিল এটি। ৫৪ লক্ষেরও বেশি মানুষ সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। ২০২০ সালের মৌসুমী বন্যা মানুষের জীবন এবং জীবিকার উপর ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে। এবং মনে করিয়ে দিচ্ছে, আগামীতে আরো প্রতিকূল অবস্থায় টিকে থাকার জন্য জলবায়ু সংক্রান্ত কর্মসূচি গ্রহণের মাধ্যমে অবকাঠামোগত উন্নয়নের এবং কমিউনিটির সক্ষমতা বাড়ানো দিকে মনোনিবেশ করতে হবে। দ্রুত এই পরিবর্তীত পরিস্থিতিতে, সকল অংশীদারদের উচিত মানবিক সহায়তা এবং উন্নয়ন কর্মসূচির নেক্সাসের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং জলবায়ু সম্পর্কিত ঝুঁকি বিশ্লেষণ ও প্রশমনের উপর তাদের সহযোগিতা জোরদার করা।

কক্সবাজার জেলায়, ইন্টার সেক্টর কো-অর্ডিনেশন গ্রুপ (আইএসসিজি)-এর অংশীদার- স্থানীয়, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক এনজিও এবং জাতিসংঘের সংস্থাসমূহ, রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশী স্বেচ্ছাসেবীদের সঙ্গে ঘূর্ণিঝড় এবং বর্ষামৌসুমের অতিবৃষ্টি ও ঝড়োবাতাসের প্রভাব থেকে কমিউনিটিকে রক্ষা করতে, বছরব্যাপী একসঙ্গে কাজ করে যাচ্ছেন। কক্সবাজারে দুর্যোগ ঝুঁকি প্রশমনের সাড়াদানে মূল ভূমিকায় রয়েছেন স্বেচ্ছাসেবীরা এবং ক্যাম্প ও আশেপাশের স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সুরক্ষায় দিন-রাত ব্যাপক পরিশ্রম করে যাচ্ছেন।

মানুষের নিরাপত্তা ও জানমাল রক্ষার পাশাপাশি পরিবেশের সুরক্ষা বজায় রাখার জন্য, রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশী স্বেচ্ছাসেবীরা একসঙ্গে কাজ করছেন। পাশাপাশি, আগাম সতর্কতা প্রদান এবং উদ্ধার কার্যক্রম থেকে শুরু করে ঢাল ব্যবস্থাপনা ও নিরাপদ রাস্তা-ঘাট নির্মানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। মানবিক সহায়তা প্রদানকারী সংস্থার কর্মীরা কোভিড-১৯ এর সংক্রমণ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নিশ্চিত করছেন। সাইক্লোন প্রস্তুতি কর্মসূচীর একজন বাংলাদেশী স্বেচ্ছাসেবক জনাব মাহমুদ বলেন- “প্রাকৃতিক বিপর্যয় মোকাবেলায় আমরা রোহিঙ্গাদের সঙ্গে প্রশিক্ষণ নিয়েছি যার মাধ্যমে আমরা আমাদের অভিজ্ঞতার তাদের সঙ্গে বিনিময় করেছি।”

মানবিক সহায়তা প্রদানকারী সংস্থাগুলো, আবহাওয়া জনিত দুর্যোগের ফলে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে, যেমন সাইক্লোনের মতো জরুরি অবস্থায় সাড়াদানের জন্য “৭২ ঘন্টার একটি জরুরি সাড়াদান পরিকল্পনা” প্রণয়ন করেছে। যা বাংলাদেশ সরকারের সহযোগিতায় এবং দুর্যোগ মোকাবেলায় সরকারের স্থায়ী আদেশ (এসওডি)-এর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ২০১৮ সালে তৈরি করা হয়। আইএসসিজি-র ভারপ্রাপ্ত সিনিয়র কো-অর্ডিনেটর পিটার কার্ন বলেন- ”মানবিক সহায়তা প্রদানকারী সংস্থাগুলো প্রাকৃতিক বিপর্যয় এবং দুর্যোগ ঝুঁকি প্রশমনে স্থানীয়দের অভিজ্ঞতার আলোকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সমন্বয় করে যাচ্ছে। যার মাধ্যমে বাস্তুচ্যুতি ও হতাহত মানুষের সংখ্যা কমিয়ে আনতে এবং ক্যাম্প ও তার আশেপাশের কমিউনিটির সক্ষমতা বাড়াতে ভূমিকা রাখবে “

সারা বছর ধরে প্রতিকূল আবহাওয়ার ফলে, প্রায় ৮,৬০,০০০ রোহিঙ্গা শরণার্থী ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রা প্রভাবিত হচ্ছে। এই অঞ্চলটি জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য বিশেষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত, বিশেষ করে বর্ষা এবং ঘূর্ণিঝড় মৌসুমে। বাংলাদেশ সরকারের নেতৃত্বে মানবিক সহায়তা প্রদানকারী সংস্থাগুলো রোহিঙ্গা শরণার্থী ও আশেপাশের বাংলাদেশী জনগোষ্ঠীকে নিয়ে গত বছরের তুলনায় এ বছর দুর্যোগ পরিস্থিতি মোকাবেলায় অপেক্ষাকৃত বেশি প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। ২০২০ সালের জন্য প্রণীত রোহিঙ্গা মানবিক সংকটের যৌথ সাড়াদান পরিকল্পনায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদার সহযোগিতার ফলে তা সম্ভব হয়েছে। জেআরপি-২০২০ এর আবেদনের প্রেক্ষিতে, এখন পর্যন্ত ৪৮.২ শতাংশ অর্থায়নের অঙ্গীকার পাওয়া গিয়েছে এবং জীবন রক্ষাকারী কার্যক্রমের পাশাপাশি দুর্যোগ পরিস্থিতিতে মোকাবেলা করার জন্য অবশিষ্ট অর্থের যোগান দরকার। যা কোভিড-১৯ অতিমারীর মতো পরিস্থিতিতে আরো জটিল হয়ে দাড়িয়েছে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশের ধারাবাহিক সাফল্য রয়েছে এবং দেশটি জলবায়ু পরিবর্তনের কার্যকর অভিযোজনের একটি স্বতন্ত্র উদাহরণ। জাতিসংঘ এবং মানবিক সহায়তা প্রদানকারী সম্প্রদায়ের সহায়তায় দুর্যোগ মোকাবেলায় সরকারের ২০১০ সালের স্থায়ী আদেশ (এসওডি) গত বছর সংশোধন করা হয় এবং ২০১৯ সালের এসওডি-র ইংরেজি অনুবাদ প্রকাশিত হয়েছে। আন্তর্জাতিক মানদন্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে, ক্লাস্টার পদ্ধতিকে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা প্রোটোকলে সংযুক্ত করা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস উপলক্ষে, ইউকেএইড-এর সহযোগিতায় জাতিসংঘের আবসিক সমন্বয়কারীর কার্যালয় থেকে বাংলাদেশের মানবিক সহায়তা কার্যক্রমের সমন্বয় ও সহযোগিতার উপর একটি হ্যান্ডবুক প্রকাশ করা হয়েছে। এই হ্যান্ডবুকটি বাংলাদেশের সরকার ও জনগণকে সহযোগিতা করার জন্য যে কোনও প্রতিষ্ঠানের জন্য সহায়ক হবে।