কক্সবাজারের বাকঁখালী নদীর অরক্ষিত বেঁড়িবাঁধ : দেড় লাখ মানুষ আতংকে

লেখক: নুরুল করিম রাসেল
প্রকাশ: ৯ years ago

মোঃ জাফর আলম চৌধুরী, কক্সবাজার ॥
গ্রীষ্মের প্রায় শেষ দিকে আসছে বর্ষা। তাই আকাশে মেঘ দেখলেই কক্সবাজারের রামু ও সদর উপজেলার নদীকূলবর্তী বসবাসকারী প্রায় দেড় লাখ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বেড়ে যায়। কারণ বাকঁখালীর নদী দু’পাড়ে বসবাসকারী সাধারণ অভাবী মানুষগুলো অতীতের বিভিন্ন সময় দেখেছে অরক্ষিত নদীর ভয়াবহতা ও উজান থেকে আসা পাহাড়ি ঢলের তান্ডবতা।
দীর্ঘদিন ধরে রামু উপজেলার সাতটি ইউনিয়ন ও কক্সবাজার সদর উপজেলার তিনটি ইউনিয়নের বুক চিরে বয়ে যাওয়া বাঁকখালী নদীর বিভিন্ন অংশের বেঁড়িবাঁধ ইতোপূর্বে ব্যাপক ভাবে বিধবস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত বেঁড়িবাঁধ সঠিক সময়ে মেরামত না করার কারণে বর্ষাতে একটু বৃষ্টি হলেই উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে নি¤œাঞ্চল প্লাবিত হয়। গৃহহীন হয়ে পড়ে শতশত পরিবার। চরম দূর্ভোগে পড়ে যান সাধারণ মানুষ। এ অবস্থা গত ৩/৪ বছর ধরে চলে আসছে।
সরজমিনে দেখা গেছে, রামু উপজেলার গর্জনিয়া, কচ্চপিয়া, কাউয়াখোপ, ফতেখাঁরকুল, রাজারকুল, মিঠাছড়ি ও চাকমারকুল ইউনিয়নের প্রায় ২২ হাজার পরিবার এবং কক্সবাজার সদর উপজেলা ঝিলংজা, পিএমখালী ও খুরুস্কুল ইউনিয়নসহ কক্সবাজার পৌরসভার অন্ততপক্ষে ২০ হাজার পরিবার টেকসই বেঁড়িবাঁধের অভাবে ঝুঁকির মাঝে বসবাস করে আসছে। গত বছর বিভিন্ন সময় বন্যায় পানি বন্দি হয়ে পড়েছিল রামু উপজেলা ও কক্সবাজার সদর উপজেলার প্রায় দেড় লাখ মানুষ। কেউ কেউ হারিয়ে বসতভিটা, আবাদি জমি। বর্ষায় নদী ভাঙ্গনের ফলে বেঁড়িবাঁধের বেশ কয়েকটি স্পটে এখনো বিরাজ করছে নাজুক পরিস্থিতি।
সরেজমিনে আরো দেখা গেছে, কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ড নির্মিত পুরনো বেঁড়িবাঁধ কমপক্ষে ১৫টি স্পটে ভেঙ্গে গেছে। এছাড়া বেঁড়িবাঁধের আরো ৫/৬টি স্থানে আড়াআড়িভাবে মাটি সরে গিয়ে বিশাল গর্তের সৃষ্টি হয়েছে।
দূর্যোগকালীন ঝুঁকি কমাতে পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক নির্মিত বেঁড়িবাঁধ এখন নিজেই চরম ঝুঁকি মধ্যে পড়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও জনপ্রতিনিধিদের সুষ্ঠু তদারকির অভাবে বেঁড়িবাঁধের নাজুক অবস্থা বলে সাধারণ মানুষের অভিযোগ রয়েছে। গেল বছর বন্যায় ব্যাপক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ অসংখ্য পরিবার স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় এখনো ফিরতে পারেনি।
ফতেখাঁরকুল ইউনিয়নে নদীরকুলবর্তী বাসিন্দা হাসান আজিজ ও আব্দু রহিম জানান, রামু-কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব সাইমুম সরওয়ার কমলের সুপারিশ নিয়ে অফিসের চর, পূর্ব রাজারকুল সংযোগ সেঁতুর নীচে ও উপর অংশে ভাঙ্গনকৃত এলাকার স্থিরচিত্রসহ জরুরী ভিত্তিতে সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত আবেদন করা হয়েছিল। কিন্তু কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা তা ফাইলবন্দি রাখায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার মানুষগুলো হতাশ।
তারা আরো বলেন, বিধবস্ত বেঁড়িবাঁধ মেরামতে লিখিত আবেদন করতে গেলেই পানি উন্নয়ন বোর্ডে কর্মরত বেশ কিছু কর্মচারী জোর করে টাকা আদায় করেন। টাকা না দিলে লিখিত দরখাস্ত গুলো অনেক সময় অজ্ঞাত কারণে হারিয়ে যায়।
তারা আক্ষেপ করে বলেন, আর কতবার স্থানীয় চেয়ারম্যান আর এমপি সাহেবের সুপারিশ নিয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড বরাবর দরখাস্ত করলে বিধবস্ত বেঁড়িবাঁধের মেরামত কাজ শুরু হবে। বর্ষার আগে বিধবস্ত বেঁড়িবাঁধের অংশসহ টেকসই বেঁড়িবাঁধ মেরামত করা না হলে আসন্ন বর্ষায় ঢলের পানি লোকালয়ে ডুকে পড়বে। এতে মহাসড়কসহ বিস্তীর্ণ এলাকা পানিবন্দি হয়ে যাবে।
স্থানীয় এলাকাবাসি জানান, বর্ষায় বিধবস্ত বেঁড়িবাঁধের অংশ দিয়ে ঢলের উপচে পড়ে নি¤œাঞ্চল প্লাবিত হয়। ফলে রামু ও কক্সবাজার সদর উপজেলার হাজার হাজার পরিবার বিশুদ্ধ পানি সংকটসহ নানা দুর্ভোগে পড়ে। প্রাকৃতিক দূর্যোগের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বেড়ে যায়। বরাবরের মতো এবছরও এধরনের পরিস্থিতিতে পড়ে যাওয়ার আশংকায় অনেক পরিবার আগাম নিরাপদে সরে পড়ছে। অনেক পুরনো বাঁধটি নির্মাণের সময় কাজের গুণগত মান বজায় না রাখায় এর খেসারত দিতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।
এলাকাবাসীর স্বার্থে ঝুঁকিপূর্ণ ও অরক্ষিত বেঁড়িবাঁধ শীঘ্রই পুনঃনির্মাণ করে নদীরপাড়বর্তী সাধারণ মানুষের জানমাল রক্ষার জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয়রা।