উখিয়ায় ঘূর্ণিঝড়ে ১০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

লেখক: নুরুল করিম রাসেল
প্রকাশ: ৯ years ago

কায়সার হামিদ মানিক, উখিয়া :
গত ৩০ মে রাত আড়াই থেকে ৩১ মে সকাল ১০ টা পর্যন্ত বয়ে যাওয়া ঘূর্ণিঝড় মোরার আঘাতে উখিয়ার ১০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঘন্টায় ১৪৬ কি.মি. গতিবেগে বয়ে যাওয়া এ ঘূর্ণিঝড়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের টিনের ছাউনি উড়ে গিয়ে আসবাবপত্র তচনছ হয়ে গেছে। ফলে এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক কার্যক্রম অচল হয়ে পড়েছে বলে প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য যে, ক্ষতিগ্রস্থ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রাজাপালং ফাযিল মাদ্রাসা ঘুরে শিক্ষক জসিম উদ্দিনের সাথে কথা বলে জানা যায়, ১৯৩০ সালে প্রতিষ্ঠিত অত্র মাদ্রাসায় ১ম শ্রেণি থেকে ফাযিল পর্যন্ত নিয়মিত ছাত্র/ছাত্রী হিসাবে অধ্যায়নরত রয়েছে প্রায় ১৫৩০ জন শিক্ষার্থী। পড়ালেখার গুনগতমান নিয়ে উপজেলার শীর্ষস্থানে বিদ্যমান অত্র মাদ্রাসার চাহিদা অনুপাতে আসবাবপত্র, টয়লেট ও শ্রেণিকক্ষ না থাকায় শিক্ষার্থীদের অবর্ণনীয় দূর্ভোগের মাধ্যমে পাঠদান করতে হচ্ছে। এ মাদ্রাসায় দক্ষ ও অভিজ্ঞ ২৯ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা থাকলেও পড়ালেখার অনুকূল পরিবেশ বাধা প্রাপ্ত হওয়ায় শিক্ষাঙ্গনে সার্বিক উন্নয়ন চিত্রের আশানুরূপ অগ্রগামী হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে।
রাজাপালং ফাযিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আলহাজ্ব একেএম আবুল হাছান আলী জানান, শিক্ষাঙ্গনে বিদ্যামান নাজুক পরিস্থিতিতে সাম্প্রতিক সময়ে বয়ে যাওয়া ঘূর্ণিঝড়ের তান্ডবে ক্লাসরুম, আসবাবপত্র ও অন্যান্য সরঞ্জামাদিসহ মাদ্রাসার প্রায় ৫ লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। উপজেলা ভিত্তিক শতভাগ শিক্ষার হার নিয়ে অগ্রগামী অত্র মাদ্রাসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি স্বাভাবিক করতে তিনি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এছাড়া ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্থ রতœাপালং ইউনিয়নের ভালুকিয়া থিমছড়ি তালিমুল কুরআন দাখিল মাদ্রাসা, পালংখালী ইউনিয়নের থাইংখালী রহমতেরবিল দাখিল মাদ্রাসা, থাইংখালী উচ্চ বিদ্যালয়, থাইংখালী হলিচাইল্ড একাডেমী, থাইংখালী কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ ও ফোরকানিয়া মাদ্রাসা, জালিয়াপালং ইউনিয়নের উপকূলীয় মাদার বনিয়া-ছেপটখালী নি¤œমাধ্যমিক উচ্চ বিদ্যালয়সহ ১০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোসহ ছাউনি, ঘেরাবেড়া আসবাবপত্র ধ্বংস হয়ে যাওয়ার ফলে এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ক্ষয়ক্ষতি পুষিয়ে নিতে জরুরী ভিত্তিতে সাহায্যের আবেদন জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্টরা।
থাইংখালী মাদ্রাসা সুপার ফজলুল করিম জানান, মাদ্রাসার ক্ষয়ক্ষতির বিবরণীসহ আনুসাঙ্গিক ব্যয় ভার উল্লেখ করে উপজেলা প্রশাসনে আবেদন করা হয়েছে। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার রায়হানুল ইসলাম মিয়া জানান, ক্ষতিগ্রস্থ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য সরকারি অর্থ বরাদ্ধের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা হাতে নেওয়া হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মাঈন উদ্দিন জানান, ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্থ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বসতবাড়ির প্রাপ্ত তালিকা অনুযায়ী সংস্কারের জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগীতা করা হবে।