টেকনাফ টুডে ডেস্ক : ইন্দোনেশিয়ার সুলাবেসি দ্বীপের পালু শহরে ভূমিকম্পের পর আছড়ে পড়া সুনামিতে যে মৃত্যুর মিছিল শুরু হয়েছে তা থামানো যেত, যদি সুনামি সতর্কতা ঠিকমত জারি করা যেত। এমনটিই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
গত শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে সুলাবেসি দ্বীপে ৭ দশমিক ৫ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর সমুদ্র থেকে প্রায় ছয় মিটার উঁচু ঢেউ পালু শহরকে ভাসিয়ে নিয়ে যায়।
ভূমিকম্প ও সুনামিতে এখন পর্যন্ত ৮৪৪ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। এখনও নিখোঁজ হাজারো মানুষ। ভূমিকম্পের তুলনায় সুনামিতে বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন বলে জানান দেশটির জাতীয় দুর্যোগ ও ক্ষয়ক্ষতি ব্যবস্থাপনা সংস্থা।
বিবিসি জানিয়েছে, ভূমিকম্পের পর ইন্দোনেশিয়ার আবহাওয়া ও ভূতত্ত্ব সংস্থা- বিএমকেজি সুনামি সতর্কতা জারি করে। কিন্তু সতর্কতা জারির প্রায় ৩৪ মিনিট পর তা তুলে নেওয়া হয়।
কেন এত দ্রুত সতর্কতা তুলে নেওয়া হলো তা নিয়ে দেশজুড়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে।
সমালোচকরা বলছেন, সতর্ক বার্তায় সম্ভাব্য সুনামি কতটা ভয়াবহ রূপ নিতে পারে তা ঠিকভাবে ফুটে ওঠেনি এবং খুব দ্রুতই সতর্কতা তুলে নেওয়ার কারণে লোকজন প্রাণ রক্ষায় সচেষ্ট না হয়ে বেঘোরে মারা গেছে।
যদিও বিএমকেজি কর্মকর্তারা বলেছেন, তারা যে সময় পর্যন্ত সুনামি সতর্কতা জারি করেছিলেন তার মধ্যেই সমুদ্র থেকে বিশাল আকারের তিনটি ঢেউ পালু শহরে আছড়ে পড়ে।
বিএমকেজি প্রধান জাকার্তা পোস্টকে বলেন, “আমাদের একজন কর্মী ঘটনাস্থল পালু শহরের পরিস্থিতি স্বচক্ষে দেখে আমাদের জানান। সেইসঙ্গে অন্যান্য সূত্র থেকে খবর পাওয়ার পর আমরা সতর্কতা তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেই।”
“স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ০৩ মিনিটে ভূমিকম্প হয়। ৬টা ৩৭ মিনিটে তৃতীয় ঢেউ আছড়ে পড়ার কয়েক মিনিট পর সতর্কতা তুলে নেওয়া হয় এবং এরপর আর কোনো ঢেউ আঘাত হানেনি” বলে জানান তিনি।
বিএমকেজি’র সুনামি সতর্কতায় ০.৫ থেকে ৩ মিটার উঁচু ঢেউ আঘাত হানতে পারে বলা হয়েছিল। অথচ প্রথম ঢেউটির উচ্চতা ছিল প্রায় ৬ মিটার।
এ বিষয়ে বিএমকেজির ভূমিকম্প ও সুনামি সেন্টারের প্রধান বলেন, “প্রযুক্তিগত দিক দিয়ে আমাদের অনেক সীমাবদ্ধতা আছে। যেসব যন্ত্রপাতি আছে সেগুলোও নষ্ট হলে তহবিলের অভাবে আর মেরামত করা হয় না।”
তবে এ বিষয়টি ছাড়াও আরো বড় সমস্যা যেটি হয়েছিল তা হচ্ছে, টেক্সট মেসেজে মানুষকে সতর্কবার্তা পাঠানো। যোগাযোগ মন্ত্রণালয় বলছে, বার বার অধিবাসীদেরকে টেক্সট করে সতর্কবার্তা পাঠানো হয়েছে যেটি হয়ত তারা খেয়ালই করেনি।
তাছাড়া, দুর্যোগ মোকাবেলা সংস্থার মুখপাত্র বলছেন, ভূমিকম্পের কারণে বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় উপকূলে কোনো সাইরেন বাজেনি। ফলে সতর্কতা জারিতে তেমন কোনো কাজ হয়নি।
পালু শহরের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে শুক্রবার রাতে সেখানে ‘বিচ ফেস্টিভ্যাল’ শুরু হওয়ার কথা ছিল। যার প্রস্তুতি নিতে সুনামির সময় প্রচুর মানুষ সৈকতে অবস্থান করছিলেন। দানবাকৃতির ঢেউ তাদের সবাইকে ভাসিয়ে নিয়ে যায়।
