টেকনাফ টুডে ডেস্ক :
ফুটবলের ‘গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’ বলেই হটফেভারিটের তকমাটা বিনাপ্রশ্নে সেঁটে গেছে রেকর্ড পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের গায়ে।
তার উপর ২০১৪ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে জার্মানির কাছে ৭-১ গোলে বিধ্বস্ত হওয়ার দুস্মৃতি ভুলিয়ে ভক্তদের হেক্সা উপহার দেয়ার প্রত্যয় নিয়ে রাশিয়ায় পা রেখেছে ব্রাজিল।
তবে হেক্সা স্বপ্নে শুরুতেই হানা দিয়েছে দুঃস্বপ্ন। ১-১ গোলে রুখে দিয়ে প্রথম ম্যাচেই ব্রাজিলকে মাটিতে নামিয়ে এনেছে সুইজারল্যান্ড। ওই ম্যাচে নিজেদের ছায়া হয়ে থাকা ব্রাজিল আজ সাম্বা ছন্দে জেগে উঠে বিশ্বকাপ মঞ্চে ফোটাতে চায় হলুদ ফুল।
ছড়াতে চায় জোগো বনিতোর মাতাল সৌরভ। বিশ্বকাপে টিকে থাকার লড়াইয়ে আজ সেন্ট পিটার্সবার্গে কোস্টারিকার মুখোমুখি হবে ব্রাজিল। দলের স্বপ্নসারথি নেইমার মনে করছেন, কোস্টারিকার বিপক্ষে জয়ের মধ্য দিয়েই ছন্দে ফিরবে ব্রাজিল। শেষ ষোলো নিশ্চিত করতে দ্বিতীয় ম্যাচে জয়ের কোনো বিকল্প ভাবছেন না সেলেকাও সুপারস্টার।
সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে বারবার ফাউলের শিকার হয়ে গোড়ালির ইনজুরিতে পড়লেও কোস্টারিকা চ্যালেঞ্জের ম্যাচে শতভাগ ফিট হয়েই মাঠে নামতে পারবেন বলেও ভক্তদের নিশ্চিত করেছেন নেইমার। যদিও গোড়ালির সমস্যায় সোমবার অনুশীলনে অনুপস্থিত থাকার পর মঙ্গলবার অনুশীলন শুরুর ১০ মিনিট পরই খোঁড়াতে খোঁড়াতে মাঠ ছেড়ে শঙ্কা ছড়িয়েছিলেন নেইমার।
তবে সব শঙ্কা কাটিয়ে বধুবার দলের সঙ্গে পুরোদমে অনুশীলন করেন নেইমার। বুধবারের সেই অনুশীলনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করে ভক্তদের শঙ্কা দূর করেছে ব্রাজিল ফুটবল কনফেডারেশন।
দ্বিতীয় ম্যাচে স্বরূপে ফেরার বার্তাও দিয়েছেন নেইমার, ‘সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচের চেয়ে ভালো খেলব বলে আমি আশা করি এবং কোস্টারিকার বিপক্ষে ম্যাচটি আমরা জিততে চাই। আমরা ভালো খেলতে চাই। কোস্টারিকা কঠিন প্রতিপক্ষ, ওদের খেলার ধরন বুঝতে আমরা কোস্টারিকার ফুটেজ দেখেছি। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল আমাদের নিজেদের স্বাভাবিক খেলাটা খেলতে হবে।’
সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে শুধু নেইমার নন, জ্বলে উঠতে পারেনি তারকায় ভরা সেলেকাও স্কোয়াডের কেউই। উইলিয়ান, মার্সেলো, কাসেমিরো, জেসুস, কুতিনহো, ফার্নানদিনহোরা যে যার পজিশনে দুরন্ত। তবে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে রাশিয়া মিশনের শুরুর ম্যাচে যেন নিজেদের খুঁজে বেরিয়েছেন সেলেকাও প্রতিভারা। নেইমার তাই মনে করেন, স্বাভাবিক খেলাটা খেলতে পারলেই চেনা ছন্দে ফিরবে ব্রাজিল।
তারায় ঠাসা সেলেকাও স্কোয়াডের সামনে তাই কোস্টারিকা ম্যাচে নিজেদের খুঁজে পাওয়ার চ্যালেঞ্জটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দেখা দিয়েছে। মিশন হেক্সায় ছন্দে ফেরার চ্যালেঞ্জটাকে অবশ্য চাপ হিসেবে নিতে চান না নেইমাররা। যদিও চাওয়া-না চাওয়ার ঊর্ধ্বে পাহাড়সম চাপ নিয়েই কোস্টারিকার বিপক্ষে নামতে হচ্ছে তিতের দলকে।
‘ই’ গ্রুপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে সার্বিয়ার কাছে ১-০ গোলে হেরেছে কোস্টারিকা। তবে হারানোর কিছু নেই, এমন অনুপ্রেরণা নিয়েই ব্রাজিলের মুখোমুখি হবে রিয়াল মাদ্রিদের গোলকিপার কেইলর নাভাসের কোস্টারিকা।
সঙ্গে প্রেরণা হিসেবে থাকছে ২০১৪ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে ফুটবলবিশ্বকে চমকে দেয়ার কীর্তি। মধ্য আমেরিকার দেশটি রাশিয়া বিশ্বকাপেও স্বপ্ন দেখছে বড় কিছুর। কনকাকাফ অঞ্চলে দ্বিতীয় হয়ে বিশ্বকাপের টিকিট কেটেছে কোস্টারিকা।
গোলপোস্টের নিচে আস্থার প্রতীক বিশ্বের অন্যতম সেরা গোলকিপার কেইলর নাভাস। কোস্টারিকার মূল শক্তি রক্ষণভাগ। আর ফরোয়ার্ডদের ধারাবাহিকতার অভাব লা সেলেদের মূল সমস্যার জায়গা।
আর প্রথম ম্যাচে হোঁচট খেলেও ব্রাজিলের বিশ্বকাপ প্রস্তুতি ছিল দুর্দান্ত। লাতিন আমেরিকার দলটি কোচ তিতের অধীনে খুঁজে পেয়েছে তাদের ঐতিহ্যের জোগো বোনিতার ছন্দ। বিশ্বকাপ বাছাইয়ে দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চলে এক নম্বর হয় সেলেকাওরা। শুধু তাই নয়, স্বাগতিক রাশিয়ার বাইরে সবার আগে বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করে ব্রাজিল। রক্ষণ, মাঝমাঠ ও আক্রমণভাগ- সব পশিজনেই বিশ্বমানের খেলোয়াড় রয়েছে। শুরুর ধাক্কা সামলে আজ ব্রাজিল জ্বলে উঠতে না পারলে সেটাই হবে বড় বিস্ময়।
