অবশেষে কাঠমিস্ত্রি থেকে কোটিপতি টেকনাফের সেই রহিমের বাড়িতে ওসি প্রদীপের নেতৃত্বে পুলিশের হানা, জনমনে স্বস্থি

লেখক: নুরুল করিম রাসেল
প্রকাশ: ৭ years ago

নিজস্ব প্রতিনিধি :
অবশেষে কাঠমিস্ত্রি থেকে কোটিপতি সেই রহিমের বাড়িতে হানা দিয়েছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১৩ই জুন) রাত ৮টার দিকে টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা প্রদীপ কুমার দাসের নেতৃত্বে পুলিশ রহিমের পৌরসভার অলিয়াবাদের সুরম্য বাড়িতে হানা দেয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, থানা পুলিশের একটি দল রহিমের খোঁজে তার বাড়িতে হানা দেয়।
অবশ্য এসময় রহিমকে পায়নি পুলিশ।

অভিযানের সময় রহিমের পরিবারের লোকজন পুলিশের সাথে উদ্ধত্যপূর্ন আচরন করে বলে জানিয়েছে প্রতিবেশীরা।

পরে ওসি প্রদীপ কুমার দাস অভিযান শেষে ফেরার পথে হাই স্কুল মাঠ এলাকায় স্থানীয় লোকজনের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনারা ইয়াবা ব্যবসায়ীদের তথ্য দিয়ে পুলিশকে সহায়তা করুন।

এ প্রসঙ্গে অলিয়াবাদ এলাকার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি জানান, সাধারন মানুষ এখনো ভয়হীন হতে পারেনি কেননা ছদ্মবেশে অনেক ইয়াবা ব্যবসায়ীদের গডফাদারদের এখনো সর্বত্র বিচরন করতে দেখা যায়।

এদিকে এলাকাবাসী জানান, চলমান মাদক বিরুধী অভিযানের মাঝেও রহিম নির্ভয়ে এলাকায় অবস্থান করছিলেন। এমনকি সুরম্য অট্টালিকা নির্মাণ করে যাচ্ছিলেন।

অবশেষে টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা প্রদীপ কুমার দাসের নেতৃত্বে সেই রহিমের বাড়িতে অভিযান চালানো হলে মাদক বিরুধী মহল অভিযানকে সাধুবাদ জানিয়েছেন।

এদিকে রহিমের বাড়িতে অভিযানের পর নড়েচড়ে বসেছে রহিমের সিন্ডিকেটের সদস্যরা। এতোদিন পুলিশের নাকের ডগায় থেকেও তারা বিশেষ কৌশলে বহাল তবিয়তে থাকলেও অভিযানের পর চিন্তায় পড়ে গেছেন সিন্ডিকেটের সদস্যরা।

সূত্র জানিয়েছে রহিমের এই সিন্ডিকেটটি মূলত আত্মীয়-স্বজন কেন্দ্রিক সিন্ডিকেট। এই সিন্ডিকেটে তার ভাই, বোন, ভাগিনা ছাড়াও নিকটাত্মীয় রয়েছেন আরো কয়েকজন।

জানা গেছে এই সিন্ডিকেটের এক সদস্য কয়েকদিন আগে অবস্থা টের পেয়ে বিদেশে পালিয়ে গেছেন। তবে সিন্ডিকেটের অপর সদস্যরা এখনো এলাকায় রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের সদস্যরা ছাড়াও মোস্ট ওয়ানটেড শীর্ষ কারবারীদের কয়েকজন অলিয়াবাদ এলাকায় গা ঢাকা দিয়ে আছে বলে নির্ভরযোগ্য সূত্র দাবী করেছে। আবার বৈধ ব্যবসার আড়ালে ছদ্মবেশ ধারন করে আছে অলিয়াবাদ এলাকার আরো কিছু ইয়াবা কারবারী।

কিছুদিন পূর্বে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) রহিমের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয় বহিভুত সম্পদ অর্জনের দায়ে মামলা দায়ের করেছেন।

এছাড়া গত বছর দেশের শীর্ষ একটি অনলাইন নিউজ পোর্টালে “কাঠমিস্ত্রি থেকে কোটিপতি রহিম” শিরোনামে রহিমের আদ্যোপান্ত তুলে ধরেন।

এছাড়া বিশেষ একটি জায়গায় রহিম মাসিক মোটাংকের মাসোহারা দিতেন বলে এলাকায় প্রচার আছে। এমনকি অভিযানের সময় কাউকে তোয়াক্কা না করে বাড়িতে নির্মাণ কাজ চালিয়ে যাচ্ছিল।

অবশেষে সেই রহিমের বাড়িতে পুলিশী অভিযানে জনমনে স্বস্থি দেখা দিয়েছে। অবিলম্বে রহিমকে আইনের আওতায় আনার দাবী জানিয়েছেন তারা।