নিজস্ব প্রতিবেদক : টেকনাফের হ্নীলায় বিজিবি জওয়ানেরা পৃথক অভিযান চালিয়ে ২লাখ ১০হাজার ইয়াবার চালান জব্দ করেছে।
বিজিবি সুত্র জানায়,১১সেপ্টেম্বর ২০২৪ইং সকাল ভোরের দিকে টেকনাফ ২বিজিবি ব্যাটালিয়নের হ্নীলা বিওপির দায়িত্বপূর্ণ বিআরএম-১৩ হতে ১শ গজ দক্ষিণে পূর্ব ফুলের ডেইল দিয়ে মাদকের একটি চালান মায়ানমার হতে বাংলাদেশে আসার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ব্যাটালিয়ন সদর ও হ্নীলা বিওপির ২টি চোরাচালান প্রতিরোধ টহল দল উক্ত স্থানে গিয়ে কৌশলগত অবস্থান গ্রহণ করে। সকাল ৮টারদিকে বিজিবি টহল দল ২জন সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে নাফ নদী পার হয়ে পূর্ব ফুলের ডেইল হয়ে হ্নীলা পুরান বাজার ইউপি ভবনের বাঁশ ঝাড়ের দিকে যাওয়ার সময় টহল দল তাদের ধাওয়া করলে দূর হতে বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে তাদের সাথে থাকা ২টি ব্যাগ পার্শ্ববর্তী ডোবায় ফেলে দিয়ে গ্রামের ভিতরে দিয়ে পালিয়ে যায়। পরে টহলদল উক্ত ডোবায় ব্যাপক তল্লাশী চালিয়ে চোরাকারবারীদের ফেলে দেওয়া ২টি প্লাস্টিকের ব্যাগ হতে ১লাখ ৬০হাজার) ইয়াবা উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। উক্ত এলাকায় কোন মাদক চোরাকারবারীকে সনাক্ত করাও সম্ভব না হলেও তাদের সনাক্ত করার জন্য ব্যাটালিয়নের গোয়েন্দা কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
এদিকে স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে,একটি স্বশস্ত্র গ্রুপ দীর্ঘদিন ধরে এই ধরনের মাদকের চালান খালাসের পর মওজুত করে ক্রেতাদের নিকট সরবরাহ করে আসলে বলে জানা গেছে। রাতে খালাস হওয়া প্রায় ৫লাখ ইয়াবা চালান পৃথক স্থানে মওজুদ রাখে। তম্মধ্যে ১লাখ ৬০হাজার ইয়াবা বিজিবির হাতে জব্দ হলেও প্রায় ৩লাখ ইয়াবা রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সরবরাহ করা হয়। অবশিষ্ট কিছু হ্নীলা পশ্চিম সিকদার পাড়ার মাদক কারবারীদের নিকট সরবরাহ করা হয় বলে গোপনীয় সুত্রে প্রকাশ। এই মাদক চোরাচালান নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে স্নায়ুযুদ্ধ শুরু হওয়ায় যেকোন মুর্হুতে বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার আশংকা করা হচ্ছে।
ইতিমধ্যে একটি মহল কয়েকজনের নাম প্রকাশ করে। অভিযুক্তদের নিকট জানতে চাইলে বলেন, আমরা এলাকার খেটে খাওয়া মানুষ। শত্রুতামূলক আমাদের ফাঁসানোর চেষ্টা করছে। আমরা এই ধরনের ষড়যন্ত্রের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
অপরদিকে ১০সেপ্টেম্বর রাত ৮টারদিকে অটোরিক্সাযোগে মাদকের চালান পাচারের সংবাদ পেয়ে টেকনাফ-কক্সবাজার সড়কের হ্নীলা ষ্টেশনের উত্তর পাশে ঈদগাঁও মাঠ সংলগ্ন পাকা রাস্তায় অস্থায়ী চেকপোস্ট স্থাপন করে যানবাহন তল্লাশী শুরু করে। কিছুক্ষণ পর ১টি সন্দেহভাজন অটোরিক্সা চেকপোস্টের নিকট আসলে তা তল্লাশীর জন্য সংকেত দেওয়া হলে অটোরিক্সাটি বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে চেকপোস্ট হতে ২০-৩০ গজ সামনে থামিয়ে গাড়িতে থাকা দুই ব্যক্তি দ্রæত দৌড়ে পার্শ্ববর্তী গ্রামের দিকে পালিয়ে যায়। পরে অটোরিক্সাটি তল্লাশী করে চালকের সীটের নীচে ১টি প্লাষ্টিকের ব্যাগের ভিতর হতে ৫০হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করে।
টেকনাফ ২বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেঃ কর্নেল মোঃ মহিউদ্দীন আহমেদ (বিজিবিএমএস) জানান, পৃথক অভিযানে পলাতক মাদক কারবারীদের সনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার জন্য ব্যাটালিয়নের গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে নাফনদীর দ্বীপে থাকা মাদক কারবারী সিন্ডিকেটের সদস্যরা বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে তাদের গ্রাহকের হাতে পৌঁছে দেওয়ায় এই মাদক চোরাচালান নিয়ে বিভিন্ন স্থানে নানা ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার জন্ম দিয়েছে। ###
