টেকনাফ প্রতিনিধি |
কক্সবাজারে টেকনাফ সমুদ্র উপকূল এখন মালয়েশিয়া মানবপাচারের এয়ারপোর্টে পরিনত হয়েছে। দিন-রাত সমান তালে চলছে পাচার কাজ।
স্থানীয় লোকজনের সাথে কথা বলে জানা যায়, মানব পাচারের দালালদের সহযোগিরা রোহিঙ্গা শরনার্থী ক্যাম্প থেকে শুরু করে টেকনাফ উপজেলার বাহার ছড়া ইউনিয়নের শিলখালী হতে সদর ও সাবরাং ইউনিয়নের শাহপরীর দ্বীপ পর্যন্ত সড়ক, সমুদ্র সৈকত এলাকা বেষ্টনী দিয়ে রাখে। যখন রোহিঙ্গারা শরনার্থী ক্যম্প থেকে বের হয় তখন তাদের পিছু নেয়। গাড়ী থেকে নামার সাথে সাথে জিম্মি করে দালালদের নিকট পৌঁছে দেয়। আর এতে তারা নগদে জনপ্রতি ২৫ হতে ৩০ হাজার টাকা পেয়ে থাকে মূল পাচারকারীদের কাছ থেকে।
এমন কি সাধারণ লোকজন তাদের হাত থেকে রক্ষা পাচ্ছে না বলে ভুক্তভোগী লোকজন জানান। মোটা টাকা পাওয়ার ফলে মালেয়শিয়ায় মানব পাচার কাজে জড়িয়ে পড়ছে জনপ্রতিনিধি,রাজনৈতিক নেতা কর্মি,যুব সমাজ।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, টেকনাফ উপজেলার সদর ইউনিয়নের মহেশখালিয়া পাড়া,লম্বরী, তুলাতলি, হাবির ছড়া,বাহার ছড়া ইউনিয়নের নোয়াখালী পাড়া,বড়ডেইল,করাচী পাড়া, জাহাজ পুরা,শীলখালী,সাবরাং ইউনিয়নের খুরের মুখ, কাটাবনিয়া,মুন্ডার ডেইল ও আলীর ডেইল এলাকার সমুদ্র সৈকতের ফিশিং ঘাট দিয়ে মানব পাচার হচ্ছে বলে স্থানীয় লোকজন জানান। সারাদিন দালাল ও তাদের সহযোগিদের মাধ্যমে রোহিঙ্গা শরনার্থী,স্থানীয় লোকজন এনে সমুদ্র সৈকতের পাশে জড়ো করে রাখে।
সন্ধ্যা হওয়ার সাথে সাথে ফিশিং বোটে মালেশিয়াগামী বোটে তোলে দেওয়ার প্রতিযোগিতা শুরু হয় বলে স্থানীয় লোকজন জানান। এই মানব পাচার দিন দিন বেড়েই চলেছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, এই মানবপাচারের সাথে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত রয়েছে টেকনাফ সদর ইউনিয়নের পল্লান পাড়া এলাকার আরিফ, মোঃ রফিক, তাদের সহযোগী হারুন, বটতলী বাজারের আজিজুল হক আজু, আব্দুল হক, দিল মোঃ দিলু, মহেশখালীয়া পাড়ার মাহমুদুল হক, কচুবনিয়া এলাকার সিএনজি চালক ছিদ্দিক, মহেষখালীয়া পাড়া এলাকার আজিজুল হক আজু, মাহমুদুল হক, আবদুর রউফ, মো: আমিন ছোট হাবির পাড়ার দিদার ও নুরুল আবছার আবীর।
সন্ধ্যায় মানব পাচার কারী দালাল গণ টেকনাফ কক্সবাজার মেরিন ড্রাইভ সড়ক জিম্মি করে পাচার কাজ চালাচ্ছে। ফলে সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসলে ঐ সড়ক দিয়ে যাতায়াত কারী লোকজন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে গাড়ির যাত্রীরা জানান।
গত ১৬ মার্চ সিএনজি যোগে কক্সবাজার যাওয়ার পথে টেকনাফ নাইট্যপাড়া এলাকার দুই কিশোরী ও তাদের পিতা বটতলী এলাকার আজিজুল হক আজু বাহিনীর হাতে অপহৃত হয়ে পাচারের শিকার হয়েছে বলে দাবী করেছেন তাদের স্বজন মোহছেনা। এই ব্যাপারে টেকনাফ থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
এছাড়া সম্প্রতি কুতুপালং ৫ নং ক্যাম্পের দীন ইসলাম নামে এক যুবককে দালাল সিন্ডিকেট কাজের কথা বলে ডেকে এনে টেকনাফ মহেষখালীয়া পাড়া এলাকায় আটকে রেখে নির্মম নির্যাতন চালিয়ে ৪ লক্ষ টাকা আদায় করে বলে অভিযোগ উঠেছে আজিজুল হক আজু ও শফিক সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে।
এই মানবপাচার বন্ধে প্রশাসন ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর পদক্ষেপ আশা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
