করোনা মোকাবেলায় চকরিয়া জমজম হাসপাতালে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও আইসোলেশন ইউনিট চালু

লেখক: নুরুল করিম রাসেল
প্রকাশ: ৬ years ago

এম.জিয়াবুল হক : করোনা ভাইরাস আক্রান্ত রোগীদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা নিশ্চিতের লক্ষ্যে বেসরকারি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান চকরিয়া জমজম হাসপাতালে তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি বিশেষজ্ঞ টীম এবং ৫ শয্যা বিশিষ্ট একটি আইসোলেশন ইউনিট গঠন করা হয়েছে। গঠিত চিকিৎসক টিমে রয়েছেন- মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা: হুমায়ুন কবির, সুপারিন্টেডেন্ট ডা: ফয়জুর রহমান, নবজাতক ও শিশু বিশেষজ্ঞ ডা: আমির হোছাইন। শনিবার হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো: গোলাম কবির এ ঘোষণা দেন।
হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক গোলাম কবির বলেন, বলেন, তিনি সার্বক্ষণিক সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী ডাক্তার, নার্সসহ সকলকেই এই ভাইরাস সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে অবহিত ও সর্তক করার জন্য পরামর্শ দেন। প্রয়োজনে হট লাইন: ০১৭৩৪-০৬৮৮৬৮-এ যোগাযোগ করার অনুরোধ করেন।
এদিকে, করোনা ভাইরাস-কভিড ১৯ সতর্কতা ও করণীয় শীর্ষক আলোচনা সভা ১৩ মার্চ সন্ধ্যায় জমজম হাসপাতালে অনুষ্ঠিত হয়েছে। হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ গোলাম কবিরের সভাপতিত্বে সভায় দিকনির্দেশনামুলক বক্তব্য দেন হাসপাতালের ভাইস চেয়ারম্যান সাবেক এমপি অধ্যাপক এনামুল হক মঞ্জু। সভায় করোনা ভাইরাসের বর্তমান প্রেক্ষিত- সতর্কতা ও করনীয় এই বিষয়ের উপর প্রধান আলোচক ছিলেন হাসপাতালের মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডাঃ মোঃ হুমায়ুন কবির।
আলোচনায় অংশ গ্রহণ করেন -হাসপাতালের সুপারিন্টেডেন্ট ও গাইনী বিশেষজ্ঞ ডাঃ মোঃ ফয়জুর রহমান, প্রসুতি ও স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ ডাঃ নাছিমা আক্তার, নবজাতক ও শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ডাঃ মোঃ আমির হোছাইন, অর্থোপেডিক্স বিশেষজ্ঞ ডাঃ মোঃ দেলোয়ার হোসেন, এনেশথেসিয়া বিশেষজ্ঞ ডাঃ মোঃ মামুনুর রশীদ চৌধুরী, পরিচালক এস. এম. ফখরুল আনাম, ও জালাল আহমদ। সভা সঞ্চালনা করেন পরিচালক রিয়াজ মো: রফিক ছিদ্দীকী।
অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান আলোচক ডাঃ মোঃ হুমায়ুন কবির বলেন, করোনা ভাইরাস একটি নতুন ভাইরাস জনিত রোগ। এই রোগের এখনো সুনির্দিষ্ট কোন ঔষুধ নাই। জ্বর থাকা অবস্থায় সর্দি, কাঁশি, হাঁচি, গলা ব্যথা ইত্যাদি এই রোগের প্রধান লক্ষণ। বিদেশ হতে আগত বিশেষ করে চীন, দক্ষিণ কোরিয়া, ইতালি, কানাডা, ইরান, সিঙ্গাপুর ও ইউরোপিয়ান দেশ হইতে আগত দেশি-বিদেশি যে কোন ব্যক্তির এই ধরনের লক্ষণ পাওয়া গেলে বাসায় অথবা হাসপাতালে আইসোলেসনে রাখার ব্যবস্থা করতে হবে। ডাক্তার, নার্সসহ সংশ্লিষ্ট সকলকেই নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে এই ধরনের রোগীকে চিকিৎসা প্রদান করতে হবে। কোন অবস্থাতেই এই রোগীর সাথে উন্মুক্ত ভাবে হাসপাতালে রাখা বা চিকিৎসা ইত্যাদি দেওয়া যাবে না। এই ধরনের ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত ব্যক্তিদেরকে বাড়িতে আলাদা কক্ষে অথবা হাসপাতালে আলাদা কক্ষে ১৪ দিন চিকিৎসা দিতে হবে।
হাসপাতালের সুপারিন্টেডেন্ট ডা: মো: ফয়জুর রহমান বলেন, করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত বিদেশ হতে আগত রোগী বা তাদের আত্মীয় স্বজন এই রোগের লক্ষণ নিয়ে আমাদের হাসপাতালে আসলে, হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ টীমকে অবহিত করতে হবে। আমরা পরীক্ষা নীরিক্ষার পর সরকারি নির্দেশনা মত প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ঊদ্যোগ নেব। তবে করোনা ভাইরাস নিয়ে আতংকের কোন কারণ নাই।করোনা ভাইরাস আক্রান্ত রোগীদের সংস্পর্শ হইতে বিরত থাকতে হবে।##