মুক্তিপণ দিয়ে ছাড়া পেলো অপহৃত ইউনুছ

লেখক: নুরুল করিম রাসেল
প্রকাশ: ৯ years ago

শামীম ইকবাল চৌধুরী,নাইক্ষ্যংছড়ি(বান্দরবান)থেকে::
নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বাইশারীতে গত শনিবার পুলিশ পরিচয় দিয়ে ভোর রাতে অপহৃত মোঃ ইউনুছ(৩২) ৪৬ ঘন্টা পর মুক্তিপণে উদ্ধার হয়েছে। ১৬ এপ্রিল (রবিবার) রাত সাড়ে দশ টার দিকে রামু উপজেলার ঈদগড় ইউনিয়নের বৈধ্যপাড়া এলাকায় অপহরনকারী চক্রের সদস্যরা তাকে ১ লক্ষ ৬৬ হাজার টাকা মুক্তিপণ দিয়ে সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা জিম্মি দশা থেকে মুক্ত করে দিয়েছে বলে জানালেন অপহৃত পরিবারের ভাবী বেবী আক্তার ও বোন হাছিনা আক্তার।
ভাইয়ের অপহরনের কথা শুনে টেকনাফের ঠেংখালী থেকে আসা বোন হাছিনা আক্তার বলেন, অপহরনকারীরা তিন লক্ষ টাকা দাবী করলেও দরকষাকষি শেষে বৈদ্যপাড়া এলাকায় ১ লক্ষ ৬৬ হাজার টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দেয়। তিনি আরো বলেন, বিকাশে টাকা দিতে চাইলে অপহরণ চক্রের সদস্যরা তা গ্রহন না করে হাতে হাতে দেওয়ার কথা বলে। এসব কাজে সহযোগীতা করেছেন এক ভাড়ায় চালিত মোটর সাইকেল চালক। তার হাতেই সন্ত্রাসীরা টাকা গুলো দিতে বলে।
মুক্ত হওয়ার পর মোহাম্মদ ইউনুছ স্থানীয় সাংবাদিক ও এলাকাবাসীর সাথে কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। দীর্ঘ ৪৬ ঘন্টা কালো পাহাড়ে হাঁত পা বেঁেধ চরম নির্যাতন করেছে সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা মুক্তিপনের টাকার জন্য। বেদম প্রহার করে মোবাইল ফোনে পরিবারের সদস্যদের নিকট মুক্তিপনের টাকার জন্য চাপ প্রয়োগ করতেন বলে তিনি জানান। তবে তিনি সাংবাদিকদের নিকট প্রকাশ্যে বলেন, অপহৃরণকারীদের সে চিনতে পেয়েছে এবং এদের দলে চার জন চিহিৃত তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসীও রয়েছে।
অপহৃত ইউনুছ আরো বলেন, বাইশারী এলাকার ভাড়ায় চালিত আবু প্রকাশ আবুইয়া নামের একজন মটর সাইকেল চালক অপহৃরণকারীদের সার্বিক সহযোগিতা এবং সেই মটর সাইকেল চালকের মাধ্যমে সরাসরি মুক্তিপণের টাকা গুলি সন্ত্রাসীদের হাতে তুলে দেওয়া হয়। তাছাড়া সন্ত্রাসীরা সার্বক্ষনিক টাকা গুলো এবং টাকা দিতে আসা পরিবারের সদস্যদের তার মটর সাইকেলে করে যেন আসে তা মোবাইল ফোনে জানিয়ে দেয় সন্ত্রাসীরা।
ঐঘটনাটি ফাঁস হওয়ার পর থেকে মটর সাইকেল চালক আবু প্রকাশ আবুইয়া এখন এলাকা থেকে উধাও হয়ে যায়। গত রবিবার রাতে মুক্তিপণের বিনিময়ে অপহৃত ইউনুছ উদ্ধারের পর পুলিশ তার বাড়ীতে গিয়ে তার সাথে কথা বলে এবং ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ জিজ্ঞাসাবাদ করে।
উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে বাইশারী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ কৃষ্ণ কুমার দাস মোবাইল ফোনে জানান, এ.এস.পি সার্কেল লামা ও সঙ্গীয় ফোর্স সহ আমি গত সোমবার(১৭ এপ্রিল) বিকাল ৩টার দিকে আবারো ঘটনাস্থলে পরিদর্শনে গিয়েছি। অবশ্যই অপহৃরণকারীদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনা হবে।তিনি আরো জানান, এখনো পর্যন্ত থানায় কোন ধরনের মামলা রুজু হয় নাই। অপহৃত ইউনুছ জানান, তিনি অবশ্যই মামলা দায়ের করবেন। এই রিপোর্ট পাঠানো পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।