কক্সবাজারে অবস্থানরত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর সহনশীলতা সৃষ্টির লক্ষ্যে নতুন এক চুক্তিস্বাক্ষর করলো WFP ও গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার

লেখক: হুমায়ুন রশিদ
প্রকাশ: ৪ years ago

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি : কক্সবাজারে অবস্থানরত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে নিরবচ্ছিন্নভাবে সহায়তা দানের লক্ষ্যে জাতিসংঘ বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (WFP) ও গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় (এমওডিএমআর) এক চুক্তি স্বাক্ষর করেছে।

বিশ্ব ব্যাংকের অনুদানে WFP-এর পক্ষ থেকে সেফটি নেট সিস্টেমস্ ফর দ্যা পুয়োরেস্ট (এসএনএসপি) প্রকল্পটির একটি অংশ স্ট্রেংদেনিং কমিউনিটি রিজিলিয়েন্স বাস্তবায়ন করা হবে। এটি চলমান এসএনএসপি-এর একটি বর্ধিত অংশ, যার মধ্যে রয়েছে এমপ্লয়মেন্ট জেনারেশন প্রোগ্রাম ফর দ্যা পুয়োরেস্ট (ইজিপিপি) ও ভালনারেবল গ্রুপ ফিডিং (ভিজিএফ)। এগুলোর আওতায় দেশজুড়ে ১ কোটি ২০ লক্ষের বেশি বাংলাদেশী পরিবারকে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

টানা কমিউনিটি সেবা ও কমিউনিটি ওয়ার্কফেয়ার বিষয়ক কার্যক্রমের মাধ্যমে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ৮৫ হাজার পরিবারকে সহায়তা দেওয়া হবে, যার মধ্যে রয়েছে নিরাপদে খাবার ধরা ও তা সংরক্ষণ করা, মা ও তত্ত্বাবধানকারীদের জন্য পুষ্টি শিক্ষা, বাড়িতে বাগান করা ও কোভিড-১৯ প্রতিরোধ করা।

এর পাশাপাশি, যেসব পরিবারের বিশেষ সহায়তা দরকার, তাদের সচেতনতা বৃদ্ধি ও তাদেরকে স্বতন্ত্র সহায়তা দিতে কাজ করতে তরুণ স্বেচ্ছাসেবীদেরকে উৎসাহিত করা হবে। বিশেষ একদল তরুণ পরিবেশের পুনর্বাসনমূলক কর্মকাণ্ড, যেমন: বৃক্ষরোপন, চারাগাছের যত্ন নেওয়া ইত্যাদি কাজে নিযুক্ত থাকবে। অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে শতকরা ৬০ ভাগই থাকবে নারী।

সম্মানিত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডক্টর মোঃ এনামুর রহমান, এমপি, বলেন, “বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিকদের জীবন ও জীবনমানের উন্নয়নে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সাথে WFP-এর এই সহযোগিতায় আমরা অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত।”

WFP-এর কান্ট্রি ডিরেক্টর এ. আই. জেন পিয়ার্স বলেন, “এই এসএনএসপি কক্সবাজারে অবস্থিত রোহিঙ্গাদের জন্য WFP-এর চলমান কর্মকাণ্ডগুলোর ইতিবাচক প্রভাব ও সেগুলোর কার্যকারীতাকে আরও বাড়িয়ে তুলবে।” তিনি আরও বলেন, ”ঝুঁকির মুখে থাকা রোহিঙ্গা পরিবারগুলোকে জীবন রক্ষাকারী ও জীবন পাল্টে দেওয়ার মতো সহায়তা দিতে এমওডিএমআর-এর সাথে অংশীদারিত্বে WFP গর্বিত। তাদের জন্য পর্যাপ্ত ও পুষ্টিকর খাবারের ব্যবস্থার উন্নয়ন ও বৃহত্তর বাংলাদেশী জনগোষ্ঠীর অনেকের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে WFP বদ্ধপরিকর।

ইতোপূর্বে, বিশ্ব ব্যাংকের আরেকটি অনুদানে বৃহত্তর ইমার্জেন্সি মাল্টিসেক্টর রোহিঙ্গা ক্রাইসিস রেসপন্স প্রজেক্ট (ইএমসিআরপি)-এর কমিউনিটির সহনশীলতা বৃদ্ধি করা -সংক্রান্ত অংশটি বাস্তবায়ন ও তাকে আরো মজবুত করতে WFP এই মন্ত্রণালয়কে সহযোগিতা দিয়েছে। এর আওতায় ক্যাম্পের ১ লক্ষ ৭৫ হাজারেরও বেশি রোহিঙ্গা পরিবারকে লক্ষ্য করে বেশকিছু কমিউনিটির সহনশীলতা তৈরি-সংক্রান্ত কার্যক্রম বাস্তবায়িত হয়েছিলো। কোভিড-১৯ এর কারণে সৃষ্ট চ্যালেঞ্জ থাকার পরেও এই প্রকল্পটি ফেব্রুয়ারিতে সফলভাবে শেষ হয়। উল্লেখ্য, প্রকল্পটি বিভিন্ন স্থানে তার লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গিয়েছিলো ও এমওডিএমআর ও বিশ্ব ব্যাংকের দ্বারা প্রশংসিত হয়েছিলো।

নতুন এই চুক্তির মাধ্যমে বৃহত্তর অর্থে ইতিবাচক প্রভাব ও দীর্ঘস্থায়িত্বের জন্য WFP ইএমসিআরপি-এর কিছু সচরাচর কাজের বাস্তবায়ন ও সেগুলোর পরিধি বাড়াতে কাজ করে যাবে।