বাংলাদেশে রোহিঙ্গা শরণার্থী ও তাঁদের আশ্রয় প্রদানকারী স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য আরও সহায়তার আবেদন ইউএনএইচসিআর-এর গ্র্যান্ডি

লেখক: নুরুল করিম রাসেল
প্রকাশ: ৪ years ago

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি : জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাই কমিশনার ফিলিপ্পো গ্র্যান্ডি বাংলাদেশে রোহিঙ্গা শরণার্থী ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য টেকসই ও পরিকল্পিত সহায়তার আবেদন করেছেন। অনুকূল পরিবেশে শরণার্থীদের স্বেচ্ছায় মিয়ানমারে ফিরে যাওয়ার যে আশা রয়েছে, তা বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তাও তিনি তুলে ধরেন।

ফিলিপ্পো গ্র্যান্ডি আজ বাংলাদেশে তাঁর পাঁচ দিনের সফর শেষ করছেন। এখানে তিনি রোহিঙ্গা শরণার্থী, দেশের শীর্ষ নেতৃত্ব, ইউএনএইচসিআর-এর দাতা অংশীদার এবং মানবিক সংস্থাগুলোর সাথে সাক্ষাৎ করেছেন।

কক্সবাজার ও ভাসান চরের শরণার্থী শিবির পরিদর্শনের পর ইউএনএইচসিআর-এর গ্র্যান্ডি বলেন, “গত পাঁচ বছর ধরে রোহিঙ্গা শরণার্থী ও তাঁদের আশ্রয় প্রদানকারী স্থানীয় জনগোষ্ঠী যে সংকট মোকাবেলা করছে, তা বিশ্বকে অবশ্যই মনে রাখতে হবে। শরণার্থীদের জীবন নির্ভর করে তাদের সহায়তায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আচরণের উপর”।

বাংলাদেশে আছে প্রায় দশ লাখের কাছাকাছি রোহিঙ্গা শরণার্থী, যাদের বেশির ভাগই ২০১৭ সালে জীবন বাঁচাতে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে এসেছে। গ্র্যান্ডি বাংলাদেশের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন, এবং সরকারের নেতৃত্বে শরণার্থীদের জন্য মানবিক কার্যক্রমের গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতির প্রশংসা করেন। এই অগ্রগতির মধ্যে আছে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের কোভিড-১৯ টিকাদান কর্মসূচীতে অন্তর্ভুক্তিকরণ, যার মাধ্যমে ১৮ বছরের বেশি বয়সী রোহিঙ্গাদের ৮৮ শতাংশেরও বেশি ইতিমধ্যেই টিকা পেয়েছে।

“বাংলাদেশ প্রায় দশ লক্ষ শরণার্থীর মানবিক সহায়তায় নেতৃত্ব দিচ্ছে। সেজন্য বাংলাদেশ আমাদের কাজের খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশীদার রাষ্ট্র। কিন্তু জীবন রক্ষাকারী সহায়তা প্রদান এবং আশানুরুপ ভবিষ্যতের জন্য নিরবিচ্ছিন্ন চলমান আন্তর্জাতিক সহায়তা অতীব প্রয়োজনীয়”, গ্র্যান্ডি জোর দিয়ে বলেন। “সে জন্যেই আমি আজ এখানে। বাংলাদেশ, বাংলাদেশের মানুষ, এবং কয়েক দশক ধরে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীদের কথা আমি তুলে ধরতে চাই। আর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে মনে করিয়ে দিতে চাই রোহিঙ্গা শরণার্থীদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনের আগ পর্যন্ত তাঁদের সুরক্ষায় আন্তর্জাতিক সহায়তার গুরুত্ব।”

ইউএনএইচসিআর-এর হাই কমিশনার উল্লেখ করেন যে মিয়ানমারেই এর সমাধান রয়েছে। জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর ও ইউএনডিপি মিয়ানমারের সাথে ত্রিপক্ষীয় একটি সমঝোতার মাধ্যমে রাখাইনে কমিউনিটি প্রজেক্টগুলোতে কাজ করে যাচ্ছে। কিন্তু সেখানে সুষ্ঠু, নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ তৈরিতে আরও সাহায্য প্রয়োজন। “যত জন রোহিঙ্গা শরণার্থীর সাথে আমি কথা বলেছি তারা সবাই পরিস্থিতি অনুকূল হলেই তাদের দেশ মিয়ানমারে ফিরে যাওয়ার ইচ্ছার কথা আমাকে বারবার মনে করিয়ে দিয়েছে। রোহিঙ্গাদের বাস্তুচ্যুতির মূল কারণ নিয়ে বিশ্বকে কাজ করতে হবে, এবং তাদের নিজ দেশে ফেরার আকাঙ্ক্ষাকে বাস্তবে রুপ দিতে হবে”, গ্র্যান্ডি বলেন।

বাংলাদেশে থাকাকালীন সময়ে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এর সাথে এটাও নিশ্চিত করা প্রয়োজন যেন তারা তাদের সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে পারে, যেন তদের সন্তানেরা মিয়ানমারের পাঠ্যক্রম অনুযায়ী পড়তে পারে। শরণার্থী ক্যাম্পে এই মুহুর্তে মিয়ানমারের পাঠ্যক্রম চালু করা হচ্ছে। এই শরণার্থী জনগোষ্ঠীর প্রায় ৫২ শতাংশের বয়স ১৮’র নিচে।

“কক্সবাজার ও ভাসান চরে শরণার্থীদের জন্য দক্ষতা বৃদ্ধি ও জীবিকামূলক কর্মকান্ড খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এগুলোর মাধ্যমে নিশ্চিত করা যাবে শান্তিপূর্ণ জীবন যাপন, নিরাপদ পরিবেশ এবং টেকসই প্রত্যাবাসন”, গ্র্যান্ডি বলেন।

বাংলাদেশ সরকার প্রায় ২৮,০০০ রোহিঙ্গা শরণার্থীকে ভাসান চরে স্থানান্তর করেছে। হাই কমিশনার গ্র্যান্ডি ভাসান চরে প্রয়োজনীয় মানবিক সহায়তার জন্য বর্ধমান কার্যক্রম লক্ষ্য করেন। তিনি ভাসান চরের শরণার্থীদের জন্য প্রত্যাশা করেন সরকারের চলমান দৃঢ় নেতৃত্ব, এবং বর্ধিত আকারের শিক্ষা, দক্ষতা বৃদ্ধি ও জীবিকামূলক কার্যক্রম।

এই বছর কক্সবাজারের ৯২০,০০০ রোহিঙ্গা শরণার্থী ও ৫৪০,০০০ স্থানীয় জনগণ – মোট প্রায় ১৪ লক্ষ মানুষের জন্য মানবিক সংস্থাগুলোর প্রয়োজন প্রায় ৮৮১ মিলিয়ন ডলার। ২০২২ সালের মে মাস পর্যন্ত এই জয়েন্ট রেসপন্স প্ল্যানের মাত্র ১৩ শতাংশের অর্থায়ন নিশ্চিত হয়েছে।