লেদায় চোরে শুনল না ধর্মের কাহিনী ; লুটকৃত মা*দ*কে*র ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া!

লেখক: নুরুল করিম রাসেল
প্রকাশ: ৪ years ago

বিশেষ প্রতিবেদক : টেকনাফের লেদায় মহান স্বাধীনতা দিবসে গুণীজন সংবর্ধনা এবং তাফসীরুল কুরআন মাহফিল চলাকালে মাদকসেবীদের মাতলামী আর মাদকের চালান লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এরপর ভাগ-বাটোয়ারায় মিল না হওয়ায় দূবৃর্ত্ত দুই গ্রæপের মধ্যে ধাওয়া এবং পাল্টা ধাওয়ার ঘটনায় এলাকায় তোলপাড়ের সৃষ্টি হয়েছে।

২৭ মার্চ দুপুর দেড়টারদিকে উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের লেদা লামারপাড়ায় রাতে ছিনতাইকৃত মাদকের চালানের ভা-বাটোয়ারায় বনিবনা না হওয়ায় সেভেন গ্রুপের সদস্য মৃত কাদের হোছনের পুত্র আব্দুর রহমান, আবুল কালামের পুত্র নছিম, মৃত মোঃ হোছনের পুত্র মোঃ নুর, নুর আহমদের পুত্র আকতার,মোহাম্মদ ইয়াছিন, মৃত মোহাম্মদ হোছনের পুত্র কামাল হোছন এবং মৃত কাদের হোছনের পুত্র আব্দুলাহ গ্রুপের সাথে আবুল কাশেমের পুত্র শামশু আলম, আহমদ হোছনের পুত্র খাইরুল আমিন, মুফিজুর রহমানের পুত্র মোঃ নুর, আলী হোছনের পুত্র নুর নবী এবং অজি উল্লাহর পুত্র মুফিজুর রহমান গংয়ের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। তা নিয়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।

উল্লেখ্য,স্থানীয়দের মতে গত ২৬মার্চ রাতে লেদা ইসলামী সমাজকল্যান পরিষদের উদ্যোগে গুণীজন সংবর্ধনা ও তাফসীরুল কুরআন মাহফিল চলাকালে পূর্ব লেদা বিল দিয়ে পশ্চিম লেদা রোহিঙ্গা বস্তিতে বসবাসকারী জনৈক শামসুল আলমের নেতৃত্বে মাদকের চালান খালাসের খবর পেয়ে সেভেন গ্রুপের সদস্যরা মদ্যপ অবস্থায় জনৈক ব্যক্তির ভূট্টা ক্ষেতে অবস্থান করছিল। এসময় একদল মাদক কারবারী সীমান্ত অতিক্রম করে প্রায় ৪০হাজার ইয়াবার চালান নিয়ে যাওয়ার সময় তাদের কবলে পড়ে। উপরোক্তরা তখন এই মাদকের চালান ছিনিয়ে নিয়ে ভাগ-বাটোয়ারা হয়েছে বলে জানা গেছে।

এই ব্যাপারে স্থানীয় লোকজনের সাথে কথা বলতে চাইলে মাদকের চালান ছিনতাইয়ের বিষয়টি নিশ্চিত করতে না পারলেও একদল মদ্যপায়ী অবস্থান করে শোরগোল করার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

এদিকে মাদকের চালান ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে উত্তেজনার জেরধরে দুপুরে লাঠি-সোটা ও অবৈধ অস্ত্র নিয়ে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনায় গভীর রাতে এই চক্রের অপকর্মের তথ্যটি ফাঁস হয়ে যায়। এই ঘটনার পর অনেকে বলতে শুনা গেছে চোরে শুনে না ধর্মের কাহিনী ; সেখানে এত বড় তাফসীরুল কুরআন মাহফিল করে কি বা লাভ হল।

তাফসীরুল কুরআন মাহফিল আয়োজক কমিটির সদস্য আব্দুর রহমান হাশেমী জানান, এই ঘটনাটি অবগত হওয়ার পর আমি চরম মর্মাহত। মহান আল্লাহ তাদের হেদায়ত দান করুক।

এই ব্যাপারে অভিযুক্তদের সাথে বার বার যোগাযোগ করে প্রকৃত ঘটনা সম্পর্কে জানতে চাওয়ার চেষ্টা করেও কারো বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

এই বিষয়ে জানতে চাইলে স্থানীয় মেম্বার নুরুল হুদার সাথে যোগাযোগ করা হলে মুঠোফোন রিসিভ না হওয়ায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার বিস্তারিত তথ্য জানা যায়নি।
আইন-শৃংখলা বাহিনীর একাধিক নির্ভরযোগ্য সুত্রের সাথে যোগাযোগ করা হলে এই ধরনের মাদকের চালান খালাস ও ছিনতাইয়ের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং এই ঘটনা জড়িতদের সনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে মন্তব্য করেন।
এদিকে সচেতন মহলের দাবী, তদন্ত স্বাপেক্ষে মাদক সেবন করে মাতলামী, মাদকের চালান খালাস ও লুটপাটের সাথে জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবী উঠেছে। ###