হ্নীলায় সুস্থ মানুষ যাতায়াত করলে অসুস্থ হয় যে সড়কে!

লেখক: নুরুল করিম রাসেল
প্রকাশ: ৪ years ago

সাদ্দাম হোসাইন : অসংখ্য খানাখন্দে ভরা টেকনাফের হ্নীলা পানখালী সড়ক। সংস্কার না করায় দিন দিন বাড়ছে ভাঙার পরিমাণ। যাত্রী আর চালকদের কাছে এখন মূর্তিমান আতঙ্ক হয়ে দাঁড়িয়েছে এই সড়কটি।

চলাচলের অনুপযুক্ত এই সড়কে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা, নষ্ট হচ্ছে যানবাহন। কিন্তু এসব দেখার কথা যাদের, তাদের মাথাব্যথা নেই বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের। তবে খোদ এলজিইডির কর্মকর্তা বলছেন, এই সড়কটি প্রায় ৬০ শতাংশের বেশি ক্ষতিগ্রস্ত।

পানখালী এলাকার প্রবীণ মুরব্বী হাজী আলি হোসেন আক্ষেপের কণ্ঠে বলেন, ‘ইভা রাস্তা নাকি অন্য কিছু, একবার গেলে সারা শরীল ব্যথা হয়া যায়, গাড়িত বইসে থাকা যায় না, সরকার কি দ্যাহে না আমাগারে কিরহম কষ্ট। এমন আক্ষেপ আর কষ্ট শুধু আলী হোসনের নয়। সবার মুখেই উচ্চারিত হচ্ছে এই দুর্ভোগের কথা।

যেকোন সুস্থ মানুষ এই সড়কে একবার যাতায়াত করলে অসুস্থ হয়ে পড়েন, সেখানে অসুস্থ মানুষকে হাসপাতালে নেওয়ার কথা ভাবাই যায় না। এমন বেহাল দশা হ্নীলা সড়কের। কোথাও ছোট, কোথাও বড় গর্ত, আবার কোথাও সড়কের এক পাশ থেকে আরেক পাশ সবটাই ভেঙে একাকার। এর মাঝেই চলছে ট্রাক, সিএনজি, অটোরিক্সাসহ সব যানবাহন।

অসংখ্য খানাখন্দে ভরা সড়কে চলাচল করতে একদিকে সীমাহীন দুর্ভোগে পড়ছেন সাধারণ মানুষ অন্যদিকে সময় ব্যয় হচ্ছে বেশি। পানখালী গ্রামের রাসেল, আব্দুল্লাহ, রহিম জানান, এ রাস্তা দিয়ে আর যাওয়ার উপায় নেই। খালি ভাঙা আর গর্ত। গাড়িতে বসে থাকা কঠিন হয়ে যায়। ঝাঁকুনিতে কোমর, পেট ব্যথা হয়ে যায়। মাঝে মধ্যে অ্যাক্সিডেন্ট হয়।

শুধু যাত্রীরাই নয়, হাজারো গর্তে ভরা সড়কে যাতায়াত করতে ভোগান্তির শেষ নেই চালকদেরও। মাঝে মধ্যেই ঘটছে দুর্ঘটনা, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে গাড়ি। অটোরিকশা চালক মুফিজ,আব্দুর রহমন, আশরাফুল ইসলাম জানান, হ্নীলা থেকে পানখালীর দূরত্ব ৫মিনিটের। এখন রাস্তা ভাঙার কারণে এখন যেতে সময় সময় লাগে ২০ মিনিট। আর যে পরিমাণ ভাঙা তাতে গাড়ি মাঝে মধ্যে নষ্ট হয়ে রাস্তায় পড়ে থাকে।

হ্নীলা পানখালী ৪নং ওয়ার্ড মেম্বার হোছাইন আহমদের ছোট ভাই মৌলভী আলী আহমদ জানান, কারণে অকারণে অন্যান্য গ্রামের মানুষকে এই রাস্তা দিয়ে যাতায়ত করতে হয় প্রতিনিয়ত। হ্নীলা-হোয়াইক্যংয়ের মানুষের চিকিৎসা সেবার জন্য একমাত্র হাসপাতাল হচ্ছে এসড়কে। চরম আশংকা ও উদ্বেগের কারণ হচ্ছে একজন মুমূর্ষ রোগী বা গর্ভধারিনী মা’কে যদি এই রাস্তা দিয়ে হাসপাতালে নিতে হয় তা হলে রিক্সা বা পরিবহনের ঝুাকুনিতে ঐ রোগী মারা যাওয়া কিংবা আরো প্রচন্ডভাবে রোগ বেড়ে যাওয়া এবং গর্ভবতী মায়ের মাঝপথেই ডেলিভারি হয়ে যাওয়ার প্রবল আশংকা রয়েছে।

এই ব্যাপারে টেকনাফ টুডে পরিবারের পক্ষ থেকে হ্নীলা ইউপি চেয়ারম্যান রাশেদ মাহমুদ আলীর সাথে যোগাযোগ করা হলে জানান,হ্নীলা পানখালী, ফুলের ডেইল এবং ঊলুচামরী কোনার পাড়া সড়কের সংস্কার বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনসহ উর্ধ্বতন মহলকে অবহিত করেছি। কি কারনে এসব সড়ক সংস্কার হচ্ছেনা বুঝে উঠতে পারছিনা।

এ বিষয়ে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও কথা বলতে রাজি হননি টেকনাফ উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী। তবে কক্সবাজার জেলা এলজিইডির সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী প্রতিপদ দেওয়ান জানান, হ্নীলা-বাহারছড়া সড়কের ৬০ ভাগের বেশি ভেঙে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত এই সড়কটি সংস্কারে বরাদ্দ হয়েছে, একসাথে অনেকগুলো সড়ক সংস্কার করতে হচ্ছে। তাই এ সড়কটি সংস্কারে বিলম্ব হচ্ছে। তবে তা যত তাড়াতাড়ি সম্ভব কাজ শুরু করবেন বলে জানান।