বার্তা পরিবেশক : হ্নীলায় দীর্ঘদিনের চলাচলের একটি পারিবারিক রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছে এক প্রভাবশালী মহল। অসহায় পরিবার রাস্তাটি উদ্ধারের জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
অভিযোগে জানা যায়, হ্নীলার প্রসিদ্ধ মরহুম মাষ্টার বি,এ কামালের ৬ সন্তানের মধ্যে বসত-ভিটা ভাগ করে দেওয়া হলেও সবার চলাচলের জন্য একটি রাস্তা রয়েছে। এই রাস্তাটি দিয়ে ৬ ভাইয়ের পরিবারের সকলে আসা-যাওয়া করে আসছে।
এক সময় মরহুম বি,এ কামালের বড় ছেলে শামসুল আনোয়ারের এক মেয়ের ঘরের নাতিনী স্বর্ণালংকারসহ পাশর্^বর্তী দোকানে আসে। ঐ সময় উক্ত শিশুর মামা শামসুদ্দিন ভূট্টো স্বর্ণালংকারটি লুটে নেয়। উক্ত ঘটনা রফিকুল আনোয়ারের পুত্র ফরিদুল আলম দেখতে পেয়ে বিষয়টি ঐ শিশুর পরিবারকে অবগত করার অপরাধে শামসুল আনোয়ার গং রফিকুল আনোয়ার এবং পরিজনকে মারধর করে বসত-বাড়িতে ভাংচুর চালায়। রফিকুল আনোয়ার গং তাদের নির্যাতনের মাত্রা সহ্য করতে না পেরে পৈত্রিক সম্পত্তি ও নামীয় বন্দোবস্তকৃত জমি ফেলে হোয়াইক্যংয়ে দৈংগ্যাকাটায় বসবাস শুরু করে।
তার ফেলে যাওয়া সম্পত্তি উদ্ধার এবং নির্যাতনের প্রতিকার চেয়ে হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদে সালিশ দায়ের করে। তৎকালীন চেয়ারম্যান এইচকে আনোয়ার এই বসত-ভিটার দখল বুঝিয়ে দেওয়ার পদক্ষেপ নিলেও তাঁর মৃত্যুজনিত কারণে পিছিয়ে যায়। আর এই কাজে রফিকুল আনোয়ারকে অপর ভাই খোরশেদ আনোয়ার গং সহায়তা করলে শামসুল আনোয়ার গং ক্ষুদ্ধ হয়ে সকলের চলাচলের রাস্তাটি বন্ধ করে দিয়ে নিজেরাই দখল করে নেয়। এই রাস্তাটি উদ্ধারের ব্যাপারে গত ১৪-০৩-২০১৭ইং হ্নীলা ইউনিয়নর পরিষদে বিচার দায়ের করা হয়। উক্ত সালিশে চলাচলের রাস্তাটি খুলে দেওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তুশামসুল আনোয়ার গং বিগত ২ বছর ধরে এই নির্দেশনা কার্যকর না করায় গত ১৩-০৭-২০১৯ইং ইউনিয়ন পরিষদকে বিষয়টি মৌখিকভাবে অবহিত করা হলে উভয়পক্ষকে ডাকা হয়। কিন্তু বিবাদী পক্ষ হাজির না হওয়ায় গত ২০-০৭-২০১৯ইং একটি লিখিত আদেশে উচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ প্রদান করেন।
এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার প্রতিকার চেয়ে উচ্চ আদালতে মামলার প্রস্তুতিকালে শামসুল আনোয়ার, তাঁর ছেলে শামসুদ্দোহা, মেয়ে জামাই ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের ইয়াবার তালিকাভূক্ত পলাতক আসামী আব্দুল মাবুদের পুত্র এরশাদুর রহমান, পুত্র শামসুদ্দিন ভূট্টো, মেহেদী হাসানসহ একটি গং খোরশেদ আনোয়ার ও রফিকুল আনোয়ার সহোদর গংকে ভিটা ছেড়ে চলে যাওয়ার হুমকি দিচ্ছে। অন্যথায় হামলা এবং প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে বলে ভূক্তভোগীরা অভিযোগ করে। ভূক্তভোগী পরিবার এই ব্যাপারে আইন-শৃংখলা বাহিনীর সহায়তা কামনা করেছেন।
