হ্নীলায় পথহারা বন্য শুকরকে গুলিবর্ষণ ; আক্রমনে আহতদের মধ্যে ১জনের অবস্থা আশংকাজনক!

লেখক: নুরুল করিম রাসেল
প্রকাশ: ৪ years ago

বিশেষ প্রতিবেদক : হ্নীলায় বন থেকে আসা পথ ভ্রান্ত এক বন্য শুকরকে অবৈধ অস্ত্র দিয়ে গুলিবর্ষণের পর উগ্র হয়েপড়া শুকরের আক্রমনে ক্ষেতে কর্মরত কৃষকসহ ২জন আহত হয়েছে। তম্মধ্যে কৃষক খলিলুর রহমানের অবস্থা আশংকাজনক বলে জানা গেছে। এলাকায় চিহ্নিত অবৈধ অস্ত্রধারীদের কঠোর হাতে দমনের দাবী উঠেছে।
3 2 TEKNAF TODAY - সীমান্তের সর্বশেষ খবর
জানা যায়,৭ফেব্রুয়ারী সকাল পৌনে ১০টারদিকে হ্নীলা পানখালী প্রাইমারী স্কুল সংলগ্ন এলাকা থেকে একটি বন্য শুকর পথভ্রান্ত হয়ে লোকালয়ে বের হয়। তা উৎসুক লোকজন দেখতে পেয়ে ধাওয়া করলে শুকরটি পালিয়ে মরিচ্যাঘোনার রাস্তার পূর্বপাশে লোকালয়ে অবস্থান নেয়। এই শুকরটি দেখতে পেয়ে দীর্ঘদিন ধরে বন্য পশু শিকারে লিপ্ত স্থানীয় মৃত ফজলুল করিমের পুত্র মোহাম্মদ হোছাইন অবৈধ অস্ত্র দিয়ে ২ রাউন্ড গুলিবর্ষণ করে। গুলিবিদ্ধ শুকর বনের দিকে পালাতে গিয়েই রাস্তার পশ্চিমে ক্ষেতে কর্মরত আলী আকবর পাড়ার আবুল হোছনের পুত্র খলিলুর রহমান (৪৫) কে আক্রমণ করে আছড় দিয়ে গুরুতর রক্তাক্ত করে। এরপর মরিচ্যাঘোনা এলাকার আবুল হাশেমের পুত্র জুলফিকার, ফরিদের পুত্র আব্দুল্লাহ, সরওয়ারের পুত্র রাসেল, মীর কাশেমের পুত্র খাইরুল বশরসহ আরো ১০/১৫জন দা-কিরিচ, লোহার রড ও লাঠি নিয়ে ধাওয়া করলে পালানোর সময় ফরিদের পুত্র জসিম (২৫) কে আছড় দিয়ে ভূট্টা বাগানে ঢুকে পড়ে। তখন বাগানোর চারদিক থেকে ঘেরাও করে কিরিচ দিয়ে কুপিয়ে ও লাঠি দিয়ে পিটিয়ে শুকরটিকে দূর্বল করে ফেলে। এই ঘটনা দেখার জন্য পার্শ্ববর্তী এলাকার শত শত মানুষ উপস্থিত হয়। পরে হোয়াইক্যং খারাংখালীর রাখাইনদের নিকট ১৫হাজার টাকায় বিক্রি করে। এসব টাকা আহতদের চিকিৎসার জন্য প্রদান করা হয় বলে জানা গেছে।
2 2 TEKNAF TODAY - সীমান্তের সর্বশেষ খবর
এদিকে বন্য শুকরের আক্রমণে আহতদের চিকিৎসার জন্য লেদা আইওএম হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর খলিলুর রহমানের অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় কক্সবাজার হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে।

এই ব্যাপারে স্থানীয় মেম্বার বশির আহমদ বলেন,আমি কাজে এলাকার বাহিরে ছিলাম। বিকালে এলাকায় ফিরে এই ঘটনা জানতে পারি। আহতদের মধ্যে খলিলের অবস্থা সংকটাপন্ন বলে জানা গেছে।

হ্নীলা বনবিট কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেনের সাথে যোগাযোগ করা হলে বলেন,আমি অফিসের কাজে আদালতে এসেছি। এই বিষয়ে জানতে পারিনি। আপনার নিকট থেকে জানার পর খোঁজ নিয়ে দেখছি।

এই ব্যাপারে টেকনাফ রেঞ্জ কর্মকর্তা আবুল কালাম জানান, আমরা অন্য একটা অভিযানে ছিলাম। বিষয়টি কেউ আমাদের অবহিত করেনি। খবর পেলে শুকরটিকে জীবিত উদ্ধার করা যেত। আপনাদের মাধ্যমে বিষয়টি যখন জেনেছি। খোঁজ-খবর নিয়ে এই ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত গুরুতর আহত খলিলের স্বজনদের সাথে যোগাযোগ করা হলে বলেন, এখনো বেঁচে আছে। ডাক্তার এখনো সেলাই করেনি। চিকিৎসার জন্য কমপক্ষে দেড় দুই লাখ টাকা লাগতে পারে বলে জানা গেছে। এই দরিদ্র মানুষটি সংশ্লিষ্টদের নিকট চিকিৎসা সহায়তা কামনা করেছেন।

এলাকার সচেতনমহল মনে করেন,এই বন্য প্রানীটিকে অবৈধ অস্ত্র দিয়ে গুলিবর্ষণ করা না হলে সে নিরাপদে বনে চলে যেত এবং এত বড় একটি দূঘর্টনার সুত্রপাত হত না। এই দূর্গম এলাকায় একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে বন্যপশু শিকার করে আসছে এবং নিজেদের ইচ্ছেমতো ফাঁকাগুলি বর্ষণ করে এলাকায় আতংক সৃষ্টি করে বেড়ায়। চিহ্নিত এসব অবৈধ অস্ত্রধারী এবং বন্যপশু শিকারীদের আইনের আওতায় আনার জোর দাবী উঠেছে। ###