ফরিদুল আলম : টেকনাফের হোয়াইক্যংয়ে দুইটি অবৈধ ব্রিকফিল্ড ভাঙ্গতে হাইকোর্টের রুলের আলোকে উপজেলা প্রশাসন যাবতীয় যন্ত্রপাতি নিয়ে অভিযানে যায়। ভাংচুর চালিয়ে আদালতের নির্দেশনামতে বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়।
২০নভেম্বর (শনিবার) দুপুরে টেকনাফ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মোঃ এরফানুল হক চৌধুরীর নেতৃত্বে উপজেলা প্রশাসনের বিশেষ টিম,ফায়ার ব্রিগেড ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্য,ব্রিকফিল্ড ভাঙ্গা স্কেলেভেটরসহ যাবতীয় উপকরাণাদি নিয়ে উপজেলার হোয়াইক্যং দৈংগ্যাকাটা এলাকায় এএইচবি এবং এমকেবি ব্রিকফিল্ডে যায়। ব্রিকফিল্ড এলাকায় থাকা স্থাপনা ও কাঁচা ইট ভেঙ্গে তছনছ করে দিয়ে এসব ব্রিকফিল্ড চালু না করার জন্য কঠোর নির্দেশনা প্রদান করা হয়।

এই ব্যাপারে টেকনাফ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মোঃ এরফানুল হক চৌধুরী বলেন,আমরা অভিযানে গিয়ে ব্রিকফিল্ড বন্ধ পায়। সেখানে কিছু কাঁচা ইট পাওয়া যায় তা ধ্বংস করা হয়েছে। মালিক পক্ষকে ডেকে হাইকোর্টের নির্দেশনার আলোকে এই ব্রিকফিল্ড দুইটি বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়।
ব্রিকফিল্ড এ্যাক্ট অমান্য করে জনৈক মীর কাশেম এমকেবি ব্রিকস এবং মোঃ আবুল হাসেম প্রভাব খাঁটিয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়াই ব্রিকফিল্ড দুইটি চালু করে। এসব ব্রিকফিল্ডে কয়লার পরিবর্তে রাতের অন্ধকারে রাতে চুল্লিতে বনের কাঠ ঢুকানো হয়। এ কারণে পাহাড়ি বন ও সামাজিক বনায়নের গাছ উজাড় হচ্ছে। আর ব্রিকফিল্ডের সন্নিকটে ১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়,১টি সরকারি ক্লিনিক, ২টি মসজিদ, ফসলি জমি ও বনবিভাগের বাগানসহ জনবসতি রয়েছে। যা ব্রিকফিল্ড স্থাপন ও নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৩ এর লংঘন। এই ইটভাটার কারণে শিশুদের শ্বাসকষ্ট, অ্যাজমা, ক্যান্সারসহ বহু জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।

তাই এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে এই দুটি ব্রিকফিল্ড বন্ধ করার জন্য হাইকোর্টে রিট করে। যার নং-৬৯৪৬/২১। এই রিটের আলোকে গত ৮নভেম্বর ইটভাটা দুটি ভাঙ্গার জন্য রুল ইস্যু করে আদালত। উক্ত রুলটি কক্সবাজার জেলা প্রশাসক, পরিবেশ অধিদপ্তর ও টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর প্রেরণ করে আগামী ২২ নভেম্বরের মধ্যে ইটভাটা দুটি কেন ভাঙ্গা হবে মর্মে জানতে চাওয়া হয়। এরই সুত্রধরে অভিযান চালানো হয়। ##
