রোহিঙ্গাদের দ্রুত প্রত্যাবাসন ও স্থানান্তরের দাবী : উখিয়ায় প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তারা

লেখক: নুরুল করিম রাসেল
প্রকাশ: ৯ years ago

মুহাম্মদ হানিফ আজাদ, উখিয়া :
উখিয়া- টেকনাফ ও কক্সবাজার সহ সর্বত্র ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা মিয়ানমারের অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গা মুসলিমদের স্বদেশে দ্রুত প্রত্যাবাসন ও নির্দ্দিষ্ট স্থানান্তরের দাবি জোরদার হচ্ছে। কক্সবাজার জেলা সর্বত্র অন্তত তিন লক্ষাধিক রোহিঙ্গা নাগরিকদের অবস্থান করায় এতদাঞ্চলের গণমানুষের দুর্ভোগ ও আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির ক্রমাবনতি গড়ছে ব্যাপক হারে। মিয়ানমার নাগারিকদের দ্রুত প্রত্যাবাসন অথবা নির্দ্দিষ্ট স্থানে স্থানান্তরের দাবিতে গতকাল মঙ্গলবার উখিয়া সদরে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ও অনুপ্রবেশ প্রতিরোধ সংগ্রাম কমিটি এক প্রতিবাদ সভা আবদুল আলম ফকিরের সভাপতিত্বে বিকাল ৫ টায় অনুষ্ঠিত হয়েছে। উক্ত সভায় বক্তারা এ কথা বলেছেন। বক্তারা আরো বলেন, রোহিঙ্গারা দেশ ও জাতির শত্র“। তারা চোরি, ডাকাতি, রাহাজানী, ছিনতাই, অত্যাচার সহ এমন কোন কাজ নাই করছে না। দেশের নিরাপত্তার হুমকি রোহিঙ্গারা।
উক্ত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ও অনুপ্রবেশ প্রতিরোধ সংগ্রাম কমিটির আহবায়ক উখিয়া বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মহিলা কলেজ অধ্যক্ষ হামিদুল হক চৌধুরী বলেন, দীর্ঘ দুই যুগের বেশি সময় ধরে উখিয়া ও টেকনাফ সীমান্ত এলাকায় ক্যাম্প ও বস্তি গড়ে তুলে প্রায় লক্ষাধিক রোহিঙ্গা অবস্থান করছে। এতে স্থানীয় দরিদ্র অসহায় শ্রমজীবি মানুষের জীবনমান ক্রমে অবনতির দিকে যাচ্ছে। সারাদেশের চেয়ে উখিয়া ও টেকনাফ এলাকায় দারিদ্রতার হার, অপুষ্টির হার, শিক্ষার হার, বাল্য বিহারে হার সহ সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনি প্রায় ভেঙ্গে পড়েছে। রোহিঙ্গারা সস্তায় শ্রম দেওয়ায় স্থানীয় শ্রমজীবি মানুষের মাঝে দারিদ্র্যের পরিমাণ বেড়ে চলছে। এছাড়াও গত বছর এ রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীরা টেকনাফের নয়াপাড়া শরনার্থী শিবিরের দায়িত্বরত সশস্ত্র আনসার বাহিনীর ব্যাকে হামলা চালিয়ে একজন গর্বিত আনসার সদস্যকে হত্য করে বিপুল পরিমাণের সরকারি অস্ত্র ও গোলাবারুদ লুট করে নিয়ে যায়। সর্বপুরি আরো প্রায় ৬০হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়ে সার্বিক আইন শৃঙ্খলা ও সামাজিক পরিস্থিতির অবনতি ঘটাচ্ছে বলে রোহিঙ্গা সংগ্রাম কমিটির আহবায়ক জানান। তিনি অভিযোগ করে বলেন, অদূর ভবিষ্যতে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গারা এদেশের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের প্রতি হুমকি হয়ে দাড়াবার আশংখ্যা করছি। তাই বাংলাদেশে অবস্থানকারী রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন কার্যক্রম বিলম্ব হলে অতিদ্রুত সময়ের মধ্যে এসব রোহিঙ্গাদের একটি নির্দ্দিষ্ট স্থানে আশ্রয় শিবিরে স্থানান্তরের দাবি সর্বস্তরের গণমানুষের। তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সঠিক ব্যবস্থা নেওয়া না হলে পাড়ায় সংগ্রাম কমিটি গঠন করে প্রতিবাদ সভা করা হবে। তিনি আরো বলেন, মিয়ানমার থেকে অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গাদের দ্রুত ঠেঙ্গারচরে স্থানান্তর অথবা সরকারের কুটনৈতিক প্রচেষ্টায় মিয়ানমারে প্রত্যাবাসন তরান্বিত করার দাবী জানান।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জেলা আওয়ামীলীগের সদস্য আবুল মনছুর চৌধুরী বলেন, দেশের নিরাপত্তার হুমকি স্বরূপ রোহিঙ্গারা। তাদেরকে স্বদেশে প্রত্যাবাসন ও প্রধানমন্ত্রী যে উদ্যোগ নিয়েছে তাতে নিয়ে যাওয়া হোক। তারা এমন কোন অনৈতিক কর্মকান্ড নেই করে না। মিয়ানমার সময়ে সময়ে তাদের অভ্যন্তরে হামলা চালিয়ে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে তাড়িয়ে দেয়। আর রোহিঙ্গারাও অভাব অনাটনে পড়ে নানার বাড়ির আবদারের মত সহজেই বাংলাদেশের সীমান্ত পেরিয়ে অনুপ্রবেশ করে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। এসব আশ্রিত রোহিঙ্গারা আমাদের বনজ, প্রাকৃতিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় সম্পদ একের পর এক ধ্বংস করে চলছে। রোহিঙ্গা এ দেশীয় পাসপোর্ট নিয়ে দেশের বিভিন্ন জায়গায় আইন প্রয়োগনকারী সংস্থার হাতে ধরা পড়ে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করছে।
উখিয়া সদর ষ্টেশন একরাম মার্কেট চত্বরে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ প্রতিরোধ ও প্রত্যাবাসন সংগ্রাম কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত প্রতিবাদ সভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন উখিয়া প্রেস ক্লাবের সভাপতি রফিকুল ইসলাম, নুর মুহাম্মদ সিকদার, ইউপি সদস্য বখতিয়ার আহমদ, রাসেল উদ্দিন সুজন, মাসুদ আমিন শাকিল ও নুর মোহাম্মদ শেখর প্রমূখ।