এম.জিয়াবুল হক, চকরিয়া :
আগামী ২৮ নভেম্বর তৃতীয় ধাপে অনুষ্ঠিতব্য কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার ১০ ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে দলীয় প্রতীক নৌকা চাইলেন ২৪ প্রার্থী। এছাড়াও পেকুয়া উপজেলার ছয় ইউপিতে নৌকার মনোনয়ন পেয়ে জেলা আওয়ামীলীগের কাছে ফরম জমা দিয়েছেন ২৪ প্রার্থী। রোববার ১৭ অক্টোবর কক্সবাজার জেলা আওয়ামীলীগের কার্যালয়ে বিশেষ বর্ধিত সভায় চকরিয়া, মাতামুহুরী ও পেকুয়া উপজেলার ১৬ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে মোট ৭০ জন আওয়ামীলীগের বিভিন্নস্তরের নেতা দলীয় প্রতীক নৌকা চেয়ে ফরম জমা দিয়েছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কক্সবাজার জেলা আওয়ামীলীগের সহসভাপতি ও চকরিয়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান রেজাউল করিম।
জানা গেছে, আগামী ২৮ নভেম্বর অনুষ্ঠিতব্য চকরিয়া উপজেলার (মাতামুহুরী সাংগঠনিক উপজেলা) বদরখালী ইউনিয়নে নৌকা চেয়েছেন ৫ জন। তাঁরা হলেন ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি সাবেক চেয়ারম্যান নুরে হোছাইন আরিফ, ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক একে ভুট্টো সিকদার, বদরখালী সমিতির সাবেক সম্পাদক প্রবীণ আওয়ামীলীগ নেতা দেলওয়ার হোছাইন, শেখ সালাহ উদ্দিন ও ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি হাজি হামিদ উল্লাহ। পশ্চিম বড় ভেওলা ইউনিয়নে নৌকা চেয়েছেন ৫জন। তারা হলেন মাতামুহুরী উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি বর্তমান চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বাবলা, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা অ্যাডভোকেট রবিউল এহেছান লিটন, ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি ডা.গিয়াস উদ্দিন, সাবেক মেম্বার নিয়ামত উল্লাহ মনু, মাতামুহুরী উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক কাইছারুল বাচ্চু।
ঢেমুশিয়া ইউনিয়নে নৌকা প্রত্যাশী হয়েছেন ৬জন। তাঁরা হলেন মাতামুহুরী উপজেলা আওয়ামীলীগের সহসভাপতি মইন উদ্দিন চৌধুরী, চকরিয়া উপজেলা পরিষদের সাবেক নারী ভাইস চেয়ারম্যান জাহানানা পারভীন, সাবেক চেয়ারম্যান রোস্তম আলীর স্ত্রী মমজাত বেগম, অ্যাড আমির হোসেন হাজারী, মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ হোসেন, ছাত্রলীগের সভাপতি আসফি চৌধুরী। কোনাখালী ইউনিয়নে নৌকা চাইলেন চারজন। তাঁরা হলেন ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি ও বর্তমান চেয়ারম্যান দিদারুল হক সিকদার, আওয়ামীলীগ নেতা জাফর আলম ছিদ্দিকী, সোলতান মাহমুদ টিপু, চবি ছাত্রলীগ নেতা মনছুর আলম।
বিএমচর ইউনিয়নে নৌকা চেয়ে ফরম জমা দিয়েছেন তিনজন। তাঁরা হলেন ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি সাবেক চেয়ারম্যান বদিউল আলম, সাবেক ছাত্রনেতা তোফায়েল আহমদ ও ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সম্পাদক শহীদুল ইসলাম খোকন। পুর্ববড় ভেওলা ইউনিয়নে নৌকা চেয়েছেন চারজন। তাঁরা হলেন মাতামুহুরী উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সম্পাদক খলিল উল্লাহ চৌধুরী, সম্প্রতি সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত আওয়ামীলীগ নেতা নাছির উদ্দিন নোবেলের স্ত্রী ফারহানা আফরিন মুন্না, সাবেক চেয়ারম্যান ইব্রাহিম খলিল, ইউনিয়ন কৃষকলীগের সভাপতি কামরুজ্জামান সোহেল। সাহারবিল ইউনিয়নে নৌকার প্রার্থী হয়েছেন তিনজন। তাঁরা হলেন মাতামুহুরী উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান চেয়ারম্যান মহসিন বাবুল, চকরিয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহসভাপতি ছরওয়ার আলম, সাবেক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হাজী মোজাহের আহমদ। কাকারা ইউনিয়নে নৌকা চেয়েছেন ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি ও বর্তমান চেয়ারম্যান শওকত ওসমান, উপজেলা আওয়ামীলীগের বন ও পরিবেশ সম্পাদক সাহাব উদ্দিন, ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নাজিম উদ্দিন, ছাত্রলীগ নেতা ইসমত আলী। কৈয়ারবিল ইউনিয়নে নৌকার প্রার্থী হয়েছেন সদ্য প্রবাস ফেরত আফজালুর রহমান ও চকরিয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের মহিলা সম্পাদক জন্নাতুল বকেয়া রেখা। লক্ষ্যারচর ইউনিয়নে নৌকা চেয়েছেন পাঁচজন। তাঁরা হলেন ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি রেজাউল করিম সেলিম, সাধারণ সম্পাদক খম বুলেট, যুবলীগের সাবেক সভাপতি সাইকুল ইসলাম, আওয়ামীলীগ নেতা এমএ রাশেদ, মহিউদ্দিন মোমেন।
অন্যদিকে পেকুয়া উপজেলার মগনামা ইউনিয়নে নৌকা চেয়েছেন সাবেক চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি খাইরুল এনাম, পেকুয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সদস্য ও জেলা ছাত্রলীগের সাবেক নেতা সাংবাদিক ফরহাদ ইকবাল, আওয়ামীলীগ নেতা নাজিম উদ্দিন, খোরশেদুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট মোজাম্মেল। উজানটিয়া ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান এটিএম শহীদুল ইসলাম চৌধুরী, ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি তোফাজ্জল, হোসেন, সাংবাদিক আকরাম হোসেন, প্রবাসি ছাদেকুর রহমান। পেকুয়া সদর ইউনিয়নে নৌকার মনোনয়ন চেয়েছেন পাঁচজন। তারা হলেন উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম, সহ-সভাপতি সাংবাদিক জহিরুল ইসলাম, আওয়ামীলীগ নেতা মাহাবুবুল আলম মুকুল, বেলাল উদ্দিন বিএসসি, ওমর রিয়াদ চৌধুরী। বারবাকিয়া ইউনিয়নে নৌকার প্রার্থী হয়েছেন জেলা আওয়ামীলীগের সদস্য জিএম আবুল কাশেম, পেকুয়া উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মো.বারেক, পেকুয়া উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি কফিল উদ্দিন বাহাদুর, এসএম জাকারিয়া, সালাহ উদ্দিন। শীলখালী ইউনিয়নে নৌকা চেয়েছেন গতবারের প্রার্থী উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংস্কৃতিক সম্পাদক কাজিউল ইনসান, আওয়ামীলীগ নেতা নুরুল আলম। রাজাখালী ইউনিয়নে নৌকার মনোনয়ন চেয়ে ফরম জমা দিয়েছেন তিনজন। তাঁরা হলেন সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম বাবুল, বর্তমান চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি ছৈয়দ নুর, সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন।
তৃতীয় ধাপে অনুষ্ঠিতব্য কক্সবাজার জেলার চকরিয়া, মাতামুহুরি ও পেকুয়া উপজেলার ১৬টি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী চেয়ারম্যান প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার সম্পন্ন হয়েছে। রোববার (১৭ অক্টোবর) সকাল ১০ টায় ১৬টি ইউনিয়নে ৭০ জন চেয়ারম্যান প্রার্থী আওয়ামী লীগের মনোনয়ন তথা নৌকার মাঝি হতে চায়। তাদের সবার সাক্ষাৎকার নেন জেলা আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বোর্ড।
কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এড. ফরিদুল ইসলাম চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক পৌর মেয়র মুজিবুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সালাহ উদ্দিন আহমদ সিআইপি, শাহ আলম চৌধুরী রাজা, রেজাউল করিম, আশেক উল্লাহ রফিক এমপি, মাহবুবুল হক মুকুল, এড. রনজিত দাশ, ইউনুছ বাঙালি, হেলাল উদ্দিন কবির, এড. তাপস রক্ষিত, এম.এ মনজুর, জিয়া উদ্দিন, মেয়র মকসুদ মিয়া, গিয়াস উদ্দিন, উম্মে কুলসুম মিনু, মিজানুর রহমান ও জি,এম কাশেম।
অনুষ্ঠানে জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এড. ফরিদুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ‘কিছু প্রার্থী নিজেকে জনপ্রিয় মনে করে নৌকার বিরুদ্ধে দাঁড়াচ্ছে। এতে দলীয় কোন্দল দূর করা যায় না। সাংগঠনিক দুর্বলতা দেখা দেয়। তৃণমূলের রাজনীতিতে ঐক্য ধরে রাখতে আমরা যাকে যোগ্য মনে করবো তাকেই মনোনয়ন দেবো। মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে সবাইকে এক হয়ে কাজ করতে হবে।’
জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পৌর মেয়র মুজিবুর রহমান বলেন, ‘নির্বাচনে একবার বিদ্রোহী প্রার্থী হলে ওই নেতাকে আর কখনই নৌকা প্রতীক দেওয়া হবে না। শুধু তাই নই, ওই বিদ্রোহী প্রার্থীকে আজীবনের জন্য দলীয় পদ থেকে অব্যাহতিও দেওয়া হবে। আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিদ্রোহী প্রার্থী ঠেকাতে এই ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা। তিনি সকল মনোনয়ন প্রত্যাশীদের দলীয় প্রতীকের পক্ষে কাজ করে দলীয় প্রার্থীর বিজয় নিশ্চিত করার অনুরোধ জানান।’##
