আজ সাংবাদিক ও সাহিত্যিক আবু জাফর শামসুদ্দীনের মৃত্যু দিবস

লেখক: নুরুল করিম রাসেল
প্রকাশ: ৫ years ago

টেকনাফ টুডে ডেস্ক : ১৯৮৮ সালের এই দিনে মৃত্যুবরণ করেন সাংবাদিক ও সাহিত্যিক আবু জাফর শামসুদ্দীন। ১৯১১ সালের ১২ মার্চ গাজীপুরের দক্ষিণবাগ গ্রামে তার জন্ম। বাবা মোহাম্মদ আক্কাছ আলী ভূঁইয়া। গ্রামের প্রভাত পণ্ডিতের পাঠশালায় ভর্তি হয়েছিলেন তিনি। এরপর জুনিয়র মাদ্রাসা ও হাই-মাদ্রাসা হয়ে ঢাকা ইন্টারমিডিয়েট কলেজে ভর্তি হলেও এক দিন পড়ালেখা ছেড়ে দেন। দৈনিক সোলতান পত্রিকায় সাব-এডিটর হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। পরে আজাদ, ইত্তেফাক, পূর্বদেশ ও সংবাদ পত্রিকায় বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেন। খুলনা, কলকাতা ও কটকে কিছুকাল সরকারি চাকরিও করেছেন। ১৯৬১ থেকে ১৯৭২ সাল পর্যন্ত বাংলা একাডেমিতে সহকারী অনুবাদকের পদে নিযুক্ত ছিলেন। ‘অল্পদর্শী’ ছদ্মনামে দৈনিক সংবাদে প্রকাশিত তার ‘বৈহাসিকের পার্শ্বচিন্তা’ শীর্ষক সাপ্তাহিক কলাম ছিল খুবই জনপ্রিয়। ভাষা আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছেন। প্রথম জীবনে এম এন রায়ের রেডিক্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ভাসানীর নেতৃত্বে ন্যাপ গঠিত হলে তিনি প্রাদেশিক সাংগঠনিক কমিটির সদস্য নির্বাচিত হন। আবু জাফর ছিলেন ধর্মনিরপেক্ষ, বাঙালি জাতীয়তাবাদ ও সমাজতান্ত্রিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় বিশ্বাসী প্রগতিশীল লেখক। তিনি বাংলাদেশ শান্তি পরিষদ, বাংলাদেশ হিউম্যানিস্ট সোসাইটি, বাংলা একাডেমির কার্যনির্বাহী পরিষদ, বাংলাদেশ আফ্রো-এশীয় লেখক ইউনিয়ন, বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী সমিতিসহ বিভিন্ন সংগঠনে যুক্ত ছিলেন। অনেক উপন্যাস, গল্প ও প্রবন্ধ লিখেছেন। তার রচনার মধ্যে আছে উপন্যাস ‘ভাওয়ালগড়ের উপাখ্যান’, ‘পদ্মা মেঘনা যমুনা’, ‘সংকর সংকীর্তন’ ও ‘দেয়াল’। গল্পগ্রন্থ ‘জীবন’, ‘রাজেন ঠাকুরের তীর্থযাত্রা’ প্রভৃতি। বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার, সমকাল সাহিত্য পুরস্কার, একুশে পদকসহ অনেক স্বীকৃতি পেয়েছেন তিনি।