টেকনাফ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের শহিদ মিনার অযত্ন আর অবহেলায়

লেখক: নুরুল করিম রাসেল
প্রকাশ: ৫ years ago

রহমত উল্লাহ : কাল বাদে পরশুই আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও শহিদ দিবস। যথাযোগ্য মর্যাদায় সারাবিশ্বে এই দিনটি পালন করা হলেও অযত্ন ও অবহেলায় পড়ে আছে টেকনাফ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের শহীদ মিনারটি।

একযুগ আগে ভাষা শহিদদের স্মরণে নির্মিত হয় একটি পাকা শহিদ মিনার। কিন্তু নির্মাণের পর থেকেই রক্ষণাবেক্ষণ আর অযত্ন-অবহেলায় শহিদ মিনারটি এখন পরিণত হয়েছে ময়লার ভাগাড়ে। আর স্কুল ছেলেরা মোটর সাইকেলের পার্কিং হিসেবে ব্যবহার করছে।

স্থানীয়রা জানায়, প্রতি বছর ২১ ফেব্রুয়ারি এলে ও কোনো পরিষ্কার করা হয় না। আশে পাশের দোকানের সমস্ত ময়লা আবর্জনা এখানে ফেলা শুরু করে। শহিদ মিনারের বেহাল দশা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ ও দ্রুত রক্ষণাবেক্ষণের দাবি জানিয়েছেন সাংস্কৃতিক কর্মীসহ উপজেলার বিশিষ্টজনেরা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, টেকনাফ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে প্রবেশদ্বারের বামপাশেই ঘেঁষে নির্মাণ করা হয়েছে শহিদ মিনারটি। মিনারের চারপাশ ও মিনারের উপরে ময়লা-আবর্জনার স্তূপ। সন্ধ্যার পরে শহীদ মিনারটির পাশে বসে মাদকসেবীদের আখড়ায় পরিণত হয়। আবর্জনার দুর্গন্ধে সাধারণ মানুষের চলাফেরা বিঘ্নিত হওয়ায় বেওয়ারিশ কুকুরের একমাত্র রাত্রিযাপনের স্থান হয়ে দাঁড়িয়েছে শহিদ মিনারটি। পরিষ্কার করার কথা থাকলেও দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষের সেদিকে নজর নেয়। তাই ফেব্রুয়ারি ঝকঝকে শহীদ মিনার বছরের অন্য সময়টায় থাকে অপরিষ্কার।

টেকনাফ উপজেলার আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা জাহেদ হোসেন বলেন, ভাষা শহিদদের ত্যাগের বিনিময়ে আমরা মাতৃভাষা বাংলা পেয়েছি। আর ভাষা শহীদদের স্মৃতি ও আত্মত্যাগের সঠিক ইতিহাস প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতেই দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ পাড়া-মহল্লায় ও গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে শহিদ মিনার তৈরি করা হয়। শহিদ মিনার শুধু একদিন ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর জন্য নয়। শহিদ মিনার এভাবে ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হলে এ প্রজন্মের কাছে শহীদ মিনারের গুরুত্ব কমে যাবে।

টেকনাফ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘বিষয়টি এর আগে কেউ আমাকে জানায়নি। শহিদ মিনার রক্ষণাবেক্ষণ, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।