‘ভারসাম্যহীন’ ট্রাম্প থেকে পরমাণু অস্ত্রের নিয়ন্ত্রণ কেড়ে নেওয়ার দাবি

লেখক: নুরুল করিম রাসেল
প্রকাশ: ৫ years ago

টেকনাফ টুডে ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রের পার্লামেন্ট ভবন ক্যাপিটলে সমর্থকদের তাণ্ডবের পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়ার গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। তবে তার আগেই ট্রাম্পের হাত থেকে পরমাণু অস্ত্রের নিয়ন্ত্রণ কেড়ে নেওয়ার দাবি উঠেছে।

এমন সময় এ দাবি উঠেছে, যখন পরমাণু বোমা হামলার জন্য তৈরি মার্কিন স্ট্র্যাটেজিক বোম্বার তথা বোমারু বিমান ইরানের আকাশসীমার কাছাকাছি চক্কর দিয়েছে বলে জানিয়েছে আলজাজিরা।

আনন্দবাজার জানায়, ট্রাম্পকে ‘ভারসাম্যহীন’ আখ্যা দিয়ে ট্রাম্পের কাছ থেকে পরমাণু অস্ত্রের নিয়ন্ত্রণ কেড়ে নেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

ট্রাম্পকে ‘ভারসাম্যহীন’ আখ্যা দিয়ে কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, ট্রাম্প পরমাণু হামলাও চালাতে পারেন।

বিদায়ী প্রেসিডেন্টকে ‘ঠেকাতে’ আমেরিকার শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।

পাশাপাশি ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিশংসনের প্রক্রিয়া শুরু করারও উদ্যোগ নিয়েছেন পেলোসি।

তিনি বলেন, ‘কার্যকালের শেষ পর্যায়ে ভারসাম্যহীন প্রেসিডেন্ট দেশে যাতে সামরিক সংঘাত শুরু না করতে পারেন অথবা পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডারের লঞ্চকোড তার হাতে না আসে কিংবা পারমাণবিক হামলা শুরুর নির্দেশ দিতে না পারেন, সে বিষয়ে সমস্ত সতর্কতা নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা করেছি।’

ট্রাম্পকে ‘রুখতে’ কী কী সতর্কতামূলক ব্যবস্থা বিবেচনায় রয়েছে, সে বিষয়ে জয়েন্ট চিফস চেয়ারম্যান মার্ক মিলির সঙ্গে কথা বলেছেন বলেও জানিয়েছেন পেলোসি।

এ নিয়ে ডেমোক্র্যাট নেতাদের ইতোমধ্যেই একটি চিঠি দিয়েছেন তিনি। ওই চিঠিতে পেলোসি জানিয়েছেন, বিদায়ী প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প স্বেচ্ছায় সরে না গেলে তার বিরুদ্ধে অভিশংসনের প্রক্রিয়া শুরু করতে প্রস্তুত তারা।

এমনকি বিদায়ী ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স অভিশংসন প্রক্রিয়া শুরু না করলে সেই প্রক্রিয়া তিনিই শুরু করবেন বলেও জানান হাউস স্পিকার।

উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের আইনপ্রণেতারা বুধবার যখন নভেম্বরের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জো বাইডেনের জয় আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন করার জন্য অধিবেশনে বসেছিলেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শত শত সমর্থক তখন আইনসভা কংগ্রেসের ভবন ক্যাপিটলে ঢুকে পড়ে। তারা কয়েক ঘণ্টা ভবন কার্যত দখল করে।

শত শত বিক্ষোভকারী ভবনটিতে ঢুকে পড়ে আর পুলিশকে কংগ্রেস সদস্যদের নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নিতে দেখা যায়। কয়েক ঘণ্টা ভবন কার্যত দখল করে রাখার পর বিক্ষোভকারীরা ধীরে ধীরে ক্যাপিটল প্রাঙ্গণ ছেড়ে বাইরে চলে যেতে থাকে।

ওই দিনের ঘটনায় এখন পর্যন্ত এক পুলিশ সদস্যসহ পাঁচজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। ভবনের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় পদত্যাগ করেছেন ক্যাপিটল পুলিশ প্রধান।

ক্যাপিটল ভবনে হামলার ঘটনায় বিদায়ী প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প উস্কানিমূলক বার্তার মাধ্যমে ইন্ধন দেন। এ নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় নিষেধাজ্ঞার কোপে পড়লেও প্রশাসনিকভাবে এখন পর্যন্ত কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।