(ফলোআপ) :-হ্নীলায় রাখাইন স্বামীর হাতে স্ত্রী খুনে ৩ নাতি নিয়ে বেকায়দায় দরিদ্র নানী ; ঘাতকের শাস্তি দাবী

লেখক: নুরুল করিম রাসেল
প্রকাশ: ৫ years ago

মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম : হ্নীলা চৌধুরী পাড়ায় বার্মাইয়া রাখাইন ঘাতক স্বামীর ছুরিকাঘাতে ৩সন্তানের জননী নিহতের ঘটনায় স্বামীকে আটক করে উক্ত মামলায় কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে। এদিকে স্বামী-স্ত্রীর কলহে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়া পরিবারে একদিকে কিস্তির ঋণ এবং অপরদিকে ৩ নাতিকে নিয়ে চরম বেকায়দায় রয়েছে হতদরিদ্র নানী। এই ব্যাপারে অসহায় নানী স্থানীয় সুহৃদসহ সরকারের উর্ধ্বতন মহলের নিকট সহায়তা কামনা করেছেন।

৩ জানুয়ারী (রবিবার)দুপুরে উপজেলার হ্নীলা চৌধুরী পাড়া রাখাইন পল্লীর মৃত উছিংগ্যার বাড়ি পরিদর্শনে তার স্ত্রী খিং চ ম্যার সাথে কথা বললে তিনি জানান, আমার মেয়েকে যেমন নৃশংসভাবে খুন করা হয়েছে তেমনি পুলিশ দ্রæত পদক্ষেপ নিয়ে খুনীকে আটক করায় ধন্যবাদ জানাচ্ছি। মামলা চালানোর জন্য আমার খরচ-পাতি নেই। আমরা এই খুনির সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য সরকারের নিকট আবেদন জানাচ্ছি। আমি খুবই গরীব ও পার্শ্ববর্তী লোকজন থেকে নিয়ে পেট চালায়। এখন খুন হওয়া আমার মেয়ে চ খিং ওয়ান (৪২) এর রেখে যাওয়া উচো ওয়াং (১৮), মাং নাইচো (১৫) এবং চো ওয়াং মাইচো (১৩) রেখে গেছে। তন্মধ্যে উচো ওয়াং (১৮) মানসিক প্রতিবন্ধি। এছাড়া বিভিন্ন ক্ষুদ্র ঋণ দানকারী সংস্থা হতে ৪/৫টি কিস্তি নেওয়ায় বেকায়দায় পড়েছি। এই ৩ ছেলে কান্না জড়িত কণ্ঠে বলেন আমরা মাকে হারিয়েছি,বাবাকে পুলিশ ধরে নিয়ে গেছে এখন আমাদের কি হবে? তাদের নানী আরো বলেন, এখন এতিম ৩ নাতিকে লালন-পালন করতে খুবই কষ্ট হচ্ছে। তাই সরকারের উর্ধ্বতন মহলসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিকট সহায়তা কামনা করছি।

গ্রাম সর্দার মাষ্টার মংথিং অং বলেন,আসলে এই পরিবারটি খুবই দরিদ্র তার উপর অনাকাংখিত একটি দূঘর্টনা এই তিন ছেলেসহ বৃদ্ধার জীবনটি আরো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এই পরিবারটির প্রতি সকলের সহায়তার হাত বাড়িয়ে এগিয়ে আসা দরকার।

উল্লেখ্য,গত ৩১ডিসেম্বর (বৃহস্পতিবার) দুপুর সোয়া ২টারদিকে উপজেলার হ্নীলা চৌধুরী পাড়া রাখাইন পল্লীতে উছিংগ্যার মেয়ে চ খিং ওয়ান (৪৩) এবং স্বামী বার্মাইয়া উক্য ওয়ান এর সাথে পারিবারিক বিষয়াদি নিয়ে কথা কাটাকাটি ও ঝগড়ার সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে স্বামী স্ত্রীর বুকের দুই পাশে, তলপেট ও হাতে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করলে সে রক্তাক্ত হয়ে পড়ে যায়। এরপর তাকে টেকনাফ উপজেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করে। এই ঘটনার খবর পেয়ে টেকনাফ মডেল থানার এসআই রফিকুল ইসলাম সর্ঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে পানখালী পাহাড়ি ঢালার জনৈক জাফরের পেয়ারা বাগান থেকে আটক করে। এরপর টেকনাফ মডেল থানার মামলার স্মরক নং-০২,তারিখ-০১-০১-২০২১ইং দায়েরের পর ধৃত আসামীকে আদালতে প্রেরণ করেন। ###