২০২০ সালের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পগুলোতে পরিবেশের ভার্সাম্য ফিরিয়ে আনার কার্যক্রম অব্যাহত থাকছে

লেখক: নুরুল করিম রাসেল
প্রকাশ: ৬ years ago

প্রেস বিজ্ঞপ্তি : কক্সবাজারের শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি), জেলার দক্ষিন বন বিভাগ এবং ইন্টার সেক্টর কো-অর্ডিনেশন গ্রুপ (আইএসজিজি)-এর অংশীদার জাতিসংঘের সংস্থা ও এনজিওসমূহ সমন্বিতভাবে এনার্জি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট টেকনিক্যাল ওয়ার্কিং গ্রুপ (ইইটিউব্লিউজি) প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ২০২০ সালের জন্য পৃথিবীর বৃহত্তম শরণার্থী ক্যাম্পে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি শুরু করেছে।

জলবায়ূ পরিবর্তনজনিত ক্ষতির প্রভাবে ঝুঁকিপূর্ণ শরণার্থী ক্যাম্প ও আশপাশের এলাকার পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য ফিরিয়ে আনতে এবছরের বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম, বাংলাদেশ সরকার, জাতিসংঘের সংস্থা ও এনজিওসমূহের মধ্যে কৌশলগত অংশীদারিত্ব ও পারস্পারিক সহযোগিতার অংশ।

এ প্রসঙ্গে আরআরআরসি মো. মাহবুব আলম তালুকদার বলেন, “এ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির মাধ্যমে আমরা ক্যাম্পগুলোর মরুময় পরিবেশকে মরুদ্যানে রূপান্তর করবো”

কোভিড-১৯ মহামারীর কারণে এ বছর মৌসুমের শেষ দিকে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি শুরু হচ্ছে। ক্যাম্প-ইন-চার্জ এবং সাইট ম্যানেজমেন্ট ও সাইট ডেভেলপমেন্ট সেক্টরের সহযোগী ১৫টি সংস্থা (এ্যাকশন এইড, আরণ্যক ফাউন্ডেশন, বিএটি, ব্র্যাক, সিএনআরএস, ডিসিএ, এফএও, এফআইভিডিবি, আইওএম, আইউইসিএন, মুক্তি, আরডিআরএস বাংলাদেশ, শুশীলন, ইউএনএইচসিআর, ডব্লিউএফপি)-র সমন্বয়ের মাধ্যমে ১২০ হেক্টর জমিতে গাছ লাগানো হবে। যা বিগত ২০১৮ ও ২০১৯ সালের রোপনকৃত ৩৫০ হেক্টর জমির সঙ্গে যুক্ত হবে।

images TEKNAF TODAY - সীমান্তের সর্বশেষ খবর

ইইটিডব্লিউজি-র কো-অর্ডিনেটর টড ও’চক বলেন- “২০২০ সালের এ বৃক্ষরোপণ পরিকল্পনা পাহাড়ের ঢালে ভাঙন, ভূমিধ্বস এবং পানির গুণগত মানসংক্রান্ত চ্যালেঞ্জগুলি মোকাবিলায় মানবিক সহায়তা প্রদানকারী সংস্থাসমূহ এবং সরকারকে সহায়তা করবে।”

বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো এ কর্মসূচি চলাকালে কোভিড-১৯ সংক্রমণ প্রতিরোধ এবং নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাসমূহ কঠোরভাবে মেনে চলা হবে। এছাড়া গাছগুলোর বেঁচে থাকা নিশ্চিত করতে ৮ মাসব্যাপী রক্ষণাবেক্ষণ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবে সংশ্লিষ্টরা। এবছরের বৃক্ষরোপণ কার্যক্রমের ক্ষেত্রে জলাশয়ের তীরবর্তী বণভূমি রক্ষা, পাহাড়ের ঢাল সুরক্ষা, সড়কের আশেপাশের ভাঙন নিয়ন্ত্রণ এবং দেশজ বৃক্ষপ্রজাতিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে, যা পরিবেশের ক্ষতি পুনরুদ্ধার করতে সহযোগিতা করবে। এছাড়া এটি বিপুল সংখ্যাক রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশী পরিবারের ঝুঁকি মোকাবেলায় সহায়তা করবে, যারা বর্ষা মৌসুমে অতিবৃষ্টিতে পাহাড় ধ্বসের ঝুঁকিতে বসবাস করেন।

আইএসসিজির সিনিয়র কো-অর্ডিনেটর নিকোল এপটিংবলেন, ”কক্সবাজার জেলার জীববৈচিত্র, বসবাসরত স্থানীয় জনগোষ্ঠী ও শরাণার্থীর সুরক্ষার পাশাপাশি জমির অবস্থা আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে রোহিঙ্গা শরণার্থী সাড়াদানে পরিবেশগত উদ্যোগে অর্থায়ন খুবই ‍গুরুত্বপূর্ণ”।