নিজস্ব সংবাদদাতা:করোনা মোকাবিলায় নাইক্ষ্যংছড়িতে সরকারের সহযোগিতায় কর্মহীন, অসহায় ও হতদরিদ্রদের মাঝে বিতরণের জন্য যে ত্রাণসামগ্রী দেওয়ার তালিকা তৈয়ার হয়েছে তার সিংহভাগই দখল করে নিয়েছে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের নিকটতম আত্মীয় স্বজনেরা ।
সদর ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডের তালিকা পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, তালিকা তৈরীতে ইউপি সদস্যদের বাদ দিয়ে চেয়ারম্যানের আপন মামা ও তার অধিনস্থ জামায়াত-বিএনপির নেতা কর্মী দিয়ে তালিকা করা হচ্ছে।
এতে কর্মহীনদের তালিকা তৈরীতে পাওয়া গেছে চেয়ারম্যানের স্বজনপ্রীতির অভিযোগ। পুরো উপজেলায় ত্রাণের ৬৫০০জনের তালিকার মধ্য সদর ইউনিয়ন ১৬৮০জন আর্থিক সহায়তা পাবে বলে সূত্রে জানাযায় ।
আর এদিকে মঙ্গলবার (১২ মে) দুপুরে সরজমিনে গিয়ে জানাযায়, পরিষদের ০১ নং ওয়ার্ড এ ৫০ জনের নামের তালিকা থাকলেও সেখানে তালিকা ক্রমিক নং অনুসারে দেখা যায় চেয়ারম্যান নুরুল আবছারের পছন্দনীয় একি পরিবারের দুই,তিন জন করে নাম রয়েছে। ঠিক একই ভাবে চেয়াম্যান নুরুল আবছারের আপন খালাতো বোন মহিলা সদস্যা কাজী রাশেদা বেগমের আপন দুই ভাই মসজিদ ঘোনা এলাকার তালিকার ক্রমিক অনুসারে ৬৮৭ নং মৃত কাজী আমীর হোসেনের পুত্র কাজী মো,আলী,৭৩৬ নং মৃত কাজী আমীর হোসেনের পুত্র কাজী রহিম উল্লাহ এবং দুই ছেলে তালিকার ক্রমিক অনুসারে ৬৯২ নং মো,ইলিয়াছ এর পুত্র আরমান হাসান রাহাত, ৭২২নং মো,ইলিয়াছের পুত্র কামরুল হাসান নাম বিদ্যমান।
তবে খুজঁ নিয়ে জানাযায়, চেয়ারম্যানের আপন দুই খালাতো ভাইয়ের মধ্যে মো,আলী এন,এন,সি ব্যাংক কক্সবাজার শাখায় অফিসার পদে চাকুরিতে রয়েছেন।
অন্যজন কাজী রহিম উল্লাহ পিলিপস্ ইলেক্ট্রনিক কোম্পানির কক্সবাজা জেলা এরিয়া ম্যানেজার পদে আছেন।
তারা দুই জনেই স্বচ্ছ ব্যাক্তি।তাদের নাম কি ভাবে তালিকায় আসলো এই নিয়ে চেয়ারম্যানের প্রতি জনমনে ক্ষোভ জন্মেছে।
সদরের ১নং ওয়ার্ডের মেম্বার আরেফ উল্লাহ ছুট্টু জানান,করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারি ত্রাণ সহায়তা দিতে কর্মহীন ও দুস্থ মানুষদের তালিকা সঠিকভাবে তৈয়রি করা হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠিয়েছি আমরা। আমাদেরকে বাদ দিয়ে চেয়ারম্যানের মনগড়া পছন্দনিয় ব্যক্তি নিয়ে স্বজনপ্রীতির তালিকা করা হচ্ছে। সেহেতু আমাদেরকে কোন মূল্যায়ন করা হচ্ছে না।
চেয়ারম্যানের মতো আমরাও জনগণের ভোটের মেন্টেড নিয়ে পরিষদে এসেছি।
চেয়ারম্যানের আপন খালাতো বোন আমাদের পরিষদের একজন মহিলা সদস্য। পরিষদে ভাই-বোনের কারসাজিতে রেজুলেশন থেকে শুরু করে অনেক অনিয়মের অভিযোগও রয়েছে। যা সময় মতো প্রকাশ করা হবে। এই তালিকাতে রয়েছে আমার ওয়ার্ডে মহিলা সদস্যা রাশেদা বেগমের আপন দুই পুত্র ও আপন দুই ভাইয়ের নাম।
ভাইয়ের মধ্যে একজন ব্যাংকার অন্যজন জেলা এরিয়া ম্যানেজার। আমাদের অগোচরে এসব স্বজনপ্রীতি তালিকা হলে আমরা পরিষদ বর্জন করতে বাধ্য হবো। সংশ্লিষ্টদের হস্তক্ষেপসহ পূঃনরায় তালিকা গুলো যাচায়-বাছাই করে সঠিক তালিকা তৈয়ার করার জোর আবেদ করছি
৩নং ওয়ার্ডের মেম্বার ছা হ্লা অং চাক্ জানান, চেয়ারম্যান আমাকে বাদ দিয়ে যাকে তালিকা তৈয়ার করতে দিয়েছে সেই সাম্প্রদায়িক মন মানসিকতা নিয়ে যোগসাজসে চাক সম্প্রাদয়ের কয়েজন স্চ্ছল ব্যাক্তিদেরকে তালিকাতে অর্ন্তভূক্ত করে অসহায় দরিদ্র মানুষগুলোকে ত্রাণ তালিকা এবং ত্রাণ পাওয়া থেকে বঞ্চিত করে রেখেছেন। এই তালিকা পূনঃরায় যাচায়-বাছাই করে অসহায় দরিদ্র মানুষকে অর্ন্তভূক্ত করার জোর দাবী জানাচ্ছি সংশ্লিষ্টদের প্রতি।
৬নং ওয়ার্ডের মেম্বার মো,ফরিদুল আলম জানান, চেয়ারম্যানের আবছারের সাথে তালিকা করা বিষয়টিতে কেন আমাদেরকে বাদ দিয়েছেন তা জানতে গিয়ে এক পর্যায়ে চেয়ারম্যান আমার উপর ক্ষিপ্ত হয়ে অশালীন কথাবার্তা বলে হুমকি দেয় এবং আমার দিকে তেড়িয়ে আসতে থাকে। এলাকার লোকজন জড়ো হতে দেখে তখন সে পিছ পা হয়ে যায়।
এ ব্যাপারে কথা বলার জন্য একাধিকবার চেষ্টা করেও ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল আবছারের মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
