নিজস্ব প্রতিবেদক : রামু উপজেলার গর্জনিয়া ইসলামিয়া আলিম মদরাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো,সাইফুল ইলামের স্বাক্ষরিত মাদরাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা চেয়ে
কক্সবাজার পুলিশ সুপারেরর নিকট আবেন করেন। সম্প্রতি মাদরাসার ক্যাম্পাসে বহিরাগত সন্ত্রাসীদের অপতৎপরতায় শংকিত হয়ে এ আবেদন করেছেন বলে সূত্রে প্রকাশ। গত ১২ মার্চ বৃহস্পতিবার নং- গইআমা/রামু/কক্সবাজার/২০/২০২০ স্মারক মূলে করা এ আবেদনে সন্ত্রাসী ঘটনার বিবরণসহ ৫ জন বহিস্কৃত শিক্ষক ও অপরাধীদের অজ্ঞাগত নাম উল্লেখ করা হয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে।
আবেদন সূত্রে জানা গেছে, গত ৬ মার্চ সকালে মাদরাসার বহিস্কৃত শিক্ষকসহ ২০-২৫ জন বহিরাগত সন্ত্রাসীনিয়ে মাদরাসার ক্যাম্পাসে প্রবেশ করার চেষ্টায় হামলা চালালে তাৎক্ষুনিক ছাত্র,ছাত্রী,শিক্ষক ও অভিভাবকের প্রতিরোধে মাদরাসায় প্রবেশ ব্যর্থ হয়।
মাদরাসায় সংঘটিত ঘটনার কথা পুলিশ জানতে পারে ঘটনাস্থলে পৌঁছার আগেই অভিবাবকদের ধাওয়া খেয়ে দ্রুত সটকে পড়ে বহিরাগত সন্ত্রাসীরা।
এসময় রক্তক্ষয়ী ঘটনার আশঙ্ক থেকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে বহিস্কৃত ৫জন শিক্ষককে মাদরাসার আশে-পাশে না থাকার জন্য অনুরুধ জানান পুলিশ।এই বহিস্কৃত ৫ জন শিক্ষক হলেন রামু উপজেলার গর্জনিয়া ইউনিয়নের মাঝিরকটা এলাকার মৃত নুর আহাম্মদের পুত্র মাওলানা আবদুল হামিদ,চকোরিয়া উপজেলার হারবাং কালা সিকদার পাড়ার রফিক উদ্দীনের পুত্র রেজাউল করিম, রামুর কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের হাজির পাড়া এলাকার মৃত হাকিম আলীর পুত্র মোহাম্মদ আয়ুব,রামুর গর্জনিয়া ইউনিয়নের সিকদার পাড়ার মৃত নাজের চৌধুরীর কন্যা রাজিয়া আক্তার ও ফরিদ উদ্দীন।
সূত্রে আরও জানাযায়, ওই বহিস্কৃত ৫ জন শিক্ষক অত্র মাদরাসায় দায়িত্বকালীন সময়ে দীর্ঘদিন অনুপস্থিতসহ প্রায় পাচান্নব্বই লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ দুদকে দাখিল করায় এই বহিস্কৃত ৫ শিক্ষকের নেতৃত্বে কিছু ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী দিয়ে মাদরাসা ক্যাম্পাসে শিক্ষক-শিক্ষার্থী উপর হামলা ও প্রাণ নাশের হুমখি প্রদর্শন করায় ছাত্র,শিক্ষক ও অভিবাবক উদ্বিগ্ন। এতে শিক্ষকসহ ৫শ ৭০জন শিক্ষার্থীদেরকে মাদরাসা চলাকালীন সার্বক্ষণিক পুলিশ নিরাপত্তা দেয়ার দাবী জানান অভিবাবক,শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।
আর এদিকে বহিস্কৃত ৫ শিক্ষকসহ বহিরাগত সন্ত্রাসী দিয়ে হুমখি প্রদর্শন করে বলেন, যে কোন দিন মাদরাসায় পূনরায় সশস্ত্র হামলা চলিয়ে মাদরাসা দখল করে নেব।
ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো: সাইফুল ইসলাম বলেন,অত্র মাদরাসার বহিস্কৃত ৫ শিক্ষক ও কিছু বহিরাগত লোকজন ক্যাম্পাসে অনধিকার প্রবেশ করতে চাইলে শিক্ষক,অভিবাবক ও শিক্ষার্থীরা তা প্রতিরোধ করে। মাদরাসার শিক্ষকসহ-৭৫০ জন শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা, আইন-শৃঙ্খলা ও একাডেমিক শৃঙ্খলার স্বার্থে কক্সবাজার জেলার পুলিশ সুপারের নিকট নিরাপত্তা ছেয়ে আবেদন করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
কর্মরত শিক্ষক আলা উদ্দীন আল আজাদ বলেন, মাদরাসার অর্থ আত্মসাৎ একটি রেকর্ড ভিত্তি অভিযোগ দুদকের নিকট দাখিল করা হয়েছে।
অভিযোগের কথা জানতে পেরে ওই বহিস্কৃত শিক্ষকেরা মাদরাসা দখল করে অফিস তছনছ করে রেকর্ড নষ্ট করে নিজেদেরকে রক্ষা করতে চাই। যা কখনো সম্ভব নয়। কারন দূর্নীতির রেকর্ড মূছা যায় না।
বহিস্কৃত মাওলানা আবদুল হামিদের মোবাইলে যোগাযোগ করলে তিনি বলে আমি এমপির অনুষ্টানে আছি। এই মূর্হুতে কোন কিছু বলতে পারচ্ছি না। তবে বহিস্কারের বিষয়টি অস্বিকার করে তিনি বলেন আমি পরে দেখা করবো।
