মানবতার কাজ করে চাকরি হারানোর অভিযোগ

লেখক: নুরুল করিম রাসেল
প্রকাশ: ৭ years ago

বিশেষ প্রতিনিধি, কক্সবাজার :

রোহিঙ্গা মানবতার নামে কর্মরত ‘হ্যান্ডিক্যাপ ইন্টারন্যাশনাল’ নামের আন্তর্জাতিক একটি বেসরকারি সংস্থার (এনজিও) মাইক্রোবাসের ধাক্কায় গুরুতর আহত একজন পুলিশ উপপরিদর্শককে মানবিক কারণে চিকিৎসার ব্যবস্থা করায় চাকরি হারিয়েছেন ওই সংস্থার এক স্থানীয় তরুণ কর্মী। সেই সাথে চাকরিচ্যুত হয়েছেন ওই সংস্থাটির একজন গাড়ি চালকও। এমন অভিযোগ সংস্থার চাকরিচ্যুত দুই কর্মীর। মানবিক কাজের জন্য স্থানীয় একজন এনজিও কর্মী ও গাড়ি চালকের চাকরি হারানোর বিষয়টি এলাকার লোকজনের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় সংস্থাটির বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলে আজ বুধবার চাকরিচ্যুত কর্মীদ্বয় কক্সবাজারের জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন করে সমাধানের দাবি জানিয়েছেন। তাদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসক আন্তর্জাতিক বেসরকারি ওই সংস্থার স্থানীয় দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের ডেকে ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত জেনে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেটকে দায়িত্ব দিয়েছেন।

এ প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক মোঃ কামাল হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বাংলাদেশে অবস্থান করা যেকোনো বিদেশি নাগরিককে দেশের প্রচলিত আইন-কানুন মেনে চলতে হবে।’
তবে এ বিষয়ে আজ বুধবার সন্ধ্যায় কালের কণ্ঠের সাথে আলাপকালে সকল অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সংস্থাটির ঢাকা অফিসের মানব সম্পদ বিভাগের দায়িত্বরত কর্মকর্তা আয়েশা ছিদ্দিকা। তিনি বলেন, ‘প্রকৃত ঘটনা এমন নয়। আমাদের চাকরি হারানো জেনারেল সার্ভিস অফিসার জাহেদুল গনি মিথ্যা তথ্য দিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচার চালিয়েছেন।’

তিনি আরো বলেন, সংস্থার কর্মীর চাকরিচ্যুতির সাথে দুর্ঘটনার কোনো সম্পর্ক নেই। সংস্থাটি এদেশের সরকারের সাথে যোগাযোগ রেখেই যাবতীয় কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে। এ ছাড়াও সংস্থাটি কর্মরত প্রতিজন কর্মীর প্রতি অত্যন্ত সহনশীল আচরণ করে থাকে।

তবে চাকরিচ্যুত জেনারেল সার্ভিস অফিসার মোঃ জাহেদুল গণি কালের কন্ঠকে জানান, অফিসের এ রকম নিষ্ঠুর কথা শুনে তার (জাহেদ) মাথায় যেন আকাশ ভেঙ্গে পড়ে। তিনি তাদের বুঝানোর চেষ্টা করেন যে আহত লোকটার অবস্থা মোটেই ভাল নয়। তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া উচিত। অন্যথায় লোকটা পক্ষাঘাতগ্রস্থও হয়ে যেতে পারে।
গাড়িটির চালক রহিম জানান, একজন আহত সরকারি কর্মকর্তাকে প্রাণে বাঁচাতে গিয়ে তারও চাকরি গেছে।

জানা গেছে, গত পহেলা মার্চ দুপুর দেড়টার দিকে কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভ সড়কের হিমছড়িতে
হ্যান্ডিক্যাপ নামের এনজিওটির ভাড়ায় চালিত একটি মাইক্রোবাসের ধাক্কায় টেকনাফ থানার উপপুলিশ পরিদর্শক ইফতেখার তানভীর গুরুতর আহত হন। এ সময় মাইক্রোবাসটি দুজন বিদেশি নিয়ে উখিয়া রোহিঙ্গা শিবিরে যাচ্ছিল। অপরদিকে মেরিন ড্রাইভ সড়ক দিয়ে উপপুলিশ পরিদর্শক ইফতেখার তানভীর মোটরসাইকেলে করে কক্সবাজার আসার পথে মাইক্রোবাসটির ধাক্কা খেয়ে গুরুতর আহত হন। বর্তমানে আহত ওই উপপুলিশ পরিদর্শক চট্টগ্রামের পার্ক ভিউ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তার ভাই মামুনুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে জানিয়েছেন, দুর্ঘটনায় তানভীরের হাতের হাঁড় ভেঙ্গে গেছে।

এদিকে অভিযোগ উঠেছে, এনজিওর জেনারেল সার্ভিস অফিসার মোঃ জাহেদুল গণির কথায় আহত পুলিশ কর্মকর্তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাবার কথা শুনেই পুরো অফিস যেন রাগে ক্ষোভে ফেটে পড়ে। এমনকি একজন আহত সরকারি কর্মকর্তার প্রতি মানবতা দেখানোর বিষয়টিকে ‘বড় অপরাধ’ হিসাবে গণ্য করা হয়। এজন্য জাহেদকে কারণ দর্শাও নোটিশও দেওয়া হয়।

এসব বিষয়ে বক্তব্য নেয়ার জন্য এনজিও হ্যান্ডিক্যাপের উখিয়া অফিসে কর্মরত এরিয়া সার্ভিস ম্যানেজার এম এস নাঈমের মোবাইলে বার বার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হয়। তিনি একবার মোবাইল ধরেই লাইন কেটে দেন। পরবর্তীতে তার মোবাইলে ক্ষুধে বার্তাও দেওয়া হয়। কিন্তু তিনি মোবাইল ধরেননি।

সূত্র কালেরকন্ঠ অনলাইন