হুমায়ূন রশিদ / জসিম উদ্দিন টিপু / মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম : টেকনাফে পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত ৪টি ইউনিয়নের পাহাড় থেকে নেমে আসা ৩৫টির অধিক ছড়া খালে সুলিশ গেইট অথবা রাবার ড্রাম স্থাপন করা হলে হাজার হাজার একর জমিতে শাক-সবজি ও ফলমূলের উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে। এছাড়া চৈত্র মাসে পাহাড়ি জনপদে পানির সংকট দূর হবে। তাছাড়া উৎপাদিত ফসলাদি স্থানীয় জনগোষ্ঠীর চাহিদা পূরণের পর অন্যত্র রপ্তানী করা যাবে।
তথ্যানুসন্ধানে দেখা যায়, প্রতিবছর টেকনাফে বর্ষাকালে ১০হাজার ৭শ ৬০হেক্টর জমিতে আমন ধান চাষ হয়। কিন্তু রবি মৌসুমে বা শীতকালে কৃষকদের নিজ উদ্যোগে ১হাজার ৪শ হেক্টর জমিতে বোরো ধান, ৫শ হেক্টর পান, ১হাজার ৬শ ৮৫ হেক্টর তরমুজ, বাঙ্গি, খিরা ও শাক সবজির চাষ হয়। অবশিষ্ট জমিতে পানির অভাবে চাষাবাদ না হওয়ায় পরিত্যক্ত রয়ে যায়। এদিকে স্থানীয় জনসাধারণের পাশাপাশি দুই লক্ষাধিক রোহিঙ্গা নাগরিক অবস্থানের কারণে উৎপাদিত খাদ্য সংকট দেখা দেয়। এই সংকট মোকাবেলায় চাষাবাদ ও উৎপাদন বৃদ্ধির বিকল্প নেই।
এদিকে চৈত্র-বৈশাখ মাসে উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের কেরুনতলী চাকমারকূল খাল, কাটাখালী, ঘোনার পাড়া, লাতুরী খোলা খাল, ছোট ঢালা খাল, তেচ্চিব্রীজ খাল, রইক্ষ্যং খালী, কাঞ্জরপাড়া খাল, ঝিমংখালী খাল, নয়াবাজার খাল, পূর্ব মহেশখালীয়া পাড়া খাল, মরিচ্যাঘোনা খাল, হ্নীলা ইউনিয়নে দমদমিয়া খাল, জাদিমোরা খাল, নয়াপাড়া খাল, লেদা খাল, আলীখালী খাল, রঙ্গিখালী খাল, উলুচামরী খাল, হামজারছড়া খাল, পানখালী খাল, রোজারঘোনা খাল, টেকনাফ সদরের বরইতলী খাল, নাইট্যং পাড়া খাল, হেচ্ছার খাল, সাইট্যংখিল খাল, হাবিরছড়া, রাজারছড়া, বাহারছড়ার নোয়াখালী পাড়া খাল, কুইখালী খাল, আমতলী খাল, মনখালী খাল, পুরান পাড়া খাল ও শীলখালী খালসহ পাহাড় থেকে নেমে আসা ৩৫টির অধিক খাল শুকিয়ে যায়। যদি পাহাড়ী ছড়া সমুহে সুলিশ গেইট অথবা রাবার ড্যাম স্থাপনের মাধ্যমে বাঁধ দেওয়া যেত। তাহলে আরো ২ থেকে ৩ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধানসহ অন্যান্য ফসল চাষ করা যাবে।
হোয়াইক্যং মডেল ইউপি চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ মাওলানা নুর আহমদ আনোয়ারী জানান, টেকনাফ উপজেলার এসব পাহাড়ী খাল এবং ছড়া গুলোতে প্রয়োজনীয় সংখ্যক সুলিশ গেইট নির্মাণ করার দাবী জানান।
হ্নীলা ইউপি চেয়ারম্যান রাশেদ মাহমুদ আলী জানান, গ্রীষ্মকালে হ্নীলা ইউনিয়নের বেশীরভাগ খাল ভরাট হয়ে শুকিয়ে যায়। এই খাল সমুহ সংস্কার দরকার। তাছাড়া বাহারছড়া বাহাতি ছড়া খালে বাঁধ দেওয়া হলে হ্নীলা ইউনিয়নের বেশীর ভাগ জায়গা চাষাবাদের আওতায় আসবে। তাছাড়া পানীয় জলের সংকট দূর করতে এই খালে বাঁধ দেওয়ার বিকল্প নেই। এই বিরাট খালে বাঁধ দেওয়া হলে স্থানীয় এবং রোহিঙ্গা নাগরিকদের পানীয় সংকট দূর হবে। এই ব্যাপারে সরকারের উর্ধ্বতন মহলের দ্রæত হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
উপজেলা সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোঃ শফিউল আলম বলেন,টেকনাফে যেসব এনজিও সংস্থা কৃষকদের নিয়ে কাজ করছে তারা উপরোক্ত খাল সমুহ সংস্কার করে পানি আটকানোর ব্যবস্থা করলে ফসল উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারী জনসাধারণ এবং রোহিঙ্গা নাগরিকদের পানীয় সংকট সমাধান করা সম্ভব হবে।
উক্ত বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ সাইফুল ইসলাম জানান, এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগের সাথে আলোচনা করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নুরুল আলম বলেন,জনস্বার্থের এই বিষয়টি খুবই গুরুত্ব সহকারে দেখে দ্রæত পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য উর্ধ্বতন মহলকে অবহিত করা হবে। ##
