ইয়াবা পাচারে বাসের হেলপার ও সুপারভাইজার; কক্সবাজারের শহিদুল আটক
টেকনাফ টুডে ডেস্ক :
লোহাগাড়ার পদুয়া বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৭ হাজার ৭৫০ পিস ইয়াবাসহ মাদক বিক্রেতাকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-৭ এর সদস্যরা।
গ্রেফতার ব্যক্তির নাম শহিদুল ইসলাম (৫৫)। তিনি চকরিয়ার ফাসিয়াখালী নয়াপাড়া এলাকার মৃত আব্দুর রশিদের পুত্র।
সহকারী পুলিশ সুপার মো. মাশকুর রহমান বলেন, বুধবার (৫ জুন) সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে চেকপোস্ট বসিয়ে শাহ আমিন সার্ভিস পরিবহনের একটি বাসে তল্লাশি চালানো হয়। কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রামগামী ওই বাস থেকে নেমে হেলপার শহিদুল ইসলাম ও সুপারভাইজার মো. হারুন পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। র্যাব সদস্যরা ধাওয়া দিয়ে শহিদুলকে আটক করতে সক্ষম হলেও চকরিয়ার বাহারিয়াঘোনা এলাকার আব্দুর রশিদের পুত্র মো. হারুন পালিয়ে যায়।
মো. মাশকুর রহমান জানান, পরবর্তীতে বাসের ভিতরে শহিদুল ইসলামের দেখিয়ে দেয়া স্থানে অভিনব কায়দায় লুকানো অবস্থায় এসব ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। বাসটি (ঢাকা মেট্রো-ব-১৪-৪৩২৯) জব্দ করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত ইয়াবা ট্যাবলেটের আনুমানিক মূল্য ৩৮ লক্ষ ৭৫ হাজার টাকা।
জিজ্ঞাসাবাদে শহিদুল র্যাবকে জানিয়েছে, তারা বাসের হেলপার এবং সুপারভাইজার হিসেবে চাকরি করার আড়ালে এ ব্যবসা করছে। মাদক ব্যবসায়ীদের সঙ্গে যোগসাজশে কক্সবাজার থেকে ইয়াবা ট্যাবলেট সংগ্রহ করে চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাচার করে আসছে।
শহিদুল ইসলামকে লোহাগাড়া থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে এবং পলাতক আসামিকে গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত আছে বলে জানিয়েছেন র্যাব কর্মকর্তা মো. মাশকুর রহমান।
এদিকে ওয়াকিবহাল মহলের মতে পরিবহনের আড়ালে ইয়াবা কারবারীদের মূল ঘাটি টেকনাফ। টেকনাফ থেকেই মূলত জড়িত পরিবহন মালিক শ্রমিকরা সারাদেশে ইয়াবার চালান পৌঁছে দিচ্ছে। ফলে আইন শৃংখলা বাহিনীর সাঁড়াশী অভিযানেও বন্ধ হচ্ছে ইয়াবা ব্যবসা। সূত্র জানিয়েছে, টেকনাফের কতিপয় অসাধু পরিবহন মালিক শ্রমিকরা ঢাকাগামী দুরপাল্লার বাস, কক্সবাজারের স্পেশাল বাস, নোহা, মাইক্রো, সিএনজি টেক্সী, ম্যজিক-পিকআপ, স্থলবন্দরের পন্য পরিবহনের ট্রাক, মাহিন্দ্র, টমটমের মালিক শ্রমিক ছদ্মবেশে ইয়াবার কারবার চালিয়েও বহাল তবিয়তে রয়েছে। এদের অনেককে আবার ভদ্রলোকের ছদ্মবেশে, আইন শৃংখলা বাহিনীর আশেপাশে ঘুরঘুর করতেও দেখা যায় বলে জানিয়েছেন ইয়াবা বিরুধী সচেতন মহল। তারা আরো জানান, চলমান মাদক বিরুধী অভিযানে অনেক ইয়াবা কারাবারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হলেও এই পেশার ছদ্মবেশে থাকা ইয়াবা কারবারীরা এখনো কোন প্রকার বাঁধার সম্মুখিন হয়নি।
অনুসন্ধান চালালে ঠিকই বের হয়ে আসবে তাদের থলের বিড়াল।
