চকরিয়ায় অপহরণের ১৮ ঘন্টা পর সেতুর নীচ থেকে শিশুর লাশ উদ্ধার : জড়িত নারী আটক

লেখক: নুরুল করিম রাসেল
প্রকাশ: ৮ years ago

এম.জিয়াবুল হক,চকরিয়া : কক্সবাজারের চকরিয়ায় অপহরণের ১৮ ঘন্টা পর আড়াই বছর বয়সি এক শিশুর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শিশুটির নাম মো.আল ওয়াসী। গতকাল মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে চকরিয়া শহরের অদুরে মাতামুহুরী সেতুর নীচ থেকে ওই শিশুর লাশ উদ্ধার করা হয়। আগেরদিন সোমবার বিকালে চকরিয়া পৌরশহরের চিরিঙ্গাস্থ সবুজবাগ আবাসিক এলাকা থেকে ওই শিশুকে ফুসলিয়ে অপহরণ করে নিয়ে যান অচেনা এক নারী । এদিকে ঘটনার দিন রাতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে মুন্নি আক্তার নামের এক নারীকে আটক করেছে। আটক মুন্নী আক্তার চকরিয়া পৌরসভার ৩নম্বর ওয়ার্ডের বাটাখালী এলাকার খোন্দকার পাড়ার খলিলুর রহমানের মেয়ে। নিহত শিশু ওয়াসী পৌরসভার সবুজবাগ এলাকার সাহাবউদ্দিন ও রুনা আক্তার দম্পতির ছেলে।
নিহত শিশুর নানা চকরিয়া পৌরসভার কাউন্সিলর রেজাউল করিম বলেন, সোমবার বিকালে চকরিয়া পৌরশহরের চিরিঙ্গাস্থ সবুজবাগ আবাসিক এলাকার বাসার সামনে শিশু ওয়াসী ও তার চার বছর বয়সি বোন বাড়ির উঠানে খেলা করছিলেন। এসময় বোরকা ও নেকাব পরিহিত এক নারী সেখানে উপস্থিত হয়ে শিশু ওয়াসীর হাতে একটি চিপস দিয়ে তাকে ফুসলিয়ে নিয়ে যায়।
তিনি বলেন, ছেলেকে কোথাও না পেয়ে রাতে চকরিয়া থানার ওসির কাছে বিষয়টি অবহিত করেন বাবা সাহাব উদ্দিন। এরপর পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে ঘটনার সাথে জড়িত অভিযোগে মুন্নি আক্তার নামের এক নারীকে আটক করে। তিনি বলেন, গতকাল মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে মাতামুহুরী সেতুর নীচে একটি শিশু পড়ে থাকতে দেখে খবর পেয়ে পুলিশসহ আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে ওয়াসী লাশ উদ্ধার করি।
চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.বখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী বলেন, শিশু আল ওয়াসীকে অপহরণের অভিযোগ পাওয়ার পর সারারাত পুলিশের একাধিক টিম মাঠে নামে। কিন্ত সকালে মাতামুহুরী নদীর চিরিঙ্গা সেতুর নীচ থেকে ওই শিশুর লাশ পাওয়া যায়। লাশ উদ্ধারের সময় শরীরে আঘাতের কোন চিহৃ নেই। তবে মুখ থেকে ফেনা (লালা) বের হচ্ছিল। ধারণা করা হচ্ছে তাকে শ^াসরোধ কিংবা খাবারের সঙ্গে বিষ মিশিয়ে হত্যা করা হয়েছে।
তিনি বলেন, এঘটনায় জড়িত অভিযোগে ঘটনার দিন সোমবার রাতে মুিন্ন আক্তার নামের এক নারীকে আটক করা হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তবে ঠিক কী কারণে শিশু ওয়াসীকে হত্যা করা হয়েছে তা উৎঘাটনে আমরা কয়েকটি বিষয়কে সামনে রেখে কাজ করছি। লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।