নিজস্ব প্রতিবেদক, কক্সবাজার :
কক্সবাজার জেলা সদরের আড়াই শ শয্যার হাসপাতালটিতে অবেলায় গিয়ে যেন এক ‘মৃত্যুপুরি’ স্বচক্ষে দেখেছেন তিনি। এমন সব দৃশ্য দেখে তিনি বলেছেন, কেবল মৃত্যু হলেই যে মৃত্যুপুরি হবে এমনটা নয়। এটা যেন মৃত্যু না হয়েও একটা ‘জীবন্ত মৃত্যুপুরি।’ ময়লা-আবর্জনায় ভরা হাসপাতাল অঙ্গন।
এটির নাম কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতাল। মৃত্যুপথ যাত্রীরা এখানে চিকিৎসা সেবার জন্য যান। অথচ এই হাসপাতালটিতে চিকিৎসা সেবার জন্য গিয়ে বরং উল্টো রোগীর অবস্থাই আরও কাহিল হয়ে পড়বে- এমনই চলছে অবস্থা।
তবে এরকম পরিস্থিতিতে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালটির মাত্র দুই দিন আগে অবসরে যাওয়া তত্ত্বাবধায়ক ডা. সুলতান আহমদ সিরাজী রাতে বলেন, ‘এমন অবস্থার জন্য লোকবলের সংকট দায়ী। কেন না হাসপাতালে ২৮৬ জনের লোকবলের স্থানে ৬০ টি শূন্য পদ রয়েছে। ২৫০ বেডের হাসপাতালে ৬০০/৭০০ জন রোগীর স্থান করে দিতে হয়। দেশের মন্ত্রী-আমলারা এসে কেবল আশ্বাসই দিয়ে যান বাস্তবে কেউই সমস্যা সমাধান করেন না। এই যে, আইসিউ পর্যন্ত বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছি আমরা।’
শনিবার সন্ধ্যা মাগরিবের সময় আকস্মিক জেলা সদর হাসপাতালটির ৫ম তলায় এক রোগী দেখতে গিয়েছিলেন কক্সবাজার পৌরসভার মেয়র এবং জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান। মেয়র হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়েই এতসব কথার জন্ম দিয়েছে।
শনিবার রাতে আলাপকালে মেয়র মুজিবুর রহমান বলেন, ‘ভাইরে আমি মনে ভীষণ কষ্ট পাচ্ছি। আমি এটা কি দেখেছি। জেলা সদরের সরকারী হাসপাতালটিতে এরকম খারাপ অবস্থার কথা চিন্তাও করিনি।’ মেয়র বলেন, মাগরিবের সময়ই দেখলাম রোগীদের খাবার সরবরাহের জন্য ওয়ার্ডে নেয়া হচ্ছে। তিনি খাবার দেখে এগিয়ে গেলেন, প্রথমেই দেখলেন ডালের ডেকচি। ডেকচি থেকে এক চামচ নিয়ে তিনি মুখে দিয়েই দেখলেন মারাত্মক ঠাণ্ডা।
মেয়র মুজিব এরপর তরকারীর বালতি দেখলেন। তরকারির বালতি থেকে এক চামচ নিয়ে দেখতে পান ললিতা আলুগুলো স্রেফ লম্বা করে কেটে কয়েক ফালি করেই ডেকচিতে ফেলে রান্না করে দেয়া হয়েছে। আলুর বাইরের খোলসও ফেলা হয়নি। ভাত এবং ডিমও ঠাণ্ডা।
মেয়র বলেন, হাসপাতালটিতে কেবল ডিউটি করছিলেন ইন্টার্ণ ডাক্তারগণ। সেখানে অন্য কোনো ডাক্তারকে তিনি দেখতে পাননি। সবচেয়ে কষ্ট তিনি অনুভব করেছেন, হাসপাতালের লিফটি বন্ধ রাখায়। কেননা হাসপাতালের পঞ্চম তলায় উঠার জন্য একজন হাফানি রোগীর সে যে কি কষ্ট তা আর কে বলবে।
কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান আরও জানান, হাসপাতালের রোগীরা তাকে কাছে পেয়ে একের পর এক অভিযোগ জানান। রোগীরা তাকে পেয়ে চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চনার কথাই সবচেয়ে বেশি বলেছেন।
অনেক রোগীই বলেছেন, যে খাবার হাসপাতাল থেকে সরবরাহ দেওয়া হয় সেটা খাওয়া যায় না। এ কারণেই বাইর থেকে কিনে এনে খেতে হয়। এ জন্য তিনি রোগীদের মাঝে টাকা-পয়সাও বিলি করেন।
