অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশনকে অবশ্যই যোগ্যতার পরিচয় দিতে হবে : সেনাবাহিনীকে নির্বাচন পরিচালনায় পূর্ণ ক্ষমতা দিন

লেখক: নুরুল করিম রাসেল
প্রকাশ: ৮ years ago

বার্তা পরিবেশক : বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন-BHRC সদর দপ্তর আগমী ৩০ ডিসেম্বর ২০১৮ অনুষ্ঠিতব্য একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশনকে তার যোগ্যতার পরিচয় দেয়ার আহ্বান জানান। দেশের এই গুরুত্বপূর্ণ সাধারণ নির্বাচনটি সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন না হলে বিশ্ব মানচিত্রে বাংলাদেশ কলঙ্কিত হবে এবং এই কলঙ্কের সম্পূর্ণ দায়ভার বর্তমান নির্বাচন কমিশনকেই বহন করতে হবে। অভিযোগ রয়েছে যে, দেশের বিভিন্ন স্থানে সরকারি দল এবং বিরোধী দলের মধ্যে বিভিন্ন সহিংস ঘটনা ঘটলেও নির্বাচন কমিশন এ বিষয়ে তেমন কোন কর্ণপাত করছে না। নির্বাচন পর্যবেক্ষণে অভিজ্ঞ বৃহত্তর প্রতিষ্ঠানগুলোকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে নির্বাচন কমিশন নির্বাচন পর্যবেক্ষণ থেকে বিরত রেখেছে। এ ধরনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে স্বাধীনতা পরবর্তী বর্তমান নির্বাচন কমিশনই প্রথম জনসম্মুখে নিজেদেরকে বিতর্কিত করেছে। ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হলেও ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা সেনাবাহিনীকে প্রদান করা হয়নি। ভোট কেন্দ্রে অপরাধ সংঘটিত হবে জানতে পারলেও সেনাবাহিনী সে স্থলে উপস্থিত হয়ে অপরাধীদের দমন করতে পারবে না। উল্লেখ করা যাচ্ছে যে, বাংলার নবাব সিরাজ-উদ-দৌলার পরাজয় যেমন সেনাপ্রধান মীর জাফর দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখেছেন, কোন সেনা সদস্যকে শত্র“র বিরুদ্ধে আক্রমণ করার অনুমতি দেয়া হয়নি, যার প্রেক্ষিতে পরাজয়ের গ্লানি পিছন থেকে গ্রাস করে বাংলার মসনদে ইংরেজ শাসকদের বসিয়ে দেয়া হয়েছিল। ৩০০ বছর পরাধীনের পর ১৯৪৭ সালে সেই মীর জাফরের অপকর্মের গ্রাস থেকে উপমহাদেশকে মুক্ত করা হয়। এছাড়া ঢাকার পিলখানায় বিডিআর হত্যাকান্ডের ঘটনায় সেনাবাহিনীকে মোকাবেলা করার অনুমতি না দেয়ার প্রেক্ষিতে প্রায় ৬৫ জন চৌকস সেনা কর্মকর্তা নির্মমভাবে প্রাণ ত্যাগ করতে হয়েছিল। জনগণই সকল ক্ষমতার উৎস। ১৯৭১ সালের সশস্ত্র স্বাধীনতা সংগ্রামে এদেশের জনগণ পাক হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে দেশকে স্বাধীন করেছে। স্বাধীনতার জন্য বাংলার প্রায় ৩০ লক্ষ মানুষ শহীদ হয়েছেন, ২ লক্ষাধিক নারী তাদের সম্ভ্রম হারিয়েছে। স্বাধীনতার ৪৭ বছর পর এদেশের মানুষ গণতন্ত্রের জন্য এখনও লড়াই করা কারও কাম্য নয়।
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে পরিপূর্ণ ক্ষমতা প্রদান করে নির্বাচন সম্পন্ন করতে নির্বাচন কমিশনের নিকট বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন-BHRC জোর দাবি জানাচ্ছে।

ড. সাইফুল ইসলাম দিলদার
সেক্রেটারী জেনারেল-BHRC