টেকনাফে অমাবস্যার জোয়ারেই ইয়াবার ঢল-৩ বাহিনীর পৃথক অভিযানে ৯ লাখ ২২ হাজার ইয়াবা উদ্ধার : ১জন আটক ও সিএনজি জব্দ

লেখক: নুরুল করিম রাসেল
প্রকাশ: ৮ years ago

হুমায়ূন রশিদ : টেকনাফে আসন্ন অমাবস্যার জোয়ারের পূর্বেই সাগর উপকূল এবং জনপদ ও সড়কে ইয়াবার ঢল নেমেছে। পুলিশ, বিজিবি ও র‌্যাব পৃথক অভিযান চালিয়ে ৯লাখ ২২ হাজার ৯শ ৭৫পিস ইয়াবা উদ্ধার করেছে। এই ঘটনায় একজনকে আটক এবং ১টি সিএনজি জব্দ করা হয়েছে।
জানা যায়, ৭ অক্টোবর ভোরে টেকনাফ ২ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেঃ কর্ণেল মোঃ আছাদুদ-জামান চৌধুরী নিজস্ব সোর্সের তথ্যের ভিত্তিতে ৩টি টহল দল মেরিন ড্রাইভ রাস্তার পার্শ্বে বিভিন্ন পয়েন্টে স্থাপিত নৌকা ঘাটে অবস্থান গ্রহণ করে। বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে পাচারকারীরা ইয়াবা ভর্তি বস্তা সাগরে ফেলে তাদের নৌকা ঘাটে নিয়ে আসে। এমতাবস্থায় তাদের নৌকা তল্লাশী করে কোন মাদক ও চোরাই পণ্য পাওয়া যায়নি। ভোরে উক্ত টহল দল নোয়াখালীপাড়া নৌকাঘাট বরাবর সাগরের মধ্যে বস্তা সাদৃশ্য একটি বস্তু দেখতে পেয়ে নৌকা নিয়ে গিয়ে বস্তাটি তীরে নিয়ে আসে। পরে বস্তাটি খুলে গণনা করে ৬ কোটি ৩০ লক্ষ টাকা মূল্যমানের ২ লক্ষ ১০ হাজার পিস ইয়াবা পাওয়া যায়।
এদিকে সকাল সাড়ে ৯টারদিকে দমদমিয়া বিওপির সুবেদার মোঃ আব্দুর রাজ্জাক বিশ্বাসের নেতৃত্বে একটি টহল দল দমদমিয়া চেকপোষ্টে যানবাহন তল্লাশীকালে সকাল সাড়ে ৯টায় কক্সবাজারগামী স্পেশাল সার্ভিস বাস (নম্বর-কক্সবাজার-জ-১১-০২৩৫) বাসটি সিগন্যাল দিয়ে থামায়। যাত্রীবিহীন সীটের নীচে পরিত্যক্ত অবস্থায় পলিথিন দ্বারা মোড়ানো একটি প্যাকেট দেখতে পায়। তা খুলে গণনা করে ৫৮ লক্ষ ১২ হাজার ৫শত টাকার ১৯ হাজার ৩শ ৭৫পিস ইয়াবা পাওয়া যায়। তা পরে উর্ধ্বতন কর্মকর্তা, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের প্রতিনিধি, গণ্যমান্য ব্যক্তি ও মিডিয়া-কর্মীদের উপস্থিতিতে ধ্বংস করার জন্য ব্যাটালিয়ন সদরে জমা রাখা হয়েছে।
অপরদিকে একই বিওপি চেকপোস্টে দায়িত্বরত জওয়ানেরা টেকনাফ হতে কক্সবাজারগামী একটি সিএনজি (কক্সবাজার-থ-১১-৩৫৭৯) চেকপোষ্টে থামায়। তল্লাশী করতে এলে কোন যাত্রী ও চালক পাওয়া যায়নি। পরে সিএনজি তল্লাশী করে যাত্রীর সীটের পিছনে একটি ব্যাগ দেখতে পায়। তা গণনা করে ৩০ লক্ষ টাকা মূল্যমানের ১০ হাজার ইয়াবাসহ সিএনজি আটক করতে সক্ষম হয়। এই ঘটনায় সিএনজি চালককে পলাতক আসামী করে নিয়মিত মামলা দায়েরের পর জব্দকৃত ইয়াবা এবং সিএনজি টেকনাফ মডেল থানায় জমা দেওয়া হয়েছে।
একইদিন সকাল ৭টায় কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নিহাদ আদনান তাইয়ান এবং টেকনাফ মডেল থানার অফিসার্স ইনচার্জ রনজিত কুমার বড়ুয়ার নেতৃত্বে পুলিশের একটি শক্তিশালী দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বাহারছড়া উপকূলের নোয়াখালী পাড়ায় বঙ্গোপসাগর উপকূলের অবস্থানকারী খালি নৌকায় অভিযান চালিয়ে ২টি এবং পরিত্যক্ত অবস্থায় ২টিসহ মোট ৪টি বস্তা উদ্ধার করে। তা থানায় এনে গণনা করে ৬ লাখ ইয়াবা বড়ি পাওয়া যায়। যার বাজার মূল্য ১৮ কোটি টাকা। এই ব্যাপারে টেকনাফ মডেল থানার অফিসার্স ইনচার্জ রনজিত কুমার বড়ুয়া সাংবাদিকদের জানান, এত বড় ইয়াবার চালান খালাসে কারা সংশ্লিষ্ট রয়েছে তা তদন্ত স্বাপেক্ষ পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এছাড়া সকাল পৌনে ৯টারদিকে র‌্যাব-৭ এর একটি দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে টেকনাফ পৌরসভার অলিয়াবাদে ইয়াবা মওজুদের সংবাদে একটি চৌকষ আভিযানিক দল নিয়ে ঘটনাস্থলে গেলে অলিয়াবাদে অবস্থানকারী গোদার বিলের হোছাইন বাড়ির মৃত রহমত হোছাইনের পুত্র সৈয়দ আলম (৩৬) কে আটক করে। আটক আসামীর জিজ্ঞাসাবাদে তার বসত-ঘরের ভিতরে শয়ন কক্ষে খাটের নিচে অভিনব কায়দায় লুকানো ইয়াবার একটি বস্তা উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে উক্ত বস্তা গণনা করে ৮৩ হাজার ৬শ পিস ইয়াবা বড়ি পাওয়া যায়। যার বাজার মূল্য ৪ কোটি ১৮ লক্ষ টাকা। গ্রেফতারকৃত আসামী দীর্ঘদিন যাবত বিভিন্ন মাদক চক্রের কাছ থেকে ইয়াবা সংগ্রহ করে তার বসত বাড়িতে মজুদ করে এবং পরবর্তীতে বিভিন্ন মাদক ব্যবসায়ীদের কাছে পাইকারী ও খুচরা বিক্রয় করে আসছে। গ্রেফতারকৃত আসামীর বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট মাদক আইনে ব্যবস্থা গ্রহণের পর টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
হঠাৎ চলমান মাদক বিরোধী অভিযানে আতংকিত জনপদে ইয়াবার ঢল নেমে আসায় পেশাজীবি, রাজনৈতিক অঙ্গন ও সচেতন মহলে অজানা আতংক ছড়িয়ে পড়ছ।