লন্ডনে তারেকের বক্তব্য বনাম আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতি

লেখক: নুরুল করিম রাসেল
প্রকাশ: ৮ years ago

টেকনাফ টুডে ডেস্ক : একটি দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন অনেকাংশেই নির্ভর করে ওই দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির উপর। রাজনৈতিক শিষ্টাচার না থাকলে ওই দেশের উন্নয়ন প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়। দুঃখজনক হলেও সত্য আমাদের দেশের বড় একটি রাজনৈতিক দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর ৪০ বছর পেরিয়ে গেলেও তারা এখনো তাদের সমালোচনামূলক রাজনীতির বৃত্ত ভেঙে সুস্থ রাজনীতির ধারায় আসতে পারেনি।

১৯৭৮ সালের পহেলা সেপ্টেম্বর সেনা কর্মকর্তা জিয়াউর রহমানের হাত ধরে অর্থনৈতিক উন্নয়ন, বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের লক্ষ্যে জন্ম হয় বিএনপির। কিন্তু বিএনপির জন্মের ৪০ বছর পেরিয়ে গেলেও সেই পথ ধরে হাঁটতে পারেনি বিএনপি।

সম্প্রতি দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে লন্ডনে যুক্তরাজ্য বিএনপি আয়োজিত এক সমাবেশে বক্তৃতা দেন তারেক। তারেক তার বক্তব্যের পুরোটা সময়ই গতানুগতিক আক্রমণাত্মক সমালোচনা করেছেন। কিন্তু মানুষ এখন আর এই গতানুগতিক সমালোচনার রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না। মানুষ এখন রাজনৈতিক নেতাদের কাছ থেকে ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের উন্নয়নের রূপরেখা শুনতে চায়। অথচ তারেক তার বক্ত্যব্যে আগামীর বাংলাদেশের উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে কিছুই বলেননি। তারেকের সমালোচনামূলক বক্তব্য ওই সভায় উপস্থিত বিএনপির নেতাকর্মীরাই গ্রহণ করেননি। তারেকের বক্তব্য চলাকালীন সময়ে তার কথা না শুনে গল্প গুজবে ব্যস্ত ছিল বিএনপির নেতা কর্মীরা। বক্তব্য চলাকালীন সময়ে একাধিকবার তারেক তাদের ধমক দিয়ে চুপ করতে বলেছেন।

তারেকের পুরো বক্তব্যই ছিল রাজনৈতিক শিষ্টাচার বহিঃর্ভুত। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ হলেই তাকে কটাক্ষ করে কিংবা অসম্মান করে কথা বলতে হবে- এখন এই নীতিতেই চলছেন তারেক। তারেক তার বক্তৃতার যতবার মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রসঙ্গ টেনে নিয়ে এসেছেন ঠিক ততবার তিনি তার সম্পর্কে নেতিবাচক এবং অসম্মানসূচক শব্দ ব্যবহার করেছেন। তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে রং হেডেড হাসিনা বলে তার বক্তব্যে একাধিকবার কটাক্ষ করেছেন। অথচ তারেক জিয়া ভুলে গেছেন – শেখ হাসিনা বর্তমানে শুধু আওয়ামী লীগের সভানেত্রী না, তিনি এখন দল মত নির্বিশেষে বাংলাদেশের সকল মানুষের অভিভাবক। তিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে কটাক্ষ করে কথা বলা আর বাংলাদেশকে কটাক্ষ কিংবা অসম্মান করে কথা বলা সমান। যে ব্যক্তি তার নিজ দেশ কিংবা তার দেশের প্রধানমন্ত্রীকে সম্মান দিতে পারেনা সেই ব্যক্তির কাছ থেকে জাতি ভালো কিছু পাবার আশা রাখে না।

তারেক তার বক্তৃতায় শুধু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাই নয়, আমাদের জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়েও আপত্তিকর বক্তব্য প্রদান করেছেন। তারেক এখনো বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে শুধু বিএনপির রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ দলের নেতা মনে করেন। অথচ তারেক ভুলে গেছেন বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা এবং তার জন্মদাতা পিতা জিয়াউর রহমান ১৯৭১ সালের ২৭ই মার্চ কালুর ঘাট বেতার কেন্দ্রে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষে স্বাধীনতার ঘোষণা পত্রটি পাঠ করেছিলেন। পরবর্তীতে দেশ স্বাধীন হলে জিয়াকে বঙ্গবন্ধু উপ সেনাপ্রধানের দায়িত্বভার দিয়েছিলেন।

তারেক জিয়া বঙ্গবন্ধুকে কটাক্ষ করে কথা বলার আগে মনে রাখা উচিত ছিল- মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে তার মা খালেদা জিয়া ক্যান্টনমেন্টে পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর কাছে বন্দী ছিলেন। এ কারণে পরবর্তীতে দেশ স্বাধীন হলে খালেদাকে পুনরায় স্ত্রীরূপে গ্রহণ করতে আপত্তি জানায় জিয়াউর রহমান। তখন বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে জিয়া খালেদাকে পুনরায় স্ত্রীর মর্যাদা দিয়ে গ্রহণ করেছিলেন। অথচ তারেক অকৃতজ্ঞ এবং বেয়াদবের মতো তার বক্তৃতায় বঙ্গবন্ধুকে কটাক্ষ করেছেন।

তারেকের এমন দিকনির্দেশনাহীন বক্তব্যে বিএনপির নেতাকর্মীরাও হতাশ হয়েছে। একটি রাজনৈতিক দলের কর্ণধারের কাছ থেকে গঠনমূলক ও দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য আশা করে দেশবাসী ও দলের নেতাকর্মীরা।