ডেস্ক নিউজ :
গ্রামবাসীর ধরিয়ে দেয়া ২০ হাজার পিস ইয়াবা ওসি সরিয়ে ফেলে মামলায় এর পরিমাণ ২২০ পিস বলে উল্লেখ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে শালিখা থানার ওসি রবিউল ইসলামের বিরুদ্ধে।
আর এ কারণে বুধবার মাগুরার দুর্নীতি দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতে ওই ওসির বিরদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন শালিখা উপজেলার সাবলাট গ্রামের বিশারত মোল্যার ছেলে মহব্বত হোসেন।
মামলার অভিযোগে জানা গেছে, শালিখা উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে শালিখা থানার ওসি রবিউল ইসলামের ছত্রছায়ায় মাদকের রমরমা ব্যবসা চলছে। গত ৩১ মার্চ কক্সবাজারের টেকনাফ এবং নারায়ণগঞ্জের তিন মাদক ব্যবসায়ী বিপুল পরিমাণ ইয়াবা নিয়ে মাগুরার শালিখা উপজেলার সাবলাট গ্রামের মাদক ব্যবসায়ী কামরুল ইসলামের বাড়িতে অবস্থান করছিল।
বিষয়টি জানতে পেরে ওই গ্রামের বিশারাত মোল্যার ছেলে মহব্বত হোসেন গ্রামবাসীকে সঙ্গে নিয়ে ২০ হাজার পিস ইয়াবাসহ ওই মাদক ব্যবসায়ীদের পুলিশে ধরিয়ে দেয়।
কিন্তু এ ঘটনার পর তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হলেও উদ্ধারকৃত ইয়াবার পরিমাণ ২২০ পিস হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
অন্যদিকে মাদক ব্যবসায়ীদের ধরিয়ে দেয়ায় ক্ষুব্ধ শালিখা থানার ওসি আসামিদের সঙ্গে মহব্বত হোসেনের নামটিও জুড়ে দেন।
শুধু তাই নয়, মামলা থেকে নাম বাদ দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে পরবর্তীতে তার কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকাও আদায় করেছেন। আর এ কারণেই মহব্বত হোসেন বুধবার আদালতে মামলাটি দায়ের করেন।
শালিখা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রবিউল ইসলামের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলার বাদী মহব্বত হোসেন বলেন, রবিউল ইসলাম এখানে ওসি হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পরই মাদকের ব্যবসা বিস্তার লাভ করেছে। তার মতো দুর্নীতিপরায়ণ ব্যক্তিকে পুলিশ কর্মকর্তার পদ থেকে সরিয়ে দেয়া খুবই জরুরি।
শালিখা থানার ওসি রবিউল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, মামলাটি শত্রুতামূলক। এই মামলার বাদী মহব্বত হোসেনের বিরুদ্ধে খুনসহ অসংখ্য মামলা রয়েছে। তার মতো অসৎ ব্যক্তি এলাকায় আরেকটি খুঁজে পাওয়া যাবে না। ইয়াবা উদ্ধারের বিষয়ে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা খুব ভালোভাবেই অবগত আছেন।
মামলার আইনজীবী গোলাম নবী শাহিন জানান, বুধবার আদালতে মামলাটি দাখিল করা হলে দুর্নীতি দমন ট্রাইব্যুনালের বিজ্ঞ বিচারক শেখ মফিজুর রহমান মামলাটি আমলে নিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনকে তদন্তের দায়িত্ব দিয়েছেন।
