মোঃ আশেকউল্লাহ ফারুকী, টেকনাফ :
মাদক প্রবেশের প্রধান গেটওয়ে হচ্ছে টেকনাফ। উখিয়া রহমতের বিল সীমান্ত এলাকা থেকে শাহপরীরদ্বীপস্থ বদরমোকাম পর্যন্ত ৫৩ কিঃ মিটার সীমান্তের আলোচিত পয়েন্ট দিয়ে আসে মিয়ানমার থেকে ইয়াবা ট্যাবলেটসহ ২৩ প্রকারের মাদকদ্রব্য । এর মধ্যে ইয়াবা সবার শীর্ষে। এছাড়া সাগর পথ দিয়ে ও ফিশিং বোটযোগে আসে সমানতালে ইয়াবার বহর। আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা এবং ধরণ বুঝে মাদক ব্যবসায়ী ও পাচার কারীরা নানা কৌশল হাতে নিয়ে স্থল ও নৌপথে পরিবর্তন করে। অতীতে নাফ নদী দিয়ে মাদক ও চোরাইপণ্য আসতো এবং প্রশাসন রোহিঙ্গা ও মাদক অনুপ্রবেশ ঠেকাতে গিয়ে নাফ নদের পরিবর্তে এখন মাদক আসছে সাবরাং টেকনাফ ও বাহারছড়া সাগর উপকূল দিয়ে।
নব্বইয়ের দশকে দেশে মাদক হিসাবে ইয়াবা প্রকাশ ওয়াই প্রচলন শুরু হয়। তখন এভাবে বেপরয়া ভাবে মাদক বা ইয়াবা তেমন আসতোনা। শুধুমাত্র ঢাকা শহরেই তখন এটির প্রচলন ছিল। ২০০০ সালের পরে টেকনাফ সীমান্ত দিয়ে ইয়াবা আসবত থাকে।
২০০৬ সাল থেকে ২০১৮ সমীক্ষায় দেখা গেছে, এ সময়ে ইয়াবা প্রবেশ অতীতের সকল রেকর্ড অতিক্রম করেছে। যাহা সকলের কাছে প্রতিয়মান।
অনুসন্ধানে জানা যায়, মাদক/ইয়াবা ব্যবসাও পাচারের সাথে বেশীরভাগ জড়িত, যুবক ও যুবতীরা। মিয়ানমার সীমান্তে দায়িত্বে নিয়োজিত সীমান্ত রক্ষী (বিজিপি) সে দেশের চোরাকারবারীর সাথে যোগসাজশে মাদক পাচারের সাথে জড়িত। মিয়ানমারের মংডু সীমান্ত শহর এবং আকিয়াব (সিটিওয়ে) হচ্ছে, মাদক বা ইয়াবা ট্যাবলেট পাচারের প্রধানতম ঘাটি। এখান থেকে নৌ ও সাগর পথে নৌকা ও ট্রলারযোগে টেকনাফ সীমান্ত হয়ে দেশের উপকূল শহরে মাদক পাচার হয়ে থাকে। এ জন্য টেকনাফকে মাদক ও ইয়াবা প্রবেশের প্রধান গেটওয়ে বলা হয়। দেশের দক্ষিণ পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্ত এলাকায় দুদেশের সীমান্ত চোরাচালান নিয়ন্ত্রন এবং নিরুৎসাহিত করতে ১৯৯৫ সালে সীমান্ত বাণিজ্য কার্যক্রম আনুষ্ঠনিকভাবে চালু হয়। চালুর একযোগের পর থেকে মাদকের শীর্ষ ইয়াবা ট্যাবলেটের প্রসার ঘটে। এটি সীমান্ত বাণিজ্যের উপর এক অশনি সংকেত ও ইতিবাচক প্রভাব পড়ে। এর পর থেকে মাদকের শীর্ষ ইয়াবা ট্যাবলেটের প্রসাব বটে। এটি সীমান্ত বাণিজ্যের উপর এক অশনি সংকেত ইতিবাচক প্রভাব পড়ে। এর পর থেকে টেকনাফ স্থল বন্দরে আমদানিতে রাজস্ব আয়ের ধস নামে। যার কারণে সীমান্ত বাণিজ্য চাংগা হতে বাঁধাগ্রস্থ হয়। এসময়ে সীমান্ত বাণিজ্যের কতিপয় ব্যবসায়ী, সি,এন্ডএফ এজেন্ট এবং সীমান্ত জনপদের বৈধ ব্যবসা ছাড়াই অনেকেই হঠাৎ বিপুল অর্থ ও বিত্তের মালিক বনে গিয়ে রাজ প্রাসাদে নির্মার্ণে প্রতিযোগিতা চলে। সীমান্তে যাদের দৃশ্যমান কোন ধরনের ব্যবসা বাণিজ্য নেই তারা ও এখন কোটি কোটি টাকার গাড়ী বাড়ী জায়গা জমি ও প্লাটের মালিক।
টেকনাফ বর্ডার গার্ড (বিজিবি) চলতি বছর ৬ মাসে সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্টে পৃথক অভিযান পরিচালনা করে ১৫৯ কোটি ১৮ লাখ ২৫ হাজার ৬শত টাকার মূল্যে ইয়াবাসহ ২৩ প্রকারের মাদকদ্রব্য আটক করে। এর মধ্যে ৫২ লাখ ৬৯ হাজার ৮৬৭ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটে জব্দ ও আটক করে। যার মূল্য ১৫৮ কোটি ৯ লাখ ৬০ হাজার ১শত টাকা। এছাড়া কোষ্টগার্ড, র্যাব ও পুলিশের অভিযানে প্রতিনিয়তই জব্দ হচ্ছে মাদক।
সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল সূত্রে জানা যায়, মাদকের বিপরীত টেকনাফ সীমান্ত থেকে প্রতিমাসে প্রায় ৫০ কোটি টাকার চেয়ে বাংলা টাকা ডলার হয়ে মিয়ানমারে পাচার হয়ে যাচ্ছে। এর পাশাপাশী হুন্ডির মাধ্যমে পাচার হয়। টেকনাফ সীমান্তের অর্ধশতাধিক হুন্ডি ব্যবসায়ী রয়েছে। এসব হুন্ডির টাকা বেশীরভাগ মার্কিন ডলার হয়ে মিয়ানমার কৌশলে পাচার হয়ে যায়। এর সাথে স্থানীয় কয়েকটি ব্যাংক জড়িত থাকার ও অভিযোগ উঠেছে। আভ্যন্তরিনভাবে মাদকের ছোট খাটো অর্থ বিকাশের মাধ্যমে লেনদেন হয়। হুন্ডি, ডলার ও বিকাশ প্রতিষ্ঠানের ব্যবসা নিয়ন্ত্রন করতে পারলে মাদক ব্যবসা অনেকাংশ কমে যাবে বলে সীমান্ত এলাকার সচেতন মহল জানায়।
