টেকনাফ টুডে ডটকম : ১৭.১ ওভারে অল আউট ৯৭ রানে। এবারের বিপিএলের সর্বনিম্ন রানের স্কোরটা হয়ে গেল মাশরাফি বিন মুর্তজার রংপুর রাইডার্সের। ৯৮ রানের লক্ষ্যে ছুটে সহজে জেতার কথা ছিল তামিম ইকবালের কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের। শেষদিকে নাটক জমতে জমতেও জমলো না। ৭৩ রানে ৫ উইকেট হারালো কুমিল্লা। কিন্তু ঠিকই শেষ পর্যন্ত ৪ উইকেটের জয়। ৩ বল বাকী থাকতে এই জয় তুলে নিয়ে রংপুরের প্লে-অফ বা শেষ চারে খেলার সম্ভাবনাকে হুমকির মধ্যে ফেলে দিলেন তামিমরা। এদিন সদ্য প্রয়াত ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আনিসুল হকের স্মরণে এক মিনিটের নিরাবতার শোক প্রকাশ করে শুরু হয় খেলা।
শনিবার বিপিএল শেষ পর্বের লড়াইয়ের জন্য ফিরেছে ঢাকায়। মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে টস জিতে তামিম বেছে নিয়েছিলেন ফিল্ডিং। আর চরম ব্যাটিং ব্যর্থতায় মাশরাফির দল মুখ থুবড়ে পড়ে ১০০ রানের আগেই। চিটাগংয়ে হোঁচট খেয়ে উঠে দাঁড়িয়ে প্রবল দাপটে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষস্থান নিয়েই ফিরেছিল কুমিল্লা। আর রংপুর রুদ্ধশ্বাস দুটি ম্যাচ জিতে আরো আত্মবিশ্বাসী হয়ে এই ম্যাচ শুরু করেছিল। কিন্তু প্রথম দেখার চেয়ে বাজে হার এই ম্যাচে। এখন ১০ ম্যাচে ১৬ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষস্থানে জায়গা আরো শক্ত করেছে কুমিল্লা। আর ১০ ম্যাচে ১০ পয়েন্ট নিয়ে চতুর্থ স্থানেই থাকলো রংপুর। ১০ ম্যাচে ১৩ নিয়ে কুমিল্লার আগেই তো শেষ চারে গেছে খুলনা টাইটান্স। ঢাকা ডায়নামাইটস ১০ ম্যাচে ১১ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয়। চাপ আছে তাদেরও। নিচের দিক থেকে রাজশাহী কিংস ৮ এবং সিলেট সিক্সার্স ৭ পয়েন্ট নিয়ে আশা ধরে রেখেছে। দুই দলই খেলেছে দুটি করে ম্যাচ।
অল্প পুঁজি। জেতার আশা করা প্রায় অসম্ভব! তবু দলটা মাশরাফির। নিজেই লিটন দাসকে (৩) তুলে নিয়ে বোলারদের পথ দেখান। তামিম ২২ ও জস বাটলার ৫ রান করে ফিরে গেলেন। ৪৭ রানে ৩ উইকেটের পতন। এপর সত্তুরের ঘরে গিয়ে আরো দুটি উইকেট পেল রংপুর। মাশরাফির শিকার ইমরুল কায়েস, নাজমুল ইসলাম দ্বিতীয় উইকেট বানান শোয়েব মালিককে (২০)। বোলিংয়ে চাপটা ধরে রেখেছিল রংপুর। রান দিচ্ছিল কম। কিন্তু মারলন স্যামুয়েলস ছিলেন। শেষে ১২ বলে ১০ রানের হিসেব। মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিনও তো অল রাউন্ডার। মাশরাফি তাকে ৯০ রানের সময় নিজের তৃতীয় শিকার বানিয়ে উত্তেজনার কিছুটা ফেরান।
সংক্ষিপ্ত স্কোর :
রংপুর রাইডার্স : ১৭.১ ওভারে ৯৭/১০ ( জিয়াউর ৬, ক্রিস গেইল ০, ম্যাককালাম ২৪, মিঠুন ১৭, বোপারা ৪, কাপুগেদারা ২, নাহিদুল ৬, মাশরাফি ৯, ইসুরু উদানা ৯, সোহাগ গাজী ১২, নাজমুল ১*; মুজিব ০/১৭, মেহেদী ৪/২২, হাসান আলি ১/১৫, সাইফউদ্দিন ৩/২২, আল-আমিন ১/১৮)
কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স : ১৯.৩ ওভারে ১০০/৬ (তামিম ২২, লিটন দাস ৩, ইমরুল ১৪, জস বাটলার ৫, মালিক ২০, স্যামুয়েলস ১৬*, সাইফ উদ্দিন ৫, হাসান আলি ৬*, সোহাগ গাজী ১/১৫, মাশরাফি ৩/২৪, উদানা ০/১৮, বোপারা ০/১১, নাজমুল ২/১৭, নাহিদুল ০/৭)।
ফল : কুমিল্লা ৪ উইকেটে জয়ী।
