নিজের প্রাণ বাঁচাতে দুই সন্তানকে সাগরে ছুঁড়ে দেন হতভাগা পিতা

লেখক: নুরুল করিম রাসেল
প্রকাশ: ৯ years ago

নুরুল করিম রাসেল, টেকনাফ টুডে ডটকম |
নিজের প্রাণ বাঁচাতে দুই সন্তানকে সাগরে ছুঁড়ে দেন হতভাগা পিতা মোহাম্মদ সেলিম। সোমবার টেকনাফের শাহপরীরদ্বীপে নৌকা ডুবির ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে অবলীলায় এমন নিষ্টুরতার কথা বলেন তিনি। সেলিম জানায় সন্তানদের ছুড়ে না দিলে তাকে সাগরে ডুবে মরতে হতো। নিজে বাঁচতে বাধ্য হয়ে তিনি সন্তানদের মায়া ত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন।
রাখাইনের ধামনখালী এলাকা থেকে পালিয়ে আসতে গিয়ে সোমবার ভোররাতে টেকনাফের শাহপরীরদ্বীপে তীরে এসে নৌকাটি ডুবে যায়। অন্যান্যদের সাথে নৌকায় ছিল তার পরিবারের ৬ জন। তৎমধ্যে ছিল মা সমবানু, স্ত্রী খুরশিদা, ৮ বছরের ছেলে বেলাল হোসেন, ৬ বছরের মেয়ে ফাতেমা খাতুন, ৮ মাসের শিশু ফয়সাল। নৌকাটি যখন চরের সাথে ধাক্কা লেগে ডুবে যায় এসময় তার হাতে ধরা ছিল ৮ বছরের বেলাল ও ৮ মাসের ফয়সাল। মেয়ে ফাতেমা ছিল তার মায়ের সাথে। নৌকাটি ডুবে গেলে সবাই হাবুডুবু খেতে থাকে। এসময় দুই ছেলেকে নিয়ে সে অনেকক্ষন সাঁতরে ভেসে থাকতে চেষ্টা করে। কিন্তু একপর্যায়ে ডুবে যেতে থাকলে দুই ছেলেকে সে সাগরে ছুড়ে দিয়ে নিজের প্রাণ বাঁচান।
অপরদিকে তার স্ত্রী খুরশিদা মেয়ে ফাতেমাকে নিয়ে কুলের দিকে এসে মেয়েকে তীরে ছুড়ে দিলে সে ভাগ্যক্রমে প্রানে বেঁেচ যায়। বেঁচে যায় স্ত্রীও। তবে হারাতে হয়েছে দুই ছেলে ও মাকে।
সকালে ছেলে বেলালের মৃতদেহ সৈকত থেকে উদ্ধার করা হলেও ছোট ছেলেকে খুঁজে পাননি। খুঁজে পাননি মাকেও।
সেলিম জানায়, রাখাইনে থাকতে মগ ও মিলিটারীরা তাদেরকে বারবার বলতে থাকে তোমরা বাংলাদেশে চলে যাও। সেখানে তোমাদের বাপরা তোমাদের খাওয়াবে পড়াবে। এখানে কেন রয়ে গেছ। চলে যাও তোমরা। তুচ্ছ তাচ্ছিল করে প্রায় সেনা ও মগরা গ্রামে এসে এসব কথা বলতো। সেলিম তাদেরকে উত্তর দেয় হ্যাঁ আমরা চলে যাব প্রয়োজনে বাংলাদেশে গিয়ে মৃত্যু বরণ করবো। সেলিম বলে তাই হয়েছে, নিজে বাঁঁচলেও বাংলাদেশে এসেই তার দুই সন্তান ও মায়ের মৃত্যু হয়েছে।