বার্তা পরিবেশক : টেকনাফ সদর ইউনিয়নের মহেষখালীয়া পাড়া এলাকাটি রক্তাক্ত জনপদে পরিণত হয়েছে আগেই। জমিসংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে এলাকাটিতে বেশ কয়েকটি হত্যা ও হত্যা চেষ্টার ঘটনা ঘটেছে। পঙ্গুত্ব বরণ করেছে বেশ কয়েকজন।
সর্বশেষ গত শনিবার দুপুরে মহেষখালীয়া পাড়া এলাকায় আব্দু রশিদ নামে এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে জখম করেছে প্রতিপক্ষের লোকজন। মারাত্মক আহত আব্দু রশিদ বর্তমানে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে বলে জানা গেছে। তার মাথা কুপিয়ে জখম করা হয়েছে, এছাড়া এক পা ও এক হাত ভেঙ্গে দেয়া হয়েছে। সে ওই এলাকার মৃত আব্দুস সালামের ছেলে। এই ব্যাপারে আব্দু রশিদের মাতা সুরুজ্জামান টেকনাফ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ছাত্র দেলোয়ার হোসেনকে ২০১৭ সালে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। নিহতের ভাই আব্দু রশিদ সেই মামলার বাদী। মামলা নং-৩৫। সেই মামলার প্রধান আসামী সাইফুল ইসলাম প্রকাশ শফিক দীর্ঘদিন কারাবাসের পর কয়েকদিন আগে জামিনে মুক্ত হন। জামিনপ্রাপ্ত হওয়ার পর শনিবার এলাকায় গিয়ে কৃষি কাজে কর্মরত অবস্থায় ওই মামলার বাদী আব্দু রশিদের উপর সংঘবদ্ধভাবে হামলা চালান। এসময় আব্দুর রশিদের মাথায় দা দিয়ে কুপিয়ে মারাত্মক জখম করেন এছাড়া এক হাত এক পা লোহার রড দিয়ে মেরে ভেঙ্গে দেন। এছাড়া শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাত করেন। হামলাকারীরা মৃত ভেবে তাকে ফেলে চলে গেলে আত্মীয়স্বজন উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সেখান থেকে কক্সবাজার সদর হাসপাতাল প্রেরন করেন। কিন্তু তার অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় একই দিন রাতে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তী করান। বর্তমানে সংকটাপন্ন অবস্থায় সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এঘটনায় টেকনাফ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন তার মা সুরুজ্জামান। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং মামলার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানা গেছে।
এঘটনায় মহেষখালীয়া পাড়া এলাকার সাইফুল ইসলাম প্রকাশ শফিক, মোঃ রাসেল, মোঃ তারেক, রুবেল, শামীম, নুরুল ইসলামসহ আরো কয়েকজনকে আসামী করে থানায় অভিযোগটি দায়ের করা হয়েছে।
অভিযোগে আরো জানা যায়, ইতিপূর্বে দেলোয়ার হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করেছে পিবিআই। এতে প্রধান আসামীসহ কয়েকজনের নাম বাদ দেয়ায় বাদী তদন্ত প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে আদালতে নারাজি দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে এমন ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারে তাদের ধারনা। অভিযোগ সূত্রে আরো জানা যায় প্রতিপক্ষের হাতে দেলোয়ার ছাড়াও খুন হন তার ভগ্নিপতি আবুল বশর। পঙ্গুত্ব বরন করেন আবুল বশরের ছেলে মিজান ও দেলোয়ার। এব্যাপারে অভিযুক্তরা জানায়, এলাকায় কবর জিয়ারত করতে গেলে তাদের উপর হামলা চালিয়েছে প্রতিপক্ষ।
