ভোক্তা অধিকার আইন আছে প্রয়োগ নেইঃ
মোঃ আশেকুল্লাহ ফারুকী, টেকনাফ :
টেকনাফ পৌর শহরসহ বিভিন্ন বাজারের নিত্যপণ্য দোকান এবং মাংসের দোকানে প্রকাশ্যে মুল্য তালিকা টাংগানোর নিয়ম থাকলেও এ নিয়ম ব্যবসায়ীরা মানতেছেন না। এ ক্ষেত্রে সহজ সরল ভোক্তারা ঔসব ব্যবসায়ীদের কাছে প্রতারনার শিকার হচ্ছে। এ নিয়ে অনেক সময় সচেতন ভোক্তা এবং ব্যবসায়ীদের সাথে ভাকবিতন্ড হতে দেখা গেছে। টেকনাফ সীমান্ত উপজেলায় ছোট বড় ৪৫টি বাজার রয়েছে। তার মধ্যে টেকনাফ পৌর শহর বাজার, হোয়াইক্যং ইউনিয়নের উলুবনিয়া বাজার, হোয়াইক্যং বাজার, মিনাবাজার ও নয়া বাজার। বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর বাজার নোয়াখালী বাজার। টেকনাফ সদর ইউনিয়নে বটতলী বাজার, পর্যটন বাজার, হ্নীলা ইউনিয়নের, হ্নীলা বাজার, খারাংখালী বাজার, লেদা বাজার ও রঙ্গীখালী বাজার। সাবরাং ইউনিয়নে সাবরাং সিকদার পাড়া বাজার, নয়াপাড়া বাজার, শাহপরীরদ্বীপ তিনপুলের মাথা বাজার ও মিস্ত্রিপাড়া বাজার। সেন্টমার্টিদ্বীপ ইউনিয়নে সেন্টমার্টিন বাজার। এসব বাজার প্রশাসন প্রতি বাংলা সনের শুরুতে নীলাম দিয়ে প্রচুর পরিমাণ অর্থ সরকারী কোষাগারে জমা প্রদান করার পর ও বাজারে ভোক্তাদের স্বার্থে দৃশ্যমান উন্নয়ন হচ্ছেনা। বাজার নীলামের শর্তানুযায়ী বাজারে প্রকাশ্যে হাছিলের মূল্য তালিকা টাংগানোর নিয়ম থাকলে এ নিয়ম বাজার নীলাম ডাককারী মানতেছেননা। ফলে বিভিন্ন মালামাল বিক্রেতাদের কাছ থেকে ইচ্ছা অনুযায়ী হাসিল আদায় করছে। যার বিপরীত কোন রশিদ নেই। অনেক সময় অতিরিক্ত হাসিল আদায় নিয়ে উভয়ের মধ্যে হতাহাতী ও মারামারী হয়ে থাকে। বাজারে ভোক্তাদের স্বার্থে টয়লেট, খাবারের পানি ও যাত্রী চাউনীর ব্যবস্থা করা হয়নি। যার কারণে ভোক্তারা থাকেন ভোগান্তিতে। এটির দেখার কেউ নেই। টেকনাফ উপজেলার সর্ববৃহৎ বাজার যথাক্রমে টেকনাফ পৌর শহর বাজার, হ্নীলা বাজার, হোয়াইক্যং বাজার, সাবরাং সিকদার পাড়া বাজার ও শামলাপুর বাজার সরেজমিন পরিদর্শন এবং তথ্য অনুসন্ধান করে জানা যায়, উপজেলা প্রশাসন পর্যায়ে বাজার মনিটরিং ব্যবস্থা থাকলেও এ নিয়ম শুধু কাগজে কলমে সীমাবনদ্ধ, বাস্তবে নেই। এর সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছে ভোক্তারা। এছাড়া বাজারে ভোক্তাধিকার আইন থাকলেও এটির একই অবস্থা। বিশেষ করে টেকনাফ পৌর শহর হোয়াইক্যং, হ্নীলা, সাবরাং বাজার সমূহে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের কালো টাকার প্রভাব পড়ার কারণে নিত্যপণ্য দোকান, মাংসের দোকান ও মৎস্য দোকানের ব্যবসায়ীরা ভোক্তাদের কাছ থেকে পণ্যে অতিরিক্ত মূল্য আদায় করছে। যে সব বিষয়ে সচেতন ভোক্তারা এ প্রতিবেদককে অভিযোগ করেন, তার মধ্যে ওজনে কারচুপি, দোকানে মূল্য তালিকা ছাড়াই পণ্য বিক্রি, ভেজাল দ্রব্য বিক্রি ী পণ্য ওজনে ভাটখারা, ভোক্তাদের মালামাল ক্রয়ের পরিবেশগত বাধা, দোকানের সামনে যত্রতত্র স্থানে মালামাল রাখা, মাংসের দোকানে ওজনে কারচুপি, ওজনে দাড়ি পাল্লা ব্যবহার, মাংসের গায়ে রক্ত মেশানো, মহিশের মাংসকে গরুর মাংস বলে বিক্রি করা, ছাগির মাংসকে খাশির মাংস বলে বিক্রি করা, মাংস বিক্রিতে তড়িগড়িকরা, প্রতি কেজি মাংসে ১ পাবা হাড্ডি দেয়ার নিয়ম থাকলেও কেজিতে অনেক সময় আধা কেজি হাড্ডি দেয়া, লাইসেন্স বিহীন মাংসের দোকান, পশু জবেহ করার নির্ধারিত স্থান না থাকায়, সড়কের পাশে যত্রতত্র স্থানে পশু জবেহ করা ছাড়াও মাংসে বিক্রির দোকানের আস পাশে অবাধে কুকুরের উপদ্রব এবং অনেক সময় মাংসের জন্য ব্যবহৃত দাও ছেদিতে কুকুরের হানা ইত্যাদী। টেকনাফ পৌর শহরে বাজার এবং ইউনিয়নের বড় বড় বাজারে কাঁচা বাজার, মাছ বাজার ও মাংসের বাজার পৃথক শেড নির্মাণ না থাকায় ভোক্তারা রোদে ও বৃষ্টিতে নিত্যপণ্য ক্রয় ও বিক্রয় করতে হয়। যার অধিকাংশ বাজার টেকনাফ কক্সবাজার অঞ্চলিক সড়কের পাশে।
