ঘুর্নিঝড় মোরা’য় টেকনাফে ক্ষয়ক্ষতি কয়েক’শ কোটি টাকা

লেখক: নুরুল করিম রাসেল
প্রকাশ: ৯ years ago
সাবরাং এলাকায় ক্ষতগ্স্থ পানর বরজ

সাড়ে ১০ হাজার ঘরবাড়ী, শতশত পানের বরজ, সুপারি গাছ বিধ্বস্থ : ২৩ মেঃ টন চাল বরাদ্ধ : বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন টেকনাফ

নুরুল করিম রাসেল :
ঘুর্নিঝড় মোরা’র আঘাতে টেকনাফ উপজেলায় এক পৌরসভাসহ ৭ টি ইউনিয়নে কয়েকশত কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি সাধিত হয়েছে বলে ধারনা করা হচ্ছে। এর মধ্যে উপকূলীয় ইউনিয়ন সেন্টমার্টিন দ্বীপ ও সাবরাংয়ে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সবচেয়ে বেশী। ঘুর্নিঝড় পরবর্তী তাৎক্ষনিক প্রাথমিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ স্ব স্ব ইউনিয়ন পরিষদ থেকে উপজেলা প্রশাসনের কাছে প্রেরন করা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন সুত্রে জানা গেছে,
টেকনাফে ঘুর্নিঝড় মোরা আঘাতে ১০ হাজার ১৬৩ বসতবাড়ী সম্পূর্ণভাবে বিধ্বস্থ হয়েছে। এছাড়া ৩০ হাজারের অধিক বসতবাড়ী আংশিক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। এর মধ্যে সাবরাং ইউনিয়নে ৫ হাজার, বাহারছড়ায় আড়াই হাজার, টেকনাফ সদরে এক হাজার ৫০০, হ্নীলায় ৬০০, হোয়াইক্যংয়ে ৩৬৩ ও সেন্টমার্টিন ইউনিয়নে ২০০ বসতবাড়ী সম্পূর্ণভাবে বিধ্বস্থ হয়েছে।
এদিকে টেকনাফে গত দুই দিন যাবৎ বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।
টেকনাফ উপজেলা পল্লি বিদ্যুৎ ডিজিএম শহীদুল্লাহ জানান, বিদ্যুৎ সংযোগ মেরামতের কাজ শুরু হয়েছে। আগামী দূয়েক দিনের মধ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু করা যাবে বলে আশা করছেন তিনি। ঘুর্ণিঝড়ে পল্লী বিদ্যুতের কয়েক কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি সাধিত হয়েছে বলেও জানান তিনি।
এদিকে বুধবার দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ২৩ মেট্রিক টন চাল ও ২ লাখ টাকা জরুরী সহায়তা হিসেবে বরাদ্ধ দেওয়া হয়েছে। একই দিন বরাদ্দের চাল ইউনিয়ন ও পৌরসভায় বন্টন করা হয়েছে। এতে সেন্টমার্টিন ইউনিয়নে ৯ মেঃ টন চাল, ৫০ হাজার টাকা, বাহারছড়ায় ৩ মেঃ টন চাল, ৫০ হাজার টাকা, টেকনাফ সদরে ৩ মেঃ টন চাল ও ৩০ হাজার টাকা, পৌরসভায় ৩ মেঃ টন চাল ও ৫০ হাজার টাকা, সাবরাং ৩ মেঃ টন চাল, হ্নীলা ও হোয়াইক্যংয়ে ২ মেঃ টন করে চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বরাদ্দের এসব চাল অতিদ্রুত ক্ষতিগ্রস্থদের মাঝে প্রদানের জন্য নিদের্শ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা যায়, ঘুর্নিঝড় মোরা’র তান্ডবে লন্ডভন্ড হয়ে যায় সেন্টমার্টিনদ্বীপসহ গোটা টেকনাফ উপজেলা। সবচেয়ে বেশী সাবরাং, বাহারছড়াও সেন্টমার্টিন দ্বীপ ইউনিয়ন।
ঘুর্নিঝড়ের আঘাতে দশ হাজারের অধিক বসতঘর, সুপারি গাছসহ কয়েক লাখ ফলজ ও বনজ গাছপালা বিনষ্ট হয়েছে। মাটির সাথে মিশে গেছে শত শত পানের বরজ। তবে কোন প্রানহানির খবর পাওয়া যায়নি। আহত হয়েছে ১৫ জনের মতো।
সোমবার দিনগত রাত ২টার পর থেকে টেকনাফে বাতাসের তীব্রতা বাড়তে থাকে। ভোর ৪টার পর তা তীব্র আকার ধারন করে একটানা বইতে থাকে।
মোরা সেন্টমার্টিন দ্বীপ হয়ে শাহপরীর দ্বীপ ও টেকনাফের উপর দিয়ে কক্সবাজারের দিকে অগ্রসর হয়। সকাল সাড়ে ৮টা পর্যন্ত চলে মোরা’র এ তান্ডব।
এতে হাজার হাজার কাঁচা ও আধাপাকা বাড়িঘর সম্পূর্ন ও আংশিক ক্ষতিগ্রস্থ হয়। শত শত পানের বরজ সম্পূর্ন বিনষ্ট হয়ে যায়।
বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে বিদ্যুৎ ও মোবাইল সংযোগ।
বিভিন্ন স্থানে বিদ্যুতের তারে বড় গাছপালা ভেঙ্গে বিদ্যুতের তার ছিড়ে যায়। আবার কোন কোন স্থানে বিদ্যুতের খুটি ভেঙ্গে পড়ে থাকতে দেখা যায়।
বিভিন্ন স্থানে মোবাইল টাওয়ার ভেঙ্গে যাওয়ায় প্রায় সব অপারেটরের মোবাইল সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। ফলে অনেকটা যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে টেকনাফের লোকজন।
বিদ্যুৎ ও মোবাইল সংযোগ না থাকায় দেশের অন্যান্য এলাকার সাথে যোগাযোগ বিহীন হয়ে পড়ে টেকনাফ। টেকনাফ কক্সবাজার সড়ক ও টেকনাফ থেকে বিভিন্ন ইউনিয়নের যাতায়াতের সড়কে গাছ পড়ে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেলেও দুপুরের দিকে গাছ সড়িয়ে যান চলাচল শুরু হয়।
উপজেলার সাবরাং, টেকনাফ সদর ইউনিয়ন, পৌরসভাসহ বিভিন্ন স্থানে সরেজমিন পরিদর্শনে ক্ষয়ক্ষতির এ অবস্থা দেখা গেছে।
সবচেয়ে বেশী ক্ষয়ক্ষতি সাধিত হয়েছে সেন্টমার্টিন ও সাবরাং ইউনিয়নে। সাবরাং ইউনিয়নে কয়েক হাজার বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে পাশাপাশি হাজার হাজার গাছ পালা ভেঙ্গে যায় এছাড়া শত শত পানের বরজ বিনষ্ট হয়েছে।
এছাড়া উপজেলার টেকনাফ সদর, হ্নীলা, হোয়াইক্যং ও বাহারছড়া ইউনিয়নেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি সাধিত হয়েছে।
সেন্টমার্টিন ইউপি চেয়ারম্যান নুর আহমদ জানান, সেন্টমার্টিনে ৪০০ বাড়িঘর সম্পূর্ন ধ্বংস হয়েছে, আংশিক ক্ষতি হয়েছে ৬০০ বসত বাড়ির, এছাড়া সেন্টমার্টিনে ৩০টি দোকান সম্পূর্ন ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। আড়াই শো নারিকেল গাছ সহ প্রায় ২০ হাজার গাছপালা ও ১৫ শ গবাদি পশু ও হাঁস মুরগি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে বলে জানান তিনি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকতা জাহেদ হোসেন সিদ্দিক জানান, ঘুর্নিঝড় মোরায় ক্ষতিগ্রস্থদের জন্য ২৩ মেট্রিক টন চাল ও ২ লাখ টাকা বিতরণ করা হয়েছে।