বিশেষ প্রতিবেদক : হ্নীলা ও রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকায় গত এক সপ্তাহে কৃষক ও রোহিঙ্গা কিশোরসহ ২জন চিহ্নিত পাহাড়ি দূবৃর্ত্ত দলের হাতে অপহরণের শিকার হয়েছে। র্যাব-১৫ এর সদস্যরা ১জনকে উদ্ধার করতে পারলেও অপর জনকে মুক্তিপণের বিনিময়ে ফেরত আনা হয়েছে।
সুত্র জানায়,৩১ডিসেম্বর ভোর সোয়া ৫টারদিকে কক্সবাজার র্যাব-১৫এর (সিপিসি-২) হোয়াইক্যং ক্যাম্পের একটি চৌকস আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে টেকনাফের হ্নীলা ইউপির জাদিমুড়ার গহীন পাহাড়ে অভিযান চালিয়ে নয়াপাড়া রেজিষ্টার্ড রোহিঙ্গা ক্যাম্প-২৬, ব্লক-এইচ এর বাসিন্দা ছৈয়দ হোছনের পুত্র মোঃ জুবাইর (১৫) কে উদ্ধার করে। ভিকটিমের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে র্যাব-১৫ এর আভিযানিক দল পাহাড়ি এলাকায় অভিযান চালিয়ে অপহৃত ভিকটিমকে উদ্ধার করে চিকিৎসা দেওয়ার পর পরিবারের নিকট হস্তান্তর করে।
উল্লেখ্য,গত ২৬ডিসেম্বর ভোররাত ৩টায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ছৈয়দ আলমের নিজ বাড়ির দরজা ভেঙ্গে রোহিঙ্গা এবং স্থানীয় দূবৃর্ত্ত চক্রের সমন্বয়ে কতিপয় অপহরণকারী ভিকটিমের মাথায় অস্ত্র ধরে একটি মোবাইলসহ অপহরণ করে নিয়ে যায়। ঘটনার পরের দিন ভিকটিমের মোবাইল নম্বর হতে অপহৃত ভিকটিমের মায়ের মোবাইল নাম্বারে কল দিয়ে অপরহণকরীরা ২০লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দাবী এবং অন্যথায় অপহৃত ছেলেকে হত্যা করার হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করে। উদ্ধারকৃত ভিকটিম হতে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী অপহরণকারীদেরকে গ্রেফতারে অভিযান চলমান রয়েছে।
কক্সবাজার র্যাব-১৫ এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক (ল এন্ড মিডিয়া) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ আবু সালাম চৌধুরী জানান, উদ্ধারকৃত ভিকটিমকে তার পরিবারের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে।
অপরদিকে গত ২৯ডিসেম্বর রাত সাড়ে ১০টারদিকে হ্নীলা ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড মরিচ্যাঘোনা এলাকায় ভূট্টা ক্ষেত (মক্কাগোলা বাগান) পাহারা দেওয়ার সময় স্থানীয় মৃত সোলতান আহমদের পুত্র শ্রবণ প্রতিবন্ধি অলি আহমদ (৫৫) কে অপহরণ করে নিয়ে যায়। এই অপহরণ ঘটনায় স্থানীয় আবুল হাশেমের পুত্র আব্বাস, নুরুল আলমের পুত্র ইব্রাহীম, খন্দাকাটার সোনা মিয়ার পুত্র তোফাইল ওরফে কালাইয়া, পশ্চিম পানখালীর শামসুল আলমের পুত্র আবুল কাশেমসহ বেশ কয়েকজন জড়িত বলে বিভিন্ন সুত্র দাবী করেছে।
স্থানীয় ইউপি মেম্বার বশির আহমদ জানান,অপহরণকারীরা ৩১ডিসেম্বর বাদে জোহর অপহৃত ভিকটিমের পরিবারে ফোন করে ১০লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবী করে। তিনি আরো বলেন এই অপহরণের খবর পেয়ে রাতে পুলিশ অভিযানে নেমেছে। ভিকটিমের পরিবার থেকে অপহরণকারীরা ইতিমধ্যে ১লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। আরো কিছু টাকার জন্য দর কষাকষি চলছে। আশাকরি অভিযানে অপহৃত কৃষক অলি আহমদ ফিরে আসতে পারে।
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে ৩লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায় করে রাত ৯টারদিকে লেচুয়াপ্রাং এলাকায় দূবৃর্ত্তরা ভিকটিম অলি আহমদকে ছেড়ে দেয়। রাত সাড়ে ১০টারদিকে সে আহত অবস্থায় বাড়িতে ফিরে আসে।
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান রাশেদ মাহমুদ আলী জানান,জাতীয় নির্বাচন চলাকালে সরকার বিরোধী বিশেষ মহল অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায় করে জনসাধারণের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টির পায়তারা চালাচ্ছে। আমি এই ধরনের কর্মকান্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে চিহ্নিত অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার জোর দাবী জানাচ্ছি। ###
