কক্সবাজার প্রতিনিধি, ১৩ জুলাই।
বিশ্বের সবচেয়ে বড় শরণার্থী শিবিরের শহর কক্সবাজারে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম – জাতিসংঘের অভিবাসন সংস্থা)কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার বালুখালীতে উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্র পুনঃনির্মাণ করেছে। বৃহস্পতিবার (১৩ জুলাই) দুপুরে স্বাস্থ্য কেন্দ্রটি উদ্বোধন করা হয়। কাতার সরকারের রাষ্ট্রীয় সংস্থা কাতার চ্যারিটি-এর আর্থিক সহযোগীতায় আইওএম আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা এই স্বাস্থ্য কেন্দ্রটির পুনঃনির্মাণ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করেছে। স্বাস্থ্য কেন্দ্র উদ্বোধন শেষে কাতার চ্যারিটির হেড অব অপারেশন্স এন্ড ইন্টারন্যাশনাল প্রোগ্রাম নওয়াফ আব্দুল্লাহ আল হাম্মাদি গণমাধ্যমে ব্রিফিংয়ে জানান কাতার সরকার সব সময় বাংলাদেশের অকৃত্রিম বন্ধু। বাংলাদেশের যে কোন ক্রাইসিসে কাতার সরকার বাংলাদেশের পাশে আছে এবং পাশে থাকবে। তিনি জানান রোহিঙ্গা সংকটের শুরু থেকে কাতার বাংলাদেশকে নানাভাবে সহায়তা দিয়ে আসছে। বিশেষ করে কক্সবাজারের স্হানীয় জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্য সেবার জন্য স্বাস্থ্য কেন্দ্র নির্মাণে সহায়তা দিয়েছে। পাশাপাশি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সাম্প্রতিক অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে যাওয়া রোহিঙ্গাদের জন্য ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে কাতার চ্যারিটি।
পুনঃনির্মিত দোতলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রটির মধ্যে রয়েছে একটি অপেক্ষাগার, ট্রায়াজ, রোগীদের পরামর্শ কক্ষ, একটি মানসিক স্বাস্থ্য ও মনোসামাজিক সহায়তা কর্নার, একটি পুষ্টি কর্নার, একটি পরীক্ষাগার, একটি স্টোর এবং একটি ফার্মেসি। চব্বিশ ঘন্টাব্যাপী স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে এই স্বাস্থ্য কেন্দ্রে বহুমুখী কক্ষও রয়েছে।২০১৭ থেকে আইওএম সক্রিয়ভাবে বালুখালী স্বাস্থ্য উপ-কেন্দ্রে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরিষেবা দিচ্ছে, যার মধ্যে রয়েছে রোগীদের পরামর্শ প্রদান, জরুরি সেবা, রেফারেল সহায়তা, সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ, অসংক্রামক রোগ ব্যবস্থাপনা এবং মানসিক স্বাস্থ্য ও মনোসামাজিক সহায়তা সেবা।
কক্সবাজারের সিভিল সার্জন ডাঃ বিপাশ খীসা, কাতার চ্যারিটি-এর হেড অব অপারেশন্স এন্ড ইন্টারন্যাশনাল প্রোগ্রাম নওয়াফ আবদুল্লাহ আল হাম্মাদি এবং আইওএম-বাংলাদেশের ডেপুটি চীফ অব মিশন নিহান এরদোয়ান ১৩ জুলাই ২০২৩ (বৃহষ্পতিবার) পুনঃনির্মিত স্বাস্থ্য কেন্দ্রটি উদ্বোধন করেন। ২০১৭-এ প্রথম এই স্বাস্থ্য উপ-কেন্দ্রে আইওএম কার্যক্রম শুরু করে। সাম্প্রতিক এই পুনঃনির্মাণের ফলে সরকার ও স্বাস্থ্য সেবাদানকারী সংস্থাগুলো স্থানীয় জনগোষ্ঠী ও রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সবরকমের স্বাস্থ্যসেবা প্রদানে সুবিধা পাবে। জানুয়ারী ২০১৮ থেকে জুন ২০২৩ পর্যন্ত, আইওএম এই স্বাস্থ্য উপ-কেন্দ্রে প্রায় ৯৫ হাজার রোগীদের স্বাস্থ্য পরামর্শ প্রদান করেছে যার মধ্যে ৩৩ শতাংশ স্থানীয় জনগোষ্ঠী ও ৬৭ শতাংশ রোহিঙ্গা শরণার্থী। আইওএম এই কেন্দ্রে নিয়মিত স্বাস্থ্যসেবার পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্য ও মনোসামাজিক সহায়তা সেবাও প্রদান করে। উল্লেখিত সময়ে আইওএম ২৬,৬৪৬ জনকে গোষ্ঠী-ভিত্তিক মানসিক স্বাস্থ্য ও মনোসামাজিক সহায়তা সেবা প্রদান করেছে। কক্সবাজারে শরণার্থী সংকটে ক্ষতিগ্রস্থ জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার প্রয়াসে বালুখালী স্বাস্থ্য উপ-কেন্দ্রের পুনঃনির্মাণ একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এখানকার জনগোষ্ঠীদের অত্যাবশ্যকীয় স্বাস্থ্য পরিষেবা নিশ্চিতে আইওএম সবসময় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
স্বাস্থ্য কেন্দ্র উদ্বোধন শেষে কাতার চ্যারিটির এই কর্মকর্তা বালুখালী ১১ নাম্বার রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেন এবং আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের সাথে কথা বলেন। পরে তিনি কাতার চ্যারিটির নির্মাণ করে দেয়া রোহিঙ্গাদের ঘর পরিদর্শন করেন। কক্সবাজারের সিভিল সার্জন ডাঃ বিপাশ খীসা,আইওএম-বাংলাদেশের ডেপুটি চীফ অব মিশন নিহান এরদোয়ান সহ অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ।
