ঘূর্ণিঝড় মোখা: আতংকে সেন্টমার্টিন দ্বীপ ছেড়েছে সহস্রাধিক মানুষ, প্রস্তুত ৩৭টি আশ্রয়কেন্দ্র

লেখক: নুরুল করিম রাসেল
প্রকাশ: ৩ years ago

নুরুল করিম রাসেল, টেকনাফ টুডে ডটকম |
ঘূর্ণিঝড় “মোখা” আতংকে সেন্টমার্টিন দ্বীপ ছেড়েছে প্রায় সহস্রাধিক মানুষ। এদের মধ্যে স্থানীয় শতাধিক পরিবার রয়েছে, অন্যরা বিভিন্ন কারনে সেন্টমাটিনে বসবাসরত বহিরাগত লোকজন।
বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত যাত্রীবাহি ট্রলার ও স্পীড বোট যোগে তারা দ্বীপ ছাড়েন। তবে দুপুরের পর থেকে টেকনাফ সেন্টমাটিন যাতায়াত বন্ধ রয়েছে।
মোখা আঘাত হানলে দ্বীপে ক্ষয়ক্ষতি বিগত সময়ের চেয়ে বেশি হতে পারে এমন আশংকায় লোকজন দ্বীপ ছাড়েন।

ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে লোকজনকে সতর্ক করে মাইকিং করা হচ্ছে।

সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান জানান, ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে জলোচ্ছ্বাসের আগাম প্রস্তুতি হিসেবে দ্বীপের তিন তলা সরকারি হাসপাতাল, জেলা পরিষদ ডাকবাংলো, নৌবাহিনী ও পুলিশের ভবনসহ প্রায় ৩৭টি হোটেল-কটেজে আশ্রয়ের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এছাড়া জরুরী মুহুর্তে দ্বীপের সবগুলো পাকা ভবনে আশ্রয় নেয়া যাবে।
তিনি আরো বলেন, দ্বীপের অন্যান্য এলাকা নিরাপদ মনে করা হলেও ৮ ও ৯ নং ওয়ার্ডে কোন সাইক্লোন শেল্টার না থাকায় সেখানকার বাসিন্দাদের নিরাপদে সরিয়ে আনার জন্য উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। এই এলাকার প্রায় ২ হাজার লোক চরম ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে বলে জানান তিনি।

টেকনাফ সিপিপি অফিস ইনচার্জ মোহাম্মদ হানিফ বলেন, বিশেষ জোন সেন্টমার্টিন ও শাহপরীর দ্বীপের জন্য নৌবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ, কোস্টগার্ড, ফায়ার সার্ভিস, মেডিক্যাল টিমসহ স্বেচ্ছাসেবীদের প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কামরুজ্জামান বলেন, সেন্টমার্টিন দক্ষিন পাড়ায় সাইক্লোন সেল্টার না থাকলেও জান মালের নিরাপত্তার স্বার্থে উপজেলা প্রশাসন সতর্ক রয়েছে। পরিস্থিতি বুঝে দ্বীপে দায়িত্বরতদের দক্ষিন পাড়ার লোকজনদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে অনার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তাছাড়া মনিটরিং সেল থেকে নিয়মিত দ্বীপের খোঁজ খবর নেয়া হচ্ছে।
সেন্টমার্টিন ও টেকনাফে ১০১টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলে জানান তিনি।
এদিকে সেন্টমার্টিনের যাত্রীবাহি ট্রলার ও স্পীডবোট গুলো নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য টেকনাফের কায়ুকখালী খালে অবস্থান নিয়েছে বলে জানা গেছে।

স্থানীয় সংবাদকর্মী নুর মোহাম্মদ জানান, দ্বীপের নৌ যান গুলো টেকনাফে আশ্রয়ের জন্য চলে যাওয়ায় জরুরী মুহুর্তে যাতায়াতের জন্যও কোন বাহন নেই সেন্টমার্টিনে।

দক্ষিণ পাড়ার বাসিন্দা মো. জাহাঙ্গীর জানান, দ্বীপের পরিস্থিতি এখনো স্বাভাবিক রয়েছে তবে সাগরে জোয়ারের পানি কিছুটা বেড়েছে।