সংবাদ বিজ্ঞপ্তি : নরওয়ের জলবায়ু ও পরিবেশ মন্ত্রীর স্টেট সেক্রেটারি রানহিল্ড শুনার সিরস্টা আজ বাংলাদেশে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য মানবিক কার্যক্রমের জ্বালানী ও পরিবেশ কর্মসূচিতে তার দেশের ৭০ মিলিয়ন ক্রোনা সহায়তা ঘোষণা করেছেন, যা ৬.৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমতুল্য। এই অবদান রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য রান্নার পরিচ্ছন্ন জ্বালানী সরবরাহ, জীববৈচিত্র্য ও বাস্তুতন্ত্রের অব্যাহত পুনর্বাসন, এবং শরণার্থী ও স্থানীয় বাংলাদেশী সম্প্রদায়ের দক্ষতা উন্নয়নে সাহায্য করবে। নিরাপদ জ্বালানী ও শক্তির জন্য এ সকল কর্মকান্ড জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও), জাতিসংঘের অভিবাসন সংস্থা (আইওএম), জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর, ও বিশ্ব খাদ্য সংস্থা (ডব্লিউএফপি)-র যৌথ কার্যক্রম “সেফ এক্সেস টু ফুয়েল এন্ড এনার্জি প্লাস, ফেইজ ২” (সেফ+২)-এর আওতাধীন।
রানহিল্ড শুনার সিরস্টা বলেন, “২০১৯ সালে চালু হওয়ার পর থেকেই নরওয়ে সেফ+ প্রোগ্রামে আর্থিক সাহায্য দিয়ে আসছে। এই কর্মসূচিটি শরণার্থীদের জীবনমান উন্নয়নের পাশাপাশি পরিবেশের উপর যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে তা চমৎকার”। তিনি আরও বলেন, “বৃক্ষ রোপণ ও পুনঃবনায়নের মাধ্যমে যেভাবে এই কর্মসূচীর হাত ধরে সবুজ ফিরে আসছে, সেটা আমাদের অনুপ্রেরণা যোগায়। আমি আনন্দিত যে আমাদের অনুদানে শরণার্থীদের জন্য রান্নার পরিচ্ছন্ন জ্বালানীর ব্যবস্থা করা যাবে, এবং স্থানীয় পরিবেশ পুনরুদ্ধারের কাজ চলবে; যার উপকার পাবে শরণার্থী ও তাদের আশ্রয় দানকারী স্থানীয় জনগণ। রান্নার জন্য নিরাপদ জ্বালানী না থাকলে বনাঞ্চল আবারও ক্ষতিগ্রস্ত হবে, এবং লাকড়ি সংগ্রহের সাথে সংশ্লিষ্ট বিপদগুলো ফিরে আসবে। এটা রোধ করা আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ”।
এই প্রোগ্রামের সাথে জড়িত জাতিসংঘের সংস্থাগুলোর পক্ষে ইউএনএইচসিআর-এর বাংলাদেশে নিযুক্ত প্রতিনিধি (রিপ্রেজেন্টেটিভ) ইয়োহানেস ভন ডার ক্লাও বলেন, “নরওয়ে সরকার ও এর জনগণের এই অনুদানের মাধ্যমে আমরা ১৯০,০০০ শরণার্থী পরিবারকে লিকুইফাইড পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) দিতে পারবো। এই পরিচ্ছন্ন জ্বালানী শরণার্থীদের সুস্থতা ও জীবনমান উন্নয়নে কাজ করে; এবং এটি বনে লাকড়ি সংগ্রহ করতে গিয়ে লিঙ্গ-ভিত্তিক সহিংসতা ও অন্যান্য সুরক্ষা ঝুঁকি রোধ করে”। তিনি আরও বলেন, “কক্সবাজারের পরিবেশ ও বাস্তুতন্ত্রের সফল পুনঃবাসন ও উল্লেখযোগ্য হারে কার্বন ডাই অক্সাইডের নিঃসরন কমানোর মাধ্যমে জলবায়ু সংকটের সম্মুখীন কক্সবাজারের স্থানীয় জনগণের জন্যও এটি সাহায্য করবে”।
এলপিজি ও জ্বালানী-বান্ধব রান্নার সরঞ্জাম বিতরণের মাধ্যমে লাকড়ির ব্যবহার ও এর সাথে গাছ কাটার পরিমাণ কমানো যায়। এই কার্যক্রমের মাধ্যমে এখন পর্যন্ত ৪০০,০০০ টন কার্বন-ডাই-অক্সাইড নিঃসরণ রোধ করা সম্ভব হয়েছে। নতুন বৃক্ষরোপণ, পুনঃবনায়ন ও ঢাল মজবুতকরণের মত কাজের মাধ্যমে পরিবেশ পুনরুদ্ধার ও কৃষি বিষয়ক দক্ষতা উন্নয়ন, এবং ঝিরি ও পানি নিস্কাশনের বিভিন্ন প্রাকৃতিক ব্যবস্থার উন্নতির মাধ্যমে এই যৌথ কর্মসূচী ঝুঁকিতে থাকা শরণার্থী ও স্থানীয় জনগণকে সাহায্য করবে; এবং তাদেরকে প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে সুরক্ষা দিবে।
২০২২ সালের জুলাই মাসে জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে চালু হওয়া সেফ+২ কার্যক্রমে সহায়তা দিয়ে আসছিলো কানাডা ও সুইডেন সরকার, যাদের সাথে এখন যুক্ত হয়েছে নরওয়ে। ২০১৯ সালে জাতিসংঘের অভিবাসন সংস্থা আইওএম-এর নেতৃত্বে শুরু হওয়া এই কর্মসূচীর প্রথম ধাপ সেফ+ এর সফলতা ও অভিজ্ঞতাকে পুঁজি করে এগিয়ে চলছে বর্তমান কার্যক্রম।
প্রায় ছয় বছর আগে মিয়ানমারে সহিংসতা ও নিপীড়নের কারণে ৭০০,০০০-এর বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থী হতে বাধ্য হয়েছিল। এই মানবিক সংকটটিকে এখন একটি প্রলম্বিত শরণার্থী পরিস্থিতি হিসাবে বিবেচনা করা হয়, যার তহবিল মারাত্মকভাবে কমে আসছে। প্রায় দশ লক্ষ রোহিঙ্গা শরণার্থী (কক্সবাজার এলাকার ঘনবসতিপূর্ণ শিবিরে আশ্রিত ৯৩০,০০০ ও ভাসান চরে বসবাসরত আরও ৩০,০০০) আন্তর্জাতিক সহায়তার উপর নির্ভরশীল।
