বাহারছড়া ইউপি চেয়ারম্যান খোকনের বিরুদ্ধে এক ব্যক্তিকে শারিরীক নির্যাতনের অভিযোগ

লেখক: নুরুল করিম রাসেল
প্রকাশ: ৩ years ago

নিজস্ব প্রতিবেদক :

টেকনাফের বাহারছড়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন খোকনের বিরুদ্ধে এক ব্যক্তিকে শারিরীক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে।

আদালতের রায় অমান্য করে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে নোটিশ প্রদান করায় আদালতে নালিশ করায় মো. ইসমাইল (৫৫) নামক এক বৃদ্ধকে মারধর করেন তিনি।

এব্যাপারে নির্যাতনের শিকার ব্যক্তি জেলা প্রশাসক সহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগে প্রতিকার চেয়েছেন।

লিখিত অভিযোগে তিনি জানান, গত ২৭ মার্চ চৌকিদার পাড়া স্টেশনে পঞ্চান্ন বছরের বৃদ্ধ মো. ইসমাইলকে বাজারে প্রকাশ্য লাকড়ি গাছ দিয়ে বেধড়ক মারধর করে গুরুতর জখম করে ইউপি চেয়ারম্যান ।

আহত মোহাম্মদ ইসমাইল জানান, কক্সবাজার এডিএম কোর্ট ও জজ কোর্ট থেকে আমার বসতবাড়ির জন্য মামলা করলে আদালত আমার পক্ষে রায় ঘোষণা করে। আদালতে রায় পক্ষে আসার খবর পেয়ে ক্ষিপ্ত হয়ে চেয়ারম্যান আমজাদ আমাকে ইউনিয়ন পরিষদে নোটিশ দিয়ে ডাকে।

আদালতে অবগত করলে, আদালত চেয়ারম্যান আমজাদ কে নোটিশ দেয়। চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন খোকন ক্ষীপ্ত হয়ে ২৭ মার্চ শত শত মানুষের সামনে চৌকিদার পাড়া ষ্টশনে লাকড়ি গাছ দিয়ে আমাকে মারধর করে।

এ ঘটনায় আমজাদ হোসেন খোকন (৪০), ছৈয়দুর রহমান (৫০) ইয়াছমিন

আক্তার (৩৫) সহ তিন জনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেন।

তিনি কান্নাজড়িত কণ্ঠে আরো জানান, রোজাদার বললেও ক্ষমতার দাপটে চেয়ারম্যান ও তার সহযোগীরা আমাকে আরো মারতে থাকে। এতে আমি গুরুত্বর আহত হই।
271769084 3047902188766522 7488803389004370106 n TEKNAF TODAY - সীমান্তের সর্বশেষ খবর
এই অভিযোগের ব্যাপারে চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন খোকন’র ব্যবহৃত মুঠোফোন যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বিবাদীগণ পরস্পর যোগসাজসে আমার খরিদকৃত ভোগ দখলীয় জমি এক টুকরা শেষ সম্বল জবর দখল করিতে চাইলে আমি তাদের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্টেট আদালতে এম, আর ১৫২৩/২-২১নং মামলা দায়ের করিয়া থাকি। উক্ত মামলায় বিগত ১০/০১/২২ ইং তারিখ আমার পক্ষে রায় ডিনি প্রদান করেন। উক্ত ০১ বিবাদীর হুকুমে ০২ বিবাদী ছৈয়দুর রহমান ও ০৩ নং বিবাদী উক্ত মামলার বিরুদ্ধে জেলা দায়রা জজ আদালতে ক্রিমিনাল রিভিশন ৪৬ / 2022 নং মামলা দায়ের করিলে উক্ত মামলায় ও বিগত ১০/১১/২০২২ইং তারিখ: আমার পক্ষে রায় দেওয়া হয়। এতে বিবাদীরা ক্ষিপ্ত হইয়া আবদুল কাদেরের স্ত্রীকে দিয়া আমার ভোগদখলীয় জমি জবর দখল করার কু-উদ্দেশ্যে ০১ নং বিবাদীর আম আদালতে বিচার দেয়। যাহার ইউ,পি মামলা নং- ১১৬৩/২৩, উক্ত মামলা দায়ের করার পর আমাকে নোটিশ প্রদান করে। পরবর্তীতে ০১ বিধানী আমাকে ডাকিয়া বলে যে, আগামী ২৭/০৩/২০২৩ইং তারিখ নিম্ন তফশীলের জমিতে হাজির হইয়া উক্ত জমি আবদুল কাদেরকে বুঝাইয়া দেবে। ০১ বিবাদীর উত্তরূপ কথা শুনিয়া আমি জেলা জজ আদালতে ইউ পি ট্রান্সফার মিচ ৮৪/২০১৩ইং নং মামলা দায়ের করিলে, মাননীয় জেলা জজ আদালত গ্রাম আদালতের নথি তলব করেন। উক্ত নথি তলবের নোটিশ ০১ নং বিবাদীর অফিসে জমাদান করিলে ০১ বিবাদী ক্ষিপ্ত হইয়া এক পর্যায়ে বিগত 29/03/2020 ইংরেজী তারিখ বিকাল আনুমানিক ৫.০০টার ঘটিকার সময় ১ নং বাদী তাহার সন্ত্রাসী বাহিনী ও দেশীয় তৈরী অস্ত্র-সস্ত্র নিয়ে আমাকে প্রাণে হত্যার উদ্দেশ্যে নিজস্ব গাড়ি নিয়ে আমাকে বাড়ি থেকে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করিয়া থাকে। ০১ নং বিবাদী আমি বাদী রোজাদার হওয়া সত্ত্বেও আমাকে নামাজ পড়তে না দিয়ে অকথ্য ভাষায় গালি গালাজ করিতে করিতে আমাকে টানা হেচড়া করিয়া গাড়ীতে তুলিয়া চৌকিদারপাড়া ষ্টেশনে নিয়ে গিয়ে লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করিতে করিতে আমাকে রক্তাক্ত করিয়া মাটিতে ফেলিয়া দেয়, ঐ সময় আমার স্ত্রী ও ছেলে আসিয়া আমাকে উদ্ধার করিতে চাহিলে ০১ নং বিবাদী তাদেরকে ও লাঠি দিয়ে আঘাত করিয়া রক্তাক্ত করিয়া ফেলে। পরবর্তীতে আমি আমার ছেলে ও স্ত্রী অতিকষ্টে আহত অবস্থায় কক্সবাজার সদর হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা গ্রহণ করি। আমি আমার ছেলে ও স্ত্রী চিকিৎসা করিয়া ঘরে পৌঁছিলে ০১ নং বিবাদী পুনরায় লোকজন আমার ঘরে আসিয়া বলে যে, এলাকায় থাকতে গেলে ০১ বিবাদীর কথামতো চলতে হবে এবং মানতে হবে, না হয় খুন ও গুম, হুইয়া যাইবে বা এলাকা ছাড়া করা। হইবে। এতে আমি নিজের ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যগনের জীবনের নিরাপত্তাহীনতায় ভুগিতেছি। এমতাবস্থায় আমি বাদী আর কোন উপায়ান্তর না পেয়ে নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করিয়া আপনার বরাবর অভিযোগ করিলাম।

অতএব, প্রার্থনা যে, উপরোক্ত অবস্থাদি সদয় বিবেচনা করতঃ আমার জীবনের নিরাপত্তার বিষয়ে হুজুরের সদয় দৃষ্টি ও সার্বিক সহযোগিতা কামনা করছি।